MysmsBD.ComLogin Sign Up

Search Unlimited Music, Videos And Download Free @ Tube Downloader

বৃষ্টির মৌসুমে মহানবী (সা.) যা করতেন!

In ইসলামিক শিক্ষা - Apr 23 at 12:31am
বৃষ্টির মৌসুমে মহানবী (সা.) যা করতেন!

মুফতি মাহমুদ হাসান :

এই পৃথিবীর সৃজন, রাত-দিনের আবর্তন ও মৌসুমের পরিবর্তন মহান আল্লাহ তাআলার কুদরতের নিদর্শন। প্রত্যেক মৌসুমের পরিবর্তন দ্বারা উদ্দেশ্য কেবল বান্দাদের পরীক্ষা করা যে বান্দা সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহকে স্মরণ করে কি না এবং তাঁর নির্দেশিত পথে চলে কি না। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) উম্মতকে এরই দীক্ষা দিয়ে গিয়েছেন। তাই বর্তমান ঝড়-বৃষ্টির মৌসুমেও আমাদের প্রতি একই নির্দেশ আবর্তিত হবে।

ঝড়ো বাতাসের সময় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আমল

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, 'যখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হতো এবং ঝড়ো বাতাস বইত; তখন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেহারায় পেরেশানির ভাব ফুটে উঠত। এ অবস্থায় এদিক-সেদিক পায়চারি করতে থাকতেন এবং এ দোয়া পড়তে থাকতেন, 'আল্লাহুম্মা ইন্নিআসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরা মা-ফিহা ওয়া খাইরা মা-উরসিলাত বিহি, ওয়া আঊজু বিকা মিন শার্রিহা-ওয়া শার্রি মা-ফিহা-ওয়া শার্রি মা-উরসিলাত বিহি।' অতঃপর যখন বৃষ্টি হতো, তখন তিনি শান্ত হতেন।' আয়েশা (রা.) আরো বলেন, 'আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম যে লোকজন মেঘ দেখলে বৃষ্টির আশায় আনন্দিত হয়ে থাকে, আর আপনি এতে পেরেশান হয়ে থাকেন?' রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, 'আমি এ ভেবে শঙ্কিত হই যে তা আমার উম্মতের ওপর আজাব হিসেবে পতিত হয় কি না, কেননা পূর্ববর্তী উম্মতদের ওপর এ পদ্ধতিতে আজাব পতিত হয়েছিল।' (মুসলিম, হা. ৮৯৯)

বজ্রের আওয়াজ শুনলে করণীয়

হজরত ইবনে ওমর (রা.) বলেন, "রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন বজ্রের আওয়াজ শুনতেন, তখন এ দোয়া পড়তেন, 'আল্লাহুম্মা লা-তাক্বতুলনা বিগজবিকা ওয়া লা-তুহলিকনা বিআজা-বিকা ওয়া আ-ফিনা- ক্ববলাজা-লিকা।' অর্থাৎ হে আল্লাহ, আপনি আমাকে আপনার গজব দিয়ে হত্যা করে দেবেন না এবং আপনার আজাব দিয়ে ধ্বংস করে দেবেন না; বরং এসবের আগেই আমাকে পরিত্রাণ দিন। (তিরমিজি, হা. ৩৪৫০)

বৃষ্টিতে বরকত লাভের দোয়া

রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন বৃষ্টি হতে দেখতেন তখন এ দোয়া পড়তেন: 'আল্লাহুম্মা সায়্যিবান নাফিআ', অর্থাৎ হে আল্লাহ, তুমি আমাদের উপকারী ও স্বচ্ছ বৃষ্টি দান করো। (বুখারি, হা. ১০৩২)

হজরত ইবনে সামুরাহ (রা.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বৃষ্টির সময় এ দোয়া পড়তেন, 'আল্লাহুম্মা দ'য় ফী আরদিনা বারকাতাহা ওয়া জিনাতাহা ওয়া সাকানাহা', অর্থাৎ হে আল্লাহ, তুমি আমাদের জমিনে এর বরকত, স্বচ্ছতা ও উপকার দান করো। (আল মু'জামুল কাবীর, হা. ৬৯২৮)

অতিবৃষ্টির সময়ের দোয়া

হজরত আনাস (রা.) বলেন, একদা জুমার দিন রাসুলুল্লাহ (সা.) খুতবা দেওয়া অবস্থায় জনৈক সাহাবি মসজিদে প্রবেশ করে আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! জীবজন্তু মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে, পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে, আল্লাহ তাআলার কাছে আমাদের জন্য বৃষ্টি প্রার্থনা করুন। তৎক্ষণাৎ রাসুলুল্লাহ (সা.) দু হাত সম্প্রসারিত করে দোয়া করলেন, হে আল্লাহ! আমাদের বৃষ্টি দান করো! হে আল্লাহ! আমাদের বৃষ্টি দান করো! হে আল্লাহ! আমাদের বৃষ্টি দান করো! আনাস (রা.) বলেন, আল্লাহর শপথ! তখন আকাশে বিন্দুমাত্র মেঘের ছোঁয়াও ছিল না, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর দোআর পর দিগন্তে মেঘের উদ্ভাস হয়, কিছুক্ষণের মধ্যে পুরো আকাশ ছেয়ে ফেলে, অতঃপর মুষলধারে বৃষ্টি আরম্ভ হয়। আনাস (রা.) বলেন, আল্লাহর শপথ! পরবর্তী ছয় দিন যাবৎ আমরা সূর্য দেখিনি। সপ্তাহান্তে পরবর্তী জুমায় পুনরায় ওই ব্যক্তি যখন মসজিদে প্রবেশ করে তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) খুতবারত অবস্থায়, ওই ব্যক্তি আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল!

ধন-সম্পদ সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, পানিতে পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে, আল্লাহ তাআলার কাছে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার প্রার্থনা করুন। আনাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই হাত উঁচিয়ে দোয়া করলেন, 'আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা'- অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাদের ওপর থেকে আশপাশের অঞ্চলে সরিয়ে দাও, পাহাড়-মরু, খাল-বিল ও বনাঞ্চলের দিকে সরিয়ে নাও! বর্ণনাকারী বলেন, তখনই বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যায়,অতঃপর আমরা নামাজান্তে রোদের মধ্যে বের হই।


(বুখারি, হা. ১০১৩)

Googleplus Pint
Jafar IqBal
Posts 1521
Post Views 300