MysmsBD.ComLogin Sign Up

দিনে একবার কেন আকাশ দেখবেন?

In লাইফ স্টাইল - May 19 at 11:53am
দিনে একবার কেন আকাশ দেখবেন?

বিজ্ঞান বলছে, কোনো বস্তুর নিজস্ব কোনো রঙ নেই। মূলত সূর্যের আলোর সাত রঙের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন বস্তু তার আলাদা আলাদা রঙ ধারণ করে। তাই আমরা একেক বস্তুকে একেক রঙে দেখি। আলোর সাত রঙ মানুষের মনের উপর নানা প্রভাব ফেলে। শরীর ও মনের প্রশান্তি আনার ক্ষেত্রেও এসব রঙ ভূমিকা রাখে।

তাই বলা হয়, দিনে একবার হলেও আকাশের দিকে তাকান। নিচে আকাশের দিকে তাকানোর ইতিবাচক দিক কী তা নিয়ে আলোচনা করা হলো :

নীল : দিন বা রাতের যেকোনো সময় আকাশের দিকে দেখলে যেকোনো মানুষের মন ভালো হয়ে যায়। মাথার উপর বিস্তৃত ওই আকাশের রং নীল। আর এ কারণেই নীলকে প্রশান্তির রং হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তাই প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝে বিষন্ন মনকে প্রশান্তি দিতে দিনে একবার হলেও আকাশের দিকে তাকান। একটা বিষয় লক্ষ্যণীয়, হাসপাতাল বা ক্লিনিকে প্রতিদিন ব্যবহার্য অধিকাংশ বস্তুর রং নীল। সেবা নিতে হাসপাতালে যাওয়া রোগীদের মানসিক প্রশান্তির বিষয়টি মাথায় রেখেই নীল রংয়ের ব্যবহার করা হয়। অপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে সব মানুষের পছন্দের তালিকার শীর্ষে নীল রং থাকে, তাদের ওজন তুলনামূলক কম হয়। অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য, দায়িত্ববান এবং উচ্চ গুণ সম্পন্ন ব্যক্তি হন তারা। উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে বলা হয়, প্রিয় রং নীল মানেই প্রকৃত পুরুষ।

লাল : ভালোবাসার প্রতীক লাল। জীবশক্তির উৎস লাল রং। এই রং হচ্ছে উষ্ণ, জীবন্ত, ইতিবাচক ও উত্তাপকের প্রতীক। এটা কোষের বৃদ্ধি এবং কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাই যখনই ক্লান্ত হয়ে পড়বেন, তখনই লাল রংয়ের কিছু দেখুন। কাজের স্পৃহা বেড়ে যাবে।

হলুদ : পাকস্থলী, যকৃত এবং অন্ত্রের অবস্থান বুঝাতে হলুদ রং ব্যবহার করা হয়। মস্তিষ্ককে জাগ্রত রাখতে ও মনযোগ বাড়াতে সাহায্য করে এটি। মানসিকভাবে অনুপ্রেরণা জোগায় এই রং। উচ্চ মানসিকতা উদ্দীপকের প্রতীক হলুদ। তাই ব্যস্ত সময় মস্তিষ্কে কার্যক্রম সচল রাখতে এবং অসময়ে ঘুমের প্রবণতা দেখা দিলেই যেকোনো হলুদ বস্তুর দিকে নজর দিন।

কমলা : সূর্যের প্রকৃত রং কমলা। একে উষ্ণ ও উৎসাহদায়ক রং হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আবার লাল ও হলুদ রংয়ের সমন্বয়ে কমলা রং তৈরি হয় বলে এতে ওই দুই রংয়ের কিছুটা প্রভাব রয়েছে। ফলে জ্ঞান এবং শারীরিক শক্তির সমন্বয়ে ভূমিকা রাখে কমলা রং।

সবুজ : বিশ্বের অধিকাংশ গাছ, ঘাস, লতা-পাতার রং সবুজ। তাই একে প্রকৃতির রং বলা হয়। মস্তিষ্কের প্রশান্তির জন্য সবুজ রংয়ের বিকল্প নেই। সেইসঙ্গে স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে এই রং। পেশী ও স্নায়ুচাপ কমানোর পাশাপাশি সব ধরনের চিন্তা থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে সবুজ। তাই কাজের ফাঁকে সুযোগ পেলেই সবুজের দিকে দেখুন। সম্ভব হলে সবুজ রংয়ের বস্তু দিয়ে সাজান অফিসের ডেস্ক। সম্প্রীতি, প্রকৃতি, নিরপেক্ষতা ও অপ্রতিরোধের ভারসাম্য রাখার জন্য এই রংয়ের ব্যবহার করা হয়।

গোলাপী: মানুষের চিন্তায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে গোলাপী রং। বিরক্তি ও রাগ কমাতে এই রংয়ের ভূমিকা অনন্য। তাই যেকোনো কারণে রেগে গেলে গোলাপী রংয়ের কিছু দেখুন। নতুবা রাগ ভয়ংকর পর্যায়ে উন্নীত হলে বড় অসুখ হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে গোলাপী রংয়ের পোশাক মানুষকে বাহ্যিকভাবে আকর্ষণীয় করে। সেইসঙ্গে দায়িত্বশীলতার প্রতীক হিসেবেও ব্যবহৃত হয় গোলাপী রং।

সাদা : শুদ্ধতা ও বিশ্বাসের প্রতীক সাদা। যেকোনো বিষয়ে ইতিবাচক চিন্তা করতে ভূমিকা রাখে এই রং। তাই সব ধরনের নেতিবাচক চিন্তা থেকে দূরে থাকতে ঘরে সাদা রংয়ের বস্তু বাড়িয়ে দিন। বিশ্বস্ততার প্রতীক হিসেবেই চিকিৎসক ও নার্সরা সাদা রংয়ের অ্যাপ্রোন ব্যবহার করেন।

Googleplus Pint
Mizu Ahmed
Posts 3828
Post Views 372