MysmsBD.ComLogin Sign Up

Search Unlimited Music, Videos And Download Free @ Tube Downloader

রসুনের বাজারে কারসাজি!

In অর্থনীতি খবর - May 10 at 10:16am
রসুনের বাজারে কারসাজি!

চীন থেকে রসুন আমদানিতে এক মাসে খরচ বেড়েছে কেজিতে ১৮ টাকা। অথচ দেশের বাজারে দাম কেজিপ্রতি ৮০ টাকা বাড়িয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা।

কয়েক মাস ধরে ঢাকার বিভিন্ন বাজারে চীনা রসুন ১৮০ টাকার কাছাকাছি দরে বিক্রি হচ্ছিল। চলতি সপ্তাহে হঠাৎ বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। গত শনিবার এক দিনে চীনা রসুনের দাম কেজিতে ৭০ টাকা বেড়ে যায়।
রসুনের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ীদের ডেকে গত রোববার বৈঠকের নির্দেশ দেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। গতকাল সোমবার বিকেলে ট্যারিফ কমিশনের সম্মেলনকক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। অবশ্য তার আগেই ঢাকার কারওয়ান বাজার ও শ্যামবাজারের আড়তে রসুনের দাম কেজিতে প্রায় ৩০ টাকা কমেছে।

ঢাকার কারওয়ান বাজারের খুচরা দোকানে গতকাল সোমবার মানভেদে প্রতি কেজি চীনা রসুন বিক্রি হয়েছে ২২০ থেকে ২৪০ টাকা দরে, যা ২৫০ থেকে ২৭০ টাকায় উঠেছিল। পাইকারিতে রসুনের কেজি ২১০-২২০ টাকায় নেমেছে। শ্যামবাজারের আড়তে চীনা রসুন ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, যা ২২০ টাকায় উঠেছিল বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, মার্চ মাসে দেশে প্রতি কেজি রসুন আমদানি হয়েছিল গড়ে ১১৬ টাকা দরে। এপ্রিল মাসে আমদানি হয়েছে ১৩৪ টাকা দরে। এ হিসাবে এক মাসে রসুন আমদানিতে বাড়তি খরচ হয়েছে কেজিতে ১৮ টাকা। ট্যারিফ কমিশনে অনুষ্ঠিত বৈঠকের কার্যপত্রে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে স্থানীয় বাজারে চীনা রসুনের দাম কেজিপ্রতি ৮০ টাকা বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, গত জানুয়ারিতে প্রতি কেজি রসুন গড়ে ৯৯ টাকা ও ফেব্রুয়ারিতে ১০২ টাকা দরে আমদানি হয়েছে। সব মিলিয়ে গত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে প্রতি কেজি রসুন আমদানি হয়েছে গড়ে ১১১ টাকা দরে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের একজন আড়তদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, চীনা রসুনের জোগানে ঘাটতি আছে। যখন কোনো পণ্যের ঘাটতি তৈরি হয়, তখন সবাই সেই পণ্য কিনে মজুত করার চেষ্টা করেন। এতে দাম বেড়ে যায়। রসুনে একই রকম কারসাজি হয়েছিল। কিন্তু রোববার ও গতকাল সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমেছে।

ট্যারিফ কমিশনের দ্রব্যমূল্য মনিটরিং সেলের হিসাবে দেশে বছরে ৫ লাখ টন রসুনের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে প্রায় ৪ লাখ টন দেশে উৎপাদিত হয়। বাকিটা আমদানি হয় মূলত চীন থেকে। চীনা বড় আকারের রসুনের খোসা ছাড়ানো সহজ হওয়ায় এটি জনপ্রিয় হচ্ছে।

ট্যারিফ কমিশনে অনুষ্ঠিত বৈঠকের কার্যপত্রে বলা হয়, ৬ মে চীনে রসুনের দাম ছিল টনপ্রতি ১ হাজার ৮৫০ ডলার, যা এক মাস আগের তুলনায় ৬০ ডলার বা ৫ শতাংশ বেশি। টনপ্রতি ১ হাজার ৮৫০ ডলার দরে ধরে এর সঙ্গে ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও অন্যান্য খরচসহ টনপ্রতি ২০০০ ডলার আমদানি মূল্য ধরলেও দেখা যায়, প্রতি কেজি রসুনের দাম দাঁড়ায় ১৬০ টাকা।

ট্যারিফ কমিশনে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে রসুনের দাম বাড়ার কারণ অনুসন্ধানের জন্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক মো. হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও রসুনের দর কোনোভাবেই কেজিপ্রতি ২২০ টাকা হওয়ার কারণ নেই। বেশির ভাগ রসুন আমদানি করেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। সেখানে কী সমস্যা হলো, তা খোঁজ নিতে এফবিসিসিআই ও ট্যারিফ কমিশন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে চিঠি লিখবে।’

ওই বৈঠকে ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মুশফেকা ইকফাৎ, রসুনের আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ী মো. মাজেদ, খন্দকার বাবুল এবং এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Googleplus Pint
Md Sobuj Ahmed
Posts 217
Post Views 169