MysmsBD.ComLogin Sign Up

মডেল যখন সাকিব-শিশির!

In বিবিধ বিনোদন - Apr 22 at 2:36pm
মডেল যখন সাকিব-শিশির!

কে ভালো অভিনেতা—সাকিব, না শিশির? দুজনেই একসঙ্গে বলে উঠলেন, ‘আমি’। কয়েক সেকেন্ড নীরবতা। তারপর হো হো করে হাসি। হাসি থামিয়ে সাকিব বললেন, ‘আমি বেশি ভালো অভিনেতা। এ ব্যাপারে সন্দেহই নেই। কিন্তু বাংলালিংকের বিজ্ঞাপনে প্রথমবার অভিনয় করতে এসেই শিশির যা করেছেন, সেটা বেশ প্রশংসার যোগ্য। প্রথমদিকে আমি অবশ্য এত ভালো ছিলাম না। সেদিক থেকে চিন্তা করলে ও বেশি ভালো।’ শিশির অবশ্য এসব মানতে নারাজ। ‘শুধু প্রথমবার বলে নয়, আমি এখনো সাকিবের চেয়ে ভালো অভিনয় করি।’ কথা হচ্ছিল একটি পাঁচ তারকা হোটেলের ভিআইপি কক্ষে। মাত্রই দুজন বাংলালিংকের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে জুটি বাঁধার ঘোষণা দিলেন। এত দিন চুক্তিটা শুধু সাকিবের সঙ্গেই ছিল।

জানতে চাই, প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? সাকিব আল হাসান বললেন, ‘প্রচণ্ড টেনশন হচ্ছিল। একই শট বারবার দিতে হচ্ছিল। টিভি বিজ্ঞাপনগুলো অনেক ডিটেইল কাজ করে। সময় বেশি লাগে। বিরক্ত হওয়ার সুযোগ ছিল না। তবে এখন আমি অভ্যস্ত।’

কোনটা বেশি কঠিন? মাঠের ক্রিকেট, নাকি ক্যামেরার সামনে অভিনয়? ‘দুটি কাজ আলাদা। একটাতে ক্যামেরা আমাকে ফলো করে। আরেকটাতে আমাকে ক্যামেরা ও ডিরেক্টরকে ফলো করতে হয়। দুটিই কঠিন, আবার দুটিই সহজ। দুটিতেই মজা পাই।’ আর শিশির? ‘আমার তো পর্দায় সাকিবকে দেখতেই ভালো লাগে। সেটা ক্রিকেট হোক বা অন্য কিছু।’ বললেন শিশির। সংসারের বাইরে এবার নতুন ইনিংস শুরু। কেমন লাগছে? ‘নতুন যেকোনো কিছুই আমার ভালো লাগে। এবার বউকে নিয়ে মজার কিছু কাজ করতে পারব।’ মডেল শিশিরকে কেমন লাগে? ‘ও মাত্র একটা কাজ করেছে। এখন হয়তো কিছু নতুন বিজ্ঞাপনের কাজ করবে। তবে আমি মডেল হিসেবে শিশিরকে দেখি না।’ সাকিবের চটপট জবাব।


দুজনের ভালো লাগা বা খারাপ লাগা জানতে চাই। সাকিব আল হাসান এই বলটা দেখেশুনে খেললেন। ‘সংসারের মূল ব্যাপারটাই একে অন্যকে মেনে নেওয়া, স্যাক্রিফাইস করা। বিভিন্ন পরিস্থিতির মধ্যেও কিভাবে ভালো থাকা যায় সেটাই আসল। আমরা কাজ ভাগাভাগি করে নিই। একজন আরেকজনকে সাহায্য করি। এভাবেই চলছি। ভালো লাগা, খারাপ লাগা সেভাবে হিসাব করি না।’ শিশির কথা টেনে নিয়ে শেষ করলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের মধ্যে বোঝাপড়া ভালো। একজন আরেকজনের শূন্যস্থান পূরণ করি।’


সাকিবকে খেলোয়াড় হিসেবে কেমন লাগে, এত দিন সেটার উত্তর দিয়েছেন। কিন্তু সহকর্মী হিসেবে কেমন? ‘অনেক হেল্পফুল ও সাপোর্টিভ। শুটিংয়ের সময় হোক কিংবা ঘর সামলানো—সব জায়গাতেই সাকিব খুব সাহায্য করে।’ আলাইনার (সাকিব-শিশিরের মেয়ে) দেখাশোনা করেন সাকিব? এবারও শিশিরের কাছ থেকে মিলল অলরাউন্ডারের সার্টিফিকেট—‘আমার চেয়ে বেশি। ও যখন মেয়ের সঙ্গে থাকে, তখন আমার কোনো চিন্তাই করতে হয় না।’ সাকিব বললেন, ‘এমনিতে খুব একটা সময় পাই না। যখনই পাই মেয়েকে দেওয়ার চেষ্টা করি।’ ঘরে-বাইরে আসল অলরাউন্ডারের মতোই কথা।

এখন তো বিজ্ঞাপন নিয়মিতই করবেন। এর বাইরে নাটক-সিনেমায় ইচ্ছা আছে? ‘আপাতত নেই।’ শিশিরের উত্তর শুনে সাকিব বললেন, ‘আপাতত মানে? পরে কোনো প্ল্যান আছে নাকি?’ শিশির একগাল হেসে বলেন, ‘আপাতত কেন, ভবিষ্যতেও নেই। যা করছি এটাই বেশি।’

এখন সংসারে নতুন অতিথি আলাইনা হাসান অবরি। কেমন লাগছে মা-বাবা হওয়ার পর? ‘মনে হচ্ছে আমরা ওয়ার্কিং প্যারেন্টস। সাকিব ব্যস্ত। দেশের বাইরে থাকলে আমার কাজ বেড়ে যায়।’

কসমিক জোভিয়ান, সাকিবস ডাইন এমন নানা ব্যবসার সঙ্গে সাকিব জড়িত। সামনে কি ব্যবসা বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে? সাকিবের উত্তর—‘আমি মূলত ক্রিকেটার। সেটাই আমার প্রথম কাজ। বাংলাদেশের হয়ে বেশি দিন খেলাই আমার একমাত্র লক্ষ। ব্যবসা নিয়ে তেমন বড় পরিকল্পনা নেই। যেগুলো আছে, সেগুলোই চলুক ঠিকঠাক।’

সন্তানকে নিয়ে মা-বাবার অনেক পরিকল্পনা থাকে। তবে মেয়েকে নিয়ে সাকিব-শিশিরের চিন্তাটা আধুনিক। ‘ও যা চাইবে তা-ই হবে।’ জানালেন শিশির। আরো বললেন, মেয়েকে সাবলম্বী বানাতে যা যা করা দরকার সবই করবেন দুজন।

ফেসবুকে আপনারা বেশ সরব। কিভাবে সামলান এত কিছু? সাকিব বললেন, ‘প্রফেশনাল ক্রিকেটার হিসেবে আমার ফ্যানপেইজ চালাতে হয়। সেটা বেশ অ্যাকটিভ। তবে পুরোটাই খেলা নিয়ে। যেহেতু এটা আন্তর্জাতিক পর্যা য়ে চলে যায়, তাই পোস্ট-কমেন্ট ভেবেচিন্তে করতে হয়। স্পন্সরদের প্রমোট করা, নেগেটিভ কিছু না থাকা—এসব মাথায় রাখতে হয়।’ শিশির নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোটামুটি সক্রিয়। তবে সেটা একেবারেই ব্যক্তিগত বলে জানান তিনি। ‘ফেসবুক বা টুইটারে আমার পরিচিত গণ্ডির বাইরের কেউ খুব একটা নেই। আর আমি তো সাকিবের মতো তারকা নই, তাই এসব নিয়ে চিন্তা-ভাবনাও নেই। নিজের মতো করে ফেসবুক চালাই সময় কাটানোর জন্য। ব্যস, এটুকুই।’

Googleplus Pint
Asifkhan Asif
Posts 1372
Post Views 1105