MysmsBD.ComLogin Sign Up

কুমিল্লায় বন্ধু হত্যা মামলায় ৩ বন্ধুর ফাঁসি

In দেশের খবর - May 12 at 5:35pm
কুমিল্লায় বন্ধু হত্যা মামলায় ৩ বন্ধুর ফাঁসি

কুমিল্লার চান্দিনায় আলোচিত সুজন হত্যা মামলায় ৩ বন্ধুকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে বিজ্ঞ আদালত। গতকাল দুপুর কুমিল্লা অতিরিক্ত দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক নুরুন নাহার বেগম শিউলী এ আদেশ দেন। ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন জেলার চান্দিনার সাইকোট গ্রামের মৃত মোস্তফার ছেলে আবুল কালাম (২৪), শাহজাহানের ছেলে সবুজ (২৪) ও আজমপাড়ার আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. তৌফিক (২০)। এ সময় আদালত ২৫ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। যার দায়রা মামলা নং- ৩১৭/১৩ইং।

মামলার বিবরণে জানা যায়- ২০১২ সনের ১৬ সেপ্টেম্বর রবিবার সন্ধ্যায় নিহত সুজন আহম্মেদ মোটর সাইকেল ক্রয় করার জন্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ী হতে বের হয় এবং মধ্যরাতে নিহত সুজন তার মাকে ফোন করে বলেন, “মা তুমি খাওয়া-দাওয়া করে ঘুমাইয়া পড়। আমি আজামপাড়া ওরশ মাহফিলে আছি। মাহফিল শেষ হলে খাওয়া-দাওয়া করে বাড়ীতে আসব”। তাঁর পরদিন সুজন বাড়ীতে না আসায় অনেক খুঁজাখোজি করেন নিহত সুজনের মা। নিখোঁজের পর ৬ দিন পর ২১ সেপ্টেম্বর বিকেল নিহত সুজনের মা পরষ্পর জানতে পারেন যে, চান্দিনা মহিলা কলেজের দক্ষিণ পাশে বাউন্ডারী করা খালী ভিটিতে একজন পুরুষের পঁচা গলা লাশ পাওয়া গিয়াছে। তাহার পরিহিত প্যান্ট, হাফহাতা গেঞ্জি ও বেল্ট দেখিয়া নিহত সুজনের মা লাশ সনাক্ত করেন।

সংবাদ পাইয়া পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহত সুজনের পঁচা গলিত লাশ উদ্ধার করে সুরত হাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করিয়া ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করেন চান্দিনা থানা পুলিশ। এ ঘটনায় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কালা ডুমুর গ্রামের নজরুল ইসলামের স্ত্রী নিহত সুজনের মাতা জাহানারা বেগম বাদী হয়ে চান্দিনার ছায়কোট গ্রামের মৃত মোস্তফা’র ছেলে আবুল কালাম, আজামপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে তৌফিক ও ছায়কোট গ্রামের শাহ জাহানের ছেলে সবুজকে আসামি করে চান্দিনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার চান্দিনা থানার মামলা নং- ১৩। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী চান্দিনা থানার এস. আই হেলালউদ্দিন আহম্মেদ ঘটনা তদন্তপূর্বক আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৩ সনের ৩০ জানুয়ারি দঃ বিঃ ৩৯৪/৩০২/২০১/৪১১ ধারার বিধান মতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। যার নং-২১। মামলাটি বিচারে আসিলে রাষ্ট্র পক্ষে ১১জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক শুনানী অন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দঃ বিঃ ৩০২/৩৪ ধারার বিধান মতে আসামি আবুল কালাম প্রকাশ্যে আবু, মোঃ তৌফিক ও মোঃ সবুজকে মৃত্যুদ-াদেশ এবং ২০ হাজার টাকা জারিমানা করেন বিজ্ঞ আদালত। এ ছাড়াও দ- বিধির ২০১ ধারায় ৭ বছরের কারাদ- ও ৫ হাজার টাকা অর্থদ- এবং অনাদায়ে আরো ১ বছরের সশ্রম কারাদ- এবং দ- বিধি’র ৪১১ ধারায় ২ বছরের কারাদ- প্রদান করেন আদালত। উল্লেখ্য যে, নিহত সুজন তাঁর মাকে নিয়ে চান্দিনার মহারংয়ে নানার বাড়ীতে বসবাস করিত।

রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পি. পি অ্যাড. আবু তাহের এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, জেলা পি. পি অ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান লিটনের সার্বিক দিক নিদের্শনায় ও পরামর্শ ক্রমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ মামলার কাংখিত রায় হয়েছে। এ মামলার যুগান্তকারী রায়ের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এ রায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আমি মনে করি।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পি. পি অ্যাড. মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান (লিটন) এর পরামর্শ ক্রমে অতিরিক্ত দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের অতিরিক্ত পি. পি অ্যাড. আবু তাহের বলেন- নিহত সুজন, আসামি আবুল কালাম প্রঃ আবু, তৌফিক ও সবুজ ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। ২০১২ সনের ১৬ সেপ্টেম্বর সুজন মোটর সাইকেল কেনার জন্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ী হতে বের হয়। ওই টাকা নিয়ে বাড়ী হতে বের হওয়ার বিষয়টি তাঁর ৩ বন্ধুকে অবহিত করেন সুজন।

এ বিষয়টি জানার পর সুজনের বন্ধুরা ফোন করে সুজনকে বলেন এ টাকা দিয়ে মোটর সাইকেল কেনা যাবে না আরো কিছু টাকা লাগবে এ কথা বলে সুজনকে আজামপাড়া ফকির বাড়ীতে নিয়ে যায়। তাঁরপর ওই টাকা ও ২টি মোবাইল ফোন আত্মসাৎ করার জন্য সুজনকে নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করাইয়া নেশা গ্রস্থ করে চান্দিনা মহিলা কলেজের পাশে জৈনিক বশির আহম্মেদ এর খালি ভিটিতে নির্জন স্থানে নিয়ে প্রথমে তৌফিক ইট দিয়ে আঘাত করে। পরবর্তীতে আবুল কালাম ছুরি দিয়ে জবাই করে সুজনকে হত্যা করে। নিখোঁজের ৬ দিনপর নিহত সুজনের পরিহিত প্যান্ট, হাফ হাতা গেঞ্জি ও বেল্ট দেখিয়া নিহত সুজনের মা লাশ সনাক্ত করেন। সংবাদ পাইয়া পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহত সুজনের পঁচা গলিত লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করেন।

Googleplus Pint
Md Sobuj Ahmed
Posts 217
Post Views 158