MysmsBD.ComLogin Sign Up

বজ্রপাতের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা!

In বিজ্ঞান জগৎ - May 13 at 8:59pm
বজ্রপাতের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা!

কীভাবে মেঘের মধ্যে এমন তীব্র আলোর ঝলকানি আর কান ফাটানো বুক কাঁপানো শব্দের সৃষ্টি হয়? এ প্রশ্ন হয়তো আমাদের সবারই!

বিজ্ঞানী বেন ফ্রাঙ্কলিন প্রথম এর রহস্য উন্মোচন করেন। রীতিমতো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি প্রমাণ করেন এটা একটা বৈদ্যুতিক ঘটনা। এইটা প্রমাণ করার জন্য তিনি বজ্রপাতের সময় ঘুড়ি উড়িয়েছিলেন।

যদিও এসময়টাতে এমন কাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত তিনি অক্ষত থেকেই প্রমাণ করেছিলেন বজ্রপাত এক ধরনের বৈদ্যুতিক প্রবাহ।


কীভাবে ঘটে
ভূপৃষ্ঠ থেকে যতো উপরে যাওয়া যাবে তাপমাত্রা ততো কমতে থাকে। এই তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণেই কিন্তু জলীয়বাষ্প জমে বৃষ্টি আকারে ভূপৃষ্ঠে ঝড়ে। এই কারণেই যেখানে মেঘ জমে সেখানে দুইটি স্তর তৈরি হয়: নিচের স্তরে থাকে পানির ফোঁটা সমৃদ্ধ অপেক্ষাকৃত গরম বাতাস আর উপরের স্তরে থাকে বরফের টুকরা সমৃদ্ধ ঠাণ্ডা বাতা।

এই দুই স্তর যখন কাছাকাছি আসে, গরম বাতাস উপরের দিকে উঠে যায় তখনই এটি ‘বজ্রমেঘ’ তৈরি করে। ঝড় বা প্রবল বায়ু প্রবাহের সময় পানির ফোঁটা আর বরফের টুকরাগুলোর সংঘর্ষ হয় এবং বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।

এই ঘর্ষণের সময় মেঘের মধ্যে স্থির বৈদ্যুতিক আধানের সৃষ্টি হয়। যেমন: দুটি বেলুনের মধ্যে, অথবা মাথার চুল আর প্লাস্টিকের চিরুনির মধ্যে সংঘর্ষে স্থির বিদ্যুতের সৃষ্টি হয় ঘটনাটি অনেকটা সেরকমই।

এই স্থির বৈদ্যুতিক চার্জের মধ্যে আবার পজিটিভ (ধনাত্বক) ও নেগেটিভ (ঋণাত্বক) প্রান্ত থাকে, যেমন একটি ব্যাটারিতে থাকে তেমন। ধনাত্বক আধান বিশিষ্ট মেঘ থাকে উপরে আর ঋণাত্বক আধান বিশিষ্ট মেঘ থাকে নিচের দিকে।

নিচের এই ঋণাত্বক আধান (চার্জ) যখন যথেষ্ট শক্তিশালী হয় অর্থাৎ বিভব পার্থক্য অত্যন্ত বেড়ে যায় তখনই এই মেঘ শক্তি ক্ষরণ করে।

এই দানবীয় শক্তি প্রবাহিত হয় বাতাসের ভেতর দিয়ে। আধান প্রবাহ (শক্তি) সেদিকেই যায় যেদিকে থাকে এর ঠিক বিপরীত আধান অর্থাৎ ধনাত্বক আধান।

পৃথিবীর উপরি অংশ যেহেতু ধনাত্বক আধান সমৃদ্ধ সেকারণে এই আধান প্রবাহ ভূপৃষ্ঠেও চলে আসে। তখনই হয় বজ্রপাত।

ভূপৃষ্ঠের ধনাত্বক আধানের সংস্পর্শে এসে এই তীব্র ঋণাত্বক আধান প্রবাহ আধান নিরপেক্ষ হয়ে যায়।

বিদ্যুৎ চমকানো বলতে যেটা বুঝি সেটা হলো বজ্রপাতের আগমুহূর্তের আলোর ঝলকানি। এটা ওই ঋণাত্বক বিদ্যুৎ আধান প্রবাহের ফলেই সৃষ্টি হয়।

এটি মেঘ থেকে পৃথিবীতে আসতে পারে আবার অন্য মেঘেও যেতে পারে। তবে এই আলোর ঝলকানি আঁকাবাঁকা কেন হয় তা বিজ্ঞানীদের কাছে এখনো পরিষ্কার নয়।

ঋণাত্বক আধানের প্রবাহ যখন ধনাত্বক আধানের কোনো আধার খুঁজে পায় তখনই এই আলোর ঝলকানি দেখা যায়। এটা অনেকটা বৈদ্যুতিক স্পার্কের মতো।

এই স্পার্ক বাতাসের তাপামাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে বাতাস দ্রুত প্রসারিত হয়। এই দ্রুত প্রসারণই তীব্র শব্দ বা নিনাদের জন্ম দেয়। তখনই আমরা বাজ পড়ার শব্দ পাই।

বজ্রপাত যেখানে হয় সেখানে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে যায়। এর কারণ হলো ওই বাতাসের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া। এই সময় বাতাসের তাপমাত্রা নিমেষের মধ্যে ২০ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়!

আরেকটি বিষয় লক্ষ্যনীয়, বজ্রপাতের আলোর ঝলকানি দেখার কিছু সময় পর আমরা শব্দ পাই। এর কারণ হলো আলোর গতি যেখানে সেকেন্ডে ৩০ কোটি মিটার সেখানে শব্দের গতি মাত্র সেকেন্ডে ৩০০ মিটার।

ফলে শব্দ শুনে বজ্রপাতের স্থান নির্ধারণ করতে চাইলে এই গতির পার্থক্যটা হিসাব করতে হয়। আলোর ঝলকানি এবং শব্দ শোনার মধ্যে প্রতি ৪ সেকেন্ড পার্থক্যের কারণে বজ্রপাতের স্থান হয় শ্রোতার কাছ থেকে এক মাইল দূরে।

Googleplus Pint
Noyon Khan
Posts 3254
Post Views 542