MysmsBD.ComLogin Sign Up

দুঃখে থাকার কিছু উপকারিতা!

In লাইফ স্টাইল - Apr 19 at 12:27pm
দুঃখে থাকার কিছু উপকারিতা!

মানুষ কখনো সুখে এবং কখনো দুঃখে থাকবে এটাই স্বাভাবিক। অনেকে শুধু সুখে থাকতে চাইলেও দুঃখে থাকতে চান না। যদিও শুধু সুখে থাকাই জীবন নয়। এছাড়া দুখে থাকার কিছু উপকারিতাও রয়েছে।

এ লেখায় রয়েছে তেমন কিছু উপকারিতা, যা বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।


কাজে অগ্রগতি
বাজে মুড সব সময় যে কাজের উৎসাহ কমায় তেমনটা নয়। মাঝে মাঝে তা কাজের উৎসাহও বাড়ায়। ২০১১ সালের এক গবেষণায় তেমনটাই প্রমাণিত হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, বাজে মুড, কাজে সমস্যা, সংঘাত ও ভুলের পর মানুষ কাজের মনোযোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে তা কাজের অগ্রগতি বাড়িয়েছে।


মন খারাপকে গ্রহণ করলে ক্ষতি নেই
সব দিন যে একরকম যাবে এমনটা নয়। কখনো কখনো আপনার বাজে মুড আপনার দিনকে গ্রাস করতে পারে। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, বাজে মুডের থেকে পালিয়ে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তার বদলে আপনার যে মুড খারাপ তা স্বীকার করে নিন। এতে তা আপনার কোনো ক্ষতি করবে না। গত বছরের এক গবেষণায় এ বিষয়টি জানা গেছে যে, বাজে মুডের দিকে ইতিবাচক হলে তা আপনার ক্ষতি করবে না। এতে বরং তার ক্ষতি কাটিয়ে তোলা সম্ভব হবে।


কান্নার পর ভালো অনুভূতি
দুঃখ যখন বেশি হয়ে যায় তখন অনেকেরই কান্না আসে। আর কান্না পেলে যদি কেঁদে নেওয়া যায় তাহলে মনটা হালকা হয়ে আসে। এতে মন খারাপ ভাবটাও উপশম হতে পারে। ২০১১ সালের এক গবেষণায় ৯৭ জন ছাত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তারা ৪০ ও ৭৩ দিন ধরে নানা পর্যবেক্ষণে কান্নার এ উপকারিতার বিষয়টি জানান।


সঠিক কাজের প্ররোচনা দেয়
দুঃখে থাকলে তা আপনাকে সঠিক কাজের প্রণোদনা দেয়। এটি ২০০৭ সালের এক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। সে গবেষণায় দেখা যায়, মনে যখন দুঃখ ভর করে তখন তা আপনাকে নানা সংবেদনশীল বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।

যেমন গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের দুঃখের শর্টফিল্ম দেখানোর পর বিভিন্ন সংবেদনশীল বিষয়ে মতামত জানতে চাওয়া হয়। এসব বিষয়ের মধ্যে ছিল শিক্ষার্থীদের ফি কিংবা অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের অধিকার। গবেষণায় দেখা যায়, মনোঃকষ্টে থাকা ব্যক্তিরা এসব বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হন।


হালকা বিষণ্ণতায় বাড়ে সহানুভূতি
বিষণ্ণতায় থাকা ব্যক্তিরা প্রায়ই বিশ্বের অন্যান্য ব্যক্তিদের প্রতি সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখেন। কানাডার কুইন্স ইউনিভার্সিটির ২০০৩ সালের এক গবেষণায় বিষয়টি প্রমাণিত হয়। এতে দেখা যায়, হালকা বিষণ্ণতায় থাকলে তা মানুষের মনের একটি সহানুভূতিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করে। এতে অন্যদের আবেগগতভাবে কিছুটা সহানুভূতি প্রকাশ করেন তারা।


মন খারাপ হলেও মস্তিষ্কের ক্ষমতা কমে না
আপনার যদি মন খারাপ হয় তাহলেও যে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাবে এমনটা নয়। এ বছরের এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, মন খারাপ হলেও মস্তিষ্কে তথ্য ধারণ ও তথ্য প্রক্রিয়া করার গতি একই থাকে। এ বিষয়ে গবেষকরা জানান, মন খারাপের সঙ্গে মস্তিষ্কের ক্ষমতার কোনো নেতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।


বাজে মুডে ভালো কাজের অনুপ্রেরণা
আমরা অনেকেই মনে করি কাজের নির্দেশদাতা ভালো মুডে থাকলে তা অন্যদের ভালো কাজের অনুপ্রেরণা যোগাবে। যদিও বিষয়টি বিপরীত বলেই উঠে এসেছে ২০১৩ সালের এক গবেষণায়। এতে দেখা যায়, কোনো কাজের নির্দেশ দেওয়ার সময় ম্যানেজার বা নির্দেশদাতা যখন ভালো মুডে রয়েছেন তখন তা ভালোভাবে কাজে অনুপ্রেরণা দেয়নি। কিন্তু নির্দেশদাতা যখন বাজে মুডে ছিলেন তখন তা তাদের ভালো কাজের অনুপ্রেরণা দিয়েছে।


ভুল তথ্যের সম্ভাবনা কমায়
বাজে মুডে থাকলে তা ভুল তথ্য দেওয়ার প্রবণতা কমায়। এ বিষয়ে ২০০৫ সালের এক গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া যায়। এতে দেখা যায়, গাড়ি দুর্ঘটনার পর যাদের মুড ভালো ছিল তাদের কাছে বেশ ভুল তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু যাদের মুড খারাপ ছিল তাদের কাছে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়।


মিথ্যা ধরায় দক্ষতা বাড়ায়
মন যখন খারাপ থাকে তখন আপনি সহজেই অন্যের চুরি কিংবা মিথ্যা কথা ধরতে পারবেন। ২০০৮ সালের এক গবেষণায় বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। গবেষকরা জানান, মানুষের মন খারাপ থাকলে তা অন্যদের প্রতি সন্দেহপ্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। এতে মিথ্যা কথা কিংবা চুরি ধরা সহজ হয়।


জীবন অর্থবহ করে
মন মাঝেমাঝে যাদের খারাপ হয় তারা নিজের জীবন সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করার অনুপ্রেরণা পান। এতে তাদের জীবনের নানা বিষয়ে অগ্রগতি হয়। ২০১৩ সালের এক গবেষণায় বিষয়টি জানা যায়। এতে উঠে এসেছে যারা নিজের জীবনকে কিছুটা দুঃখের বলে স্বীকার করেন তারা মূলত অর্থবহ জীবনযাপন করেন।

Googleplus Pint
Noyon Khan
Posts 3489
Post Views 185