MysmsBD.ComLogin Sign Up

ছোট্ট ছুটিতে দেখে আসুন বান্দরবানের 'স্বর্ণমন্দির'

In দেখা হয় নাই - Apr 25 at 1:02am
ছোট্ট ছুটিতে দেখে আসুন বান্দরবানের 'স্বর্ণমন্দির'

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমারোহ দেখতে সবুজ পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে বেয়ে ঘুরে আসুন বান্দরবান। পাহাড়ি কন্যা বান্দরবানের বিভিন্ন জায়গায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভ্রমণ করা যায়।

নাম স্বর্ণমন্দির হলেও এটি সোনা দিয়ে বানানো নয়। এখানে সোনার তৈরি কোনো দেবদেবীও নেই। বান্দরবানের মহাসুখ মন্দির নামের 'বৌদ্ধ ধাতু জাদি' তার সোনালি রঙের জন্য 'স্বর্ণমন্দির' নামে খ্যাত। এই মন্দিরে শর্ট প্যান্ট পরে ঢোকা নিষেধ এবং জুতা খুলে ঢুকতে হয়।

মহাসুখ মন্দির বান্দরবান জেলা শহর থেকে ৩ কিমি. পশ্চিমে বালাঘাটা এলাকার এক পাহাড়চূঁড়ায় অবস্থিত। মায়ানমার থেকে শিল্পী এনে এটি তৈরি করা হয়। ২০০৪ সালে এর কাজ সম্পূর্ণ হয়। মন্দিরের বাইরের অংশে ভিন্ন ভিন্ন প্রকোষ্টে তিব্বত, চীন, নেপাল, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ভুটান, মায়ানমার, কোরিয়া, জাপান ইত্যাদি দেশের শৈলীতে সৃষ্ট ১২টি দণ্ডায়মান বুদ্ধের আবক্ষ মূর্তি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

আর মন্দিরের অভ্যন্তরে কাসোনালী রঙের সুন্দর কারুকাজে তৈরি এই মন্দির দর্শনেই মন পবিত্র হয়ে যায়। কাঠের ওপর অসাধারণ সুন্দর রিলিফ ভাস্কর্য মায়ানমারের কাঠের শিল্পকর্মের ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। মন্দির থেকে দেখা যায় পূর্বদিকে বান্দরবান শহর ও চারপাশে শুধু পাহাড় আর পাহাড়।

মন্দিরটি একটি মাঝারি উচ্চতার পাহাড়ের উপরে তৈরি করা হয়েছে বলে কিছুটা চড়াই পথ বেয়ে উঠতে হয়। এর পরেই আছে অনেকগুলি সিঁড়ি। সিঁড়ি শেষেই শুরু হয়েছে মন্দিরের সীমানা। ১০ টাকা টিকেট কেটে প্রথমেই আপনার হাতের বাম দিকে পরবে এই মিউজিয়ামের মতো অংশটি।

মন্দিরটি পাহারের চূড়ায় হওয়ায় এর উপর থেকে চারদিকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। সোনালী রংয়ের অপূর্ব নির্মাণ শৈলী ও আধুনিক ধর্মীয় স্থাপত্য নকশার নিদর্শনস্বরূপ। পর্যটকরা বান্দরবন ঘুরতে এলে স্বর্নমন্দির না দেখে চলে যায় এমন নজির নেই। এখান থেকে সাঙ্গু নদী, বেতার কেন্দ্রসহ বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সহজেই উপভোগ করা যায়।

এ মন্দিরের পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে ঐতিহ্যবাহী এক পুকুর। বৌদ্ধরা এ পুকুরকে সম্মানের চোখে দেখে; কারণ এটি দেবতা পুকুর। ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছাড়াও পূর্ণিমায় এখানে জড়ো হন হাজার হাজার পুণ্যার্থী।

আপনি যদি এই স্বর্ণমন্দির দেখতে যান তাহলে অবশ্যই সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেতে ১১.৩০ মিনিটের মধ্যে যাবেন, আর যদি সকালে যেতে না চান তাহলে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে বিকেল ৬টার মধ্যে যেতে পারেন।

Googleplus Pint
Noyon Khan
Posts 3488
Post Views 417