MysmsBD.ComLogin Sign Up

এক দিনে দেখুন তিন দুর্গ! ভ্রমন টা হোক ঐতিহাসিক"

In দেখা হয় নাই - May 19 at 3:53pm
এক দিনে দেখুন তিন দুর্গ! ভ্রমন টা হোক ঐতিহাসিক"

রাজধানীর পাশে নারায়ণগঞ্জ এবং মুন্সীগঞ্জে আছে তিনটি প্রাচীন জলদুর্গ। নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর দুই পাড়ে আছে হাজীগঞ্জ এবং সোনাকান্দা দুর্গ। এর থেকে কাছের দূরত্বেই মুন্সীগঞ্জে আছে ইদ্রাকপুর দুর্গ। একদিনেই দেখে আসতে পারেন দুর্গ তিনটি।

►হাজীগঞ্জ দুর্গ :

নারায়ণগঞ্জ জেলা শহরের একপাশে কিল্লারপুলে আছে ঐতিহাসিক হাজীগঞ্জ জলদূর্গ। বাংলার বার ভূঁইয়াদের অন্যতম ঈঁসা খাঁর কেল্লা হিসেবেও এর পরিচিতি আছে।

নদীপথে মগ ও পর্তুগিজদের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য মীরজুমলার শাসনামলে এ দুর্গ নির্মিত বলে ঐতিহাসিকগণ মনে করেন।

চতুর্ভুজাকৃতির এই দুর্গের প্রাচীরে রয়েছে বন্দুক কিংবা কামান বসিয়ে গুলি চালাবার ফোকর। একটু ওপর থেকে দুর্গটি দেখতে অনেকটা ফুলের মতো।
ঢাকা থেকে বাসে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া বাস স্টেশনে নেমে সেখান থেকে রিকশা কিংবা অটো রিকশায় যেতে হবে হাজীগঞ্জ দুর্গে।

ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেইট ও হকি স্টেডিয়ামের সামনে থেকে বিআরটিসির এসি বাস, বন্ধন পরিবহন, উৎসব পরিবহনসহ আরও অনেক বাস নারায়ণগঞ্জ যায়।

►সোনাকান্দা দুর্গ :

হাজীগঞ্জ দুর্গ দেখে রিকশায় চলে যান নারায়ণগঞ্জ শহরের গুদারাঘাটে। সেখান থেকে নৌকায় শীতলক্ষ্যা নদী পেরিয়ে অটো রিকশায় চলে যেতে পারবেন বন্দর থানার সোনাকান্দায়। এখানেই অবস্থিত সোনাকান্দা জলদুর্গ।

নদীপথে ঢাকার সঙ্গে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ নদীপথগুলির নিরাপত্তার জন্য মুঘলশাসকগণ কতগুলি জলদুর্গ নির্মাণ করেছিলেন। এগুলির মধ্যে অন্যতম সোনাকান্দা দুর্গ।

এ দুর্গ দেখতে অনেকটা হাজীগঞ্জ দুর্গের মতোই। তবে আকারে কিছুটা ছোট। জনশ্রুতি আছে এ দুর্গ থেকে পাতাল পথে হাজীগঞ্জ দুর্গের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। গুদারাঘাট থেকে অটো রিকশায় সোনাকান্দা যেতে ভাড়া ১০০ থেকে ১২০ টাকা।

সোনাকান্দা দুর্গ দেখা শেষে নারায়ণগঞ্জ শহরে ফিরে, লঞ্চঘাট থেকে মুন্সীগঞ্জ যেতে পারেন নদী পথে। এ পথে গেলে শীতলক্ষ্যার সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জ থেকে অটো রিকশাতেও মুন্সীগঞ্জে যাওয়া যায়।

►ইদ্রাকপুর দুর্গ :

এ শহরের ইদ্রাকপুরে আছে আরেকটি প্রাচীন দুর্গ- ইদ্রাকপুর দুর্গ। ইতিহাস থেকে জানা যায় মুঘল সুবাদার মীর জুমলা ১৬৬০ খ্রীস্টাব্দে বর্তমান মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরে পুরানো ইছামতি নদীর পশ্চিম তীরের ইদ্রাকপুরে এই দুর্গ নির্মাণ করেন।

নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জ ও সোনাকান্দা দুর্গের চেয়ে এটি আয়তনে কিছুটা ছোট। সে সময়ে মগ ও পর্তুগীজ জল দস্যুদের আক্রমণ থেকে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ অন্যান্য এলাকা রক্ষা করার জন্য নির্মিত হয়েছিল এই দুর্গ।

সুরঙ্গ পথে ঢাকার লালবাগ দুর্গের সঙ্গে এই দুর্গের সংযোগ ছিল বলে একটি জনশ্রুতি আছে। উঁচু প্রাচীর ঘেরা এই দুর্গের চারকোনে রয়েছে একটি করে গোলাকার বেস্টনি। দুর্গের ভেতর থেকে শক্রুর প্রতি গোলা নিক্ষেপ করার জন্য চারিদিকের দেয়ালের গায়ে রয়েছে অসংখ্য ছিদ্র।

বাংলাদেশে মোগল স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন হিসেবে ইদ্রাকপুর দুর্গটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষিত হয় ১৯০৯ সালে। দুর্গ তিনটি দেখা শেষে ঢাকায় ফিরতে পারেন সড়ক কিংবা নদীপথে।

মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাট থেকে ঢাকায় ফেরার প্রচুর লঞ্চ আছে। বড় লঞ্চে ফিরতে চাইলে চাঁদপুরের লঞ্চগুলোই ভালো। এছাড়া মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকা ট্রান্সপোর্ট, কুসুম পরিবহনসহ আরও অনেক বাসও ঢাকায় ফেরে।

Edited & Approved By Mizu

Googleplus Pint
Asifkhan Asif
Posts 1372
Post Views 235