MysmsBD.ComLogin Sign Up

বিস্ময় বালক মুস্তাফিজকে নিয়ে ভয়ে প্রধানমন্ত্রী

In ক্রিকেট দুনিয়া - May 31 at 10:12pm
বিস্ময় বালক মুস্তাফিজকে নিয়ে ভয়ে প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় দলের ক্রিকেটার বিস্ময় বালক মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে ভয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বেশি বেশি ক্রিকেট খেললে তার ইনজুরি হতে পারে। মুস্তাফিজকে তার দুর্বল দিকগুলো খেয়াল রাখতে হবে। ক্রিকেটে মুস্তাফিজের অবদান অনেক বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে কোনো ঘরোয়া আসর খেলতে ভারতে গিয়েছিলেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। আর সেখানে গিয়ে বাজিমাত করেছেন বাংলাদেশের এ বিস্ময়বালক। সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়ে গতকাল রাত সারে দশটায় দেশে ফেরেন এই কাটার মাষ্টার।

ব্যাঙ্গালোর থেকে কলকাতা হয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি০৯৬ ফ্লাইটে হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখেন মুস্তাফিজ। দীর্ঘ ৫৫ দিন পর দেশে ফিরলেন কাটার মাস্টার খ্যাত বাঁ-হাতি এ ফাস্ট বোলার। মুস্তাফিজের আইপিএলের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাঁহাতি বিস্ময়কর এ পেসারের প্রশংসাও করেছেন ক্রীড়ামোদী প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় বীরের খেতাবও দিয়েছেন।

রাতেই যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপ-মন্ত্রী আরিফ খান জয় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের বিস্ময়কর এ পেসারকে ক্রীড়াক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে অর্ভ্যথনা জানিয়ে সংবর্ধনা দিয়েছেন।

বিমান বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পরপরই মুস্তাফিজ ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে বের হয়ে আসেন। কালো বুট, নেভি ব্লু জিন্স প্যান্ট আর হলুদ টি-শার্ট গায়ে সাদামাটা মুস্তাফিজের মাথায় গোলাপের মুকুট পরিয়ে দেন আরিফ খান জয়। গলায় গাজরা ফুলের মালা দেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন সুজন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পাঠানো ফুলের তোড়া তুলে দেন আরিফ খান জয়।

ভিআইপি লাউঞ্জ চামেলিতে মুস্তাফিজকে নিয়ে বসেন আরিফ খান জয় ও বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাঠানো মিষ্টি দিয়ে মুস্তাফিজকে দ্বিতীয়বারের মতো বরণ করেন আরিফ খান জয়। মুস্তাফিজও উপমন্ত্রীর মুখে মিষ্টি তুলে দেন।

এসবের পর এবার খেলার মাঠে মুস্তাফিজকে আরো সাবধানতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, `মুস্তাফিজ যদি ওভার এক্সপোজড হয়ে যান তবে তার সিক্রেসি সবাই জেনে যাবে। আর এটা হলে তার কাছ থেকে যে সার্ভিস পাচ্ছি তা হয়তো পাবো না।`

রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার একথা বলেন তিনি। একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ সব কথা জানান পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। শেখ হাসিনা বলেন, মাশরাফিকে নিয়ে আমাদের ভয় ছিল। মাশরাফির অনেক বার ইনজুরি হয়েছিল। এ জন্য মাশরাফি দীর্ঘায়িত হননি। মুস্তফা কামাল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মুস্তাফিজকে নিয়ে তিনি গর্বিত, তাকে উইসও (শুভ কামনা) করেছেন।’

কামাল এ সময় বলেন, ফাস্ট বোলাররা বেশি বেশি ইনজুরিতে পড়েন। বিশ্বের অনেক নামিদামি বোলারের ক্যারিয়ার দীর্ঘ হয়নি। এ ক্ষেত্রে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফাস্ট বোলার মাইকেল হোল্ডিং ও জুয়েল গার্নারের উদাহরণ টেনে বলেন তারাও কোনো না কোনো সময় ইনজুরিতে পড়েছেন। কামাল জানান, মুস্তাফিজ নিজগুণেই আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে। পরবর্তীতে আরো উপরে উঠে যাবে এবং নিজেরটা নিজেই বুঝবে তার করণীয় কি।

পরিকল্পনামন্ত্রী আরো বলেন, ফাস্ট বোলারদের মধ্যে একমাত্র কপিল দেব বেশি দিন খেলেছেন ইনজুরিতে পাড়েননি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেও প্রমিনেন্ট বোলার ছিল। কিন্তু ইনজুরির কারণে তিনি প্রত্যাশা অনুযায়ী এগুতে পারেননি।

বাঁহাতি এ বিস্ময়কর পেসার সম্প্রতি আইপিএলের নবম আসরের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। পুরস্কার হিসেবে তিনি পেয়েছেন ১০ লাখ রুপি। আইপিএল চলাকালেই বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এসেছিল, ‘হায়দরাবাদের চোখের মণি মুস্তাফিজুর রহমান’। দেশে ফিরে মুস্তাফিজও বললেন একই কথা।

২০ বছর বয়সী এই পেসারের ইংরেজি বলতে সমস্যা হয়। সমস্যা হিন্দি বলাতেও। ভাষাগত সমস্যার কারণে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের থাকা অবস্থায় তাকে অনেক সমস্যায়ও পড়তে হয়েছে। তবে মুস্তাফিজুরের কাছেই আবার বাংলা শিখেছে অনেক খেলোয়াড়।

ডেভিড ওয়ার্নার ও টম মুডি মুস্তাফিজের সঙ্গে কথা বলার জন্যে ব্যবহার করেছেন গুগল ট্রান্সলেটর। হায়দরাবাদের টিম বাসে মুস্তাফিজকে পানি দিয়ে ওয়ার্নার বলেছিলেন, ‘নাও, ঠান্ডা পানি।’ মুস্তাফিজের জন্যে দোভাষী নিয়োগ করেছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ কর্তৃপক্ষ।

তার সঙ্গে কথা বলার জন্যে কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড়, টিম ম্যানেজমেন্টের অনেকেই তার থেকে বাংলা ভাষা শিখতে চেয়েছেন বিভিন্ন সময়ে। মুস্তাফিজ এ নিয়ে বলেন, ‘আমি ইংলিশ খুব বেশি পারি না। ক্রিকেটের কিছু ভাষা পারি। সবাই আমার সঙ্গে কথা বলার জন্যে বাংলা শিখতে চেয়েছিল।’

আইপিএলে তার বোলিংয়ের প্রশংসা করেছেন সবাই। অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারের ট্রামকার্ড ছিলেন বাঁহাতি এ পেসার। দলের মেন্টর ভিভিএস লক্ষণ বিভিন্ন সময়ে মুস্তাফিজকে বলেছিলেন ক্রিকেটের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় তারকা। মুস্তাফিজের প্রশংসা করতে কেউই বাদ যায়নি।

মুস্তাফিজ জানালেন, দলের ভেতরে-বাইরে যার সঙ্গে কথা হয়েছে, তারাই তার বোলিংয়ের প্রশংসা করেছেন। দ্য ফিজ বলেন, ‘সবাই আমার সঙ্গে কথা বললে শুধু আমার বোলিংয়ের প্রশংসা করে।’ শুরু থেকেই হায়দরাবাদের প্রতি ম্যাচেই মুস্তাফিজ ছিলেন তুরুপের তাস। দেখিয়েছেন তার নৈপূণ্য। তবে টানা ১৫ ম্যাচ খেলার পর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে ছিলেন না মুস্তাফিজ। ইনজুরির কারণে ছিলেন মাঠের বাইরে। তবে দল জিতে উঠে এসেছিল ফাইনালে।

পুরো টুর্নামেন্টে মুস্তাফিজ বল করেছেন ৬১ ওভার। মোট রান দিয়েছেন ৪২১। ইকোনমি রেট সবচেয়ে ভালো, ৬.৯০। গোটা টুর্নামেন্টে তুখোর বোলিংয়ের কারণে একবার ম্যাচ সেরার পুরস্কারও জিতেছেন মুস্তাফিজ।

আইপিএলের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় হিসেবে মুস্তাফিজুর ৮৩.২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। বাংলাদেশের বাঁ হাতি এই বোলারের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লোকেশ রাহুলের পক্ষে ভোট পড়েছে মাত্র ৬.৫ শতাংশ।

বিমানবন্দরে উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় তার বক্তব্যে বলেন, মুস্তাফিজ আমাদের বীর, আমাদের সন্তান, বিশ্ব ক্রিকেটাঙ্গনে মুস্তাফিজ এক বিরল প্রতিভা, দেশের নব-রাজকুমার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে জাতীয় বীর হিসেবে ভূষিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মুস্তাফিজকে অর্ভথনা জানিয়েছি। আজকে আমরা আমাদের জাতীয় বীরকে রাজমুকুট পড়িয়ে দিয়ে সংবর্ধনা জানিয়েছি। আমরা আগামীতে তাকে রাষ্ট্রীয় পদক এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করিয়ে সংবর্ধিত করব।

বিরল এ প্রতিভা বাঙালি জাতিকে সবচেয়ে বেশি গর্বিত করেছে। আজ বাঙালি জাতির উৎসব হাজারো রঙে রঙিন হয়েছে। সে আজ উৎসবের মধ্যমণি। এ বীর সন্তানকে আজ সরকারের পক্ষ থেকে বরণ করে নিলাম। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ মুস্তাফিজের জন্য দোয়া করবেন।’ কাটার মাস্টারকে বিমানবন্দরে নিতে আসেন তার মামা-মামী। সেখান থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ক্যান্টমেন্টে তার খালার বাসায়। আজ তিনি নিজ জেলা সাতক্ষীরায় যাবেন।

Googleplus Pint
Rayhan Moyen
Posts 77
Post Views 909