MysmsBD.ComLogin Sign Up

বায়তুল মোকাররমে নিজামীর জানাজায় মানুষের ঢল

In দেশের খবর - May 12 at 7:40am
বায়তুল মোকাররমে নিজামীর জানাজায় মানুষের ঢল

রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বাদ যোহর এই গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাযার নামাজে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের হাজার হাজার নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন। মসজিদের দোতলা তিন তলা পূর্ণ হয়ে অনেকেই সিড়িতে নামাজ পড়তে দেখা যায়।

এসময় বাইতুল মোকাররমের উত্তর গেট ও আশপাশের এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্যের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। তবে এসময় কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

শান্তিপূর্ণভাবে জানাজা শেষে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের উচ্চস্বরে কালিমা পড়তে পড়তে মসজিদের বিভিন্ন তলা থেকে বের হয়ে আসেন। অনেক নেতা-কর্মীকেই কান্না করতে দেখা যায়। অনেকেই এ সময় বিজয়সূচক ভী চিহ্ন দেখান। এসময় দু’একজন নেতাকর্মী স্লোগান দেয়ার চেষ্টা করলে অন্যরা থামিয়ে দেন।

অনেকেই উচ্চস্বরে বলতে থাকেন আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ন্যায় বিচার আল্লাহ একদিন অবশ্যই করবেন। জানাযা শেষে র‌্যাব, পুলিশ ও ডিবির সদস্যরা টহল দিতে থাকে এবং অনেককে তল্লাশি করেন। মসজিদের আশপাশের এলাকায়ও টহল দেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে জামায়াতের আমিরের জানাযায় জামায়াত-শিবিরের ঢাকা মহানগরী ও কেন্দ্রের কয়েকজন শীর্ষ নেতা অংশগ্রহণ করেছেন। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কারো নাম জানা যায়নি।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে রাতে মৃত্যুদণ্ড রায় কার্যকর করা হয়। এর পর থেকে দেশে বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় তাঁর সমর্থক এবং শুভাকাঙ্খিরা গায়েবানা জানাযাহ আদায় করছে। এর আগে তিনি রাষ্ট্রপ্রতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না।’

অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর আজ (বুধবার) সকাল ৭টা ২০ মিনিটে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার মনমথপুর গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে সকাল ৭টা ১২ মিনিটের দিকে তার নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়।

জানাজায় ইমামতি করেন মাওলানা নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজীব মোমেন। তিনি জানাজা-পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা করেন। জানাজায় নিজামীর আত্মীয়-স্বজন, এলাকাবাসী ছাড়াও জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মঙ্গলবার দিনগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ১২টা ১৯ মিনিটে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তার মরদেহ নিয়ে দু’টি অ্যাম্বুলেন্স ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছয়টি গাড়ি সকাল পৌনে ৭টার দিকে বাড়ি পৌঁছায়। সেখানে লাশ গ্রহণ করেন সাঁথিয়া থানা নির্বাহী কর্মকর্তা। এরপর তিনি লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে লাশ গ্রহণ করেন নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন।

এদিকে, নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের এর পরেই সাঁথিয়ায় আনন্দ মিছিল বের করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা নিজামীকে সাঁথিয়ায় কবর না দেয়ার দাবি জানান। নিজামীর লাশ দাফন ঠেকাতে গ্রামের প্রবেশপথ দৌলতপুরে ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীরা অবস্থান নিলেও প্রশাসন তাদের সরিয়ে দেয়। মরদেহ বাড়ি পর্যন্ত নেয়া নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা থেকে সাঁথিয়া পর্যন্ত মহাসড়কের প্রতি আধা কিলোমিটার পর পর সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল।
-
source :সময়ের কণ্ঠস্বর-

Googleplus Pint
Asifkhan Asif
Posts 1372
Post Views 473