MysmsBD.ComLogin Sign Up

আজ ধোনি-কোহলি দুজনই জিততে চান, কিভাবে?

In ক্রিকেট দুনিয়া - May 07 at 2:29pm
আজ ধোনি-কোহলি দুজনই জিততে চান, কিভাবে?

আইপিএলের এল ক্লাসিকো ধরা হচ্ছিল আজকের এই ম্যাচকে। কারণ কোহলি-ধোনি দু’জনের জন্যই এটা বাঁচা-মরার ম্যাচ। মাঠে অবশ্য দেখলে কেউই বুঝবেনা দুজনই খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে।

পয়েন্ট টেবিলে শুক্রবার রাত পর্যন্ত শেষের তিনটি দলের মধ্যে একটি বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। অন্যটি মহেন্দ্র সিং ধোনির রাইজিং পুণে সুপারজায়ান্টস। কোহলির দলের সংগ্রহ সাত ম্যাচে চার পয়েন্ট। অর্থাৎ, দু’টি জয় আর পাঁচটি হার। ধোনির পুণে ন’টি ম্যাচে তুলেছে ছয় পয়েন্ট। তিনটি জয়, ছ’টি হার।

একজন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। এখনও দেশের সীমিত ওভারের ক্রিকেট দলের অধিনায়ক। অন্যজন তার উত্তরসূরি এবং বর্তমান টেস্ট দলের অধিনায়ক। ‘ব্যাট্ল অফ ক্যাপ্টেন্স’ আখ্যা দিয়ে এই দ্বৈরথকেই বলা হচ্ছিল, আইপিলের সেরা যুদ্ধ।

কে জানত, টুর্নামেন্টের মাঝপথে সেরা দ্বৈরথই হয়ে দাঁড়াবে দুই অধিনায়কের পায়ের তলায় জমি খুঁজে পাওয়ার লড়াই! কে জানত, ভারতীয় ক্রিকেটের দুই পরাক্রমশালী শাসক ঢুকে পড়বেন আইপিএলের আইসিসিইউ-তে!

আইপিএলে এখনো অনেক সাপ-লুডো খেলা বাকি আছে হয়তো। গতবার এগারো ম্যাচ পর্যন্ত লিগ টেবিলের শীর্ষে থেকেও গৌতম গম্ভীরের কেকেআর প্লে-অফ থেকে ছিটকে যায় মাত্র দু’টি ম্যাচ হেরে। তাই কে কখন মই ধরে তরতর করে উঠে পড়ে, কে সাপের পেটে যায়, বলা কঠিন।

বরং ইতিহাস যাচাই করে বিশ্লেষণ বলছে, টুর্নামেন্টের সবচেয়ে নাটকীয় এবং ফয়সালা করে দেওয়া রাউন্ড এই সবে শুরু হল।

জনপ্রিয় পূর্বাভাস যেমন, সুরেশ রায়নার গুজরাত লায়ন্স দারুণ শুরু করেও গতি হারাতে শুরু করেছে। রায়নার দল এখনও পয়েন্ট টেবিলে দু’নম্বরে আছে কিন্তু ম্যাকালামদের ব্যাটিং ফর্মে আকস্মিক পতন আটকাতে না পারলে তারা প্লে-অফের চড়াই-উতরাইয়ে হড়কে যেতে পারে।

টেবিলের ওপরের দিকে চারটি দলের মধ্যে তিনটিকে খুব জমাট লাগছে। কলকাতা নাইট রাইডার্স, দিল্লি ডেয়ারডেভিল্স এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। যদি ধরেও নেওয়া যায়, এই তিনটি দল প্লে-অফে যাবে, চতুর্থ দল হওয়ার লড়াই এখনও ‘ওপেন’।

নির্মম সত্যি হচ্ছে, ধোনি এবং কোহলিকে দেখতে হচ্ছে, ক্রিকেট জগতে দুই সেরা বিত্তবান হয়েও তাদের গরিবের কাঠকুটো জড়ো করার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে।

কোনওক্রমে কোয়ালিফাই করলেই চলবে। আজকের ম্যাচ— যা কি না গোটা ক্রিকেটবিশ্বের কাছে বিশেষ আগ্রহের হয়ে ওঠার কথা ছিল দুই ভারতীয় অধিনায়কের লড়াই হিসাবে, সেটাই হয়ে দাঁড়িয়েছে দু’জনের মরণ-বাঁচন ম্যাচ।

এমনিতে আইপিএলে ধোনি বনাম কোহলি নতুন নয়। আগেও হয়েছে। এ বছরও হয়েছে পুণের মাঠে। সেই দ্বৈরথে বিরাটই জিতেছিলেন। কিন্তু এরকম তুল্যমূল্য টেনশনের আবহে এমন ম্যাচ হয়নি। যেখানে টস করতে গিয়ে দুই অধিনায়ক মনে মনে বলবেন, হয় তুমি থাকবে নয় আমি।

আজ আর বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধার পর্বটা থাক।
আইপিএলে মহাতারকাদের মধ্যে দ্বৈরথ সব সময় বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে তাদের মধ্যে সম্পর্কের উত্থান-পতনের জন্য। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বনাম রাহুল দ্রাবিড়।

শুরুতে বন্ধু ছিলেন। গ্রেগ চ্যাপেল জমানা থেকে ব্যবধানের শুরু। আইপিএলে সৌরভ বনাম রাহুল মানে তাই চলো, পুরনো হিসাব-নিকাশ মেটানোর লড়াই। অথবা সৌরভ বনাম ধোনি।

পরেরজন অধিনায়ক থাকার সময় ওয়ান ডে থেকে বাদ পড়েন বেহালার বাঁহাতি। আইপিএল এল মানে সৌরভের বাঙালি ক্রিকেটভক্তদের কাছে বাড়তি আবেগ যে, ধোনি এবার দেখা যাবে কে বড় অধিনায়ক।

ধোনি বনাম কোহলি লড়াইয়ে অবশ্য সম্পর্কের সেই টানাপড়েন নেই। বরং, ভারতীয় ক্রিকেটের অধিনায়ক এবং সহ-অধিনায়কের চিরকালীন তিক্ততার ইতিহাসকেই পাল্টে দিয়ে গিয়েছে এই দু’জনের সম্পর্ক।

শুধু অগ্রজের অনুজকে সমর্থনের ইতিহাসই নয়। ক্যাপ্টেন কোহলি যথেষ্ট প্রভাবিত ক্যাপ্টেন ধোনির দ্বারা। এর মাঝেও একদিন তিনি বলছিলেন, চাপের মুখে ধোনির মস্তিষ্ক ঠান্ডা রাখাটা অধিনায়কের সম্পদ।

স্নায়ুর ওপর এমন নিয়ন্ত্রণ তিনি দেখেননি। যেটা কোহলি কেকেআর অধিনায়ক গৌতম গম্ভীরকে নিয়ে বলবেন, দূরতম কল্পনাতেও ভাবা যাবে না। তা সে যতই তারা দু’জনে একসঙ্গে দিল্লির ড্রেসিংরুমে বেড়ে উঠুন। একটা কথা বলে রাখাই যায়।

শনিবার যিনিই জিতুন, চেয়ারে লাথি মারার মতো উত্তেজিত দৃশ্য মোটেও দেখা যাবে না। আরও দেখা যাবে না তার কারণ, অধিনায়ক কোহলি এখন পাল্টে যাওয়া কোহলি। স্লো-ওভার রেটের জন্য জরিমানা খেতে পারেন।

অভব্য আচরণের জন্য ম্যাচ রেফারির নোটিশ আসছে না। বছরখানেক আগেও কি কেউ ভাবতে পারত, কোহলির টিম আইপিএলে ফেয়ার প্লে পুরস্কার দৌড়ে এক নম্বরে!

এটাও ভারতের টেস্ট অধিনায়ক হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে নেওয়া শপথ। জিতব কিন্তু সৌজন্য না হারিয়ে জিতব।

না হলে কেকেআর ম্যাচ হারার পর গম্ভীর যখন ডাগ-আউটে চেয়ার লাথি মেরে ফেলে দিচ্ছেন, তখন মাঠে কোহলি এসে খুব আবেগতাড়িতভাবে ইউসুফ পাঠানের পিঠ চাপড়ে দিচ্ছিলেন। দেখে মনে হবে, সোনার কাঠি, রুপোর কাঠি করে কেউ তার পৃথিবীটাই যেন পাল্টে দিয়েছে! কে সে? এম এস নয়তো?

আজ ধোনি জিততে চান। কোহলিও জিততে চান। তবে তিক্ততা তৈরি করে নয়, সৌজন্য হারিয়ে নয়। কিন্তু বেঙ্গালুরুতে দাঁড়িয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, আবহাওয়া সেই সুযোগ দেবে তো? শনিবার ম্যাচ বিকেল চারটেয়।

বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। শুক্রবারও কোহলিদের প্র্যাক্টিস এক ঘণ্টা হয়ে বন্ধ হয়ে গেল তুমুল বর্ষণের জন্য। দেড় ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে মাঠ ভাসছে, রাস্তায় পর্যন্ত জল জমে গিয়েছে। যদিও তারপর আর বৃষ্টি ফিরে আসেনি, ম্যাচের দিন দুপুরে একইরকম হলে তো ব্লকবাস্টার দ্বৈরথ হওয়া নিয়েই সংশয় থাকবে।

Googleplus Pint
Noyon Khan
Posts 3254
Post Views 664