MysmsBD.ComLogin Sign Up

চুল পড়া নিয়ে আর বিড়ম্বনা নয়!

In রূপচর্চা/বিউটি-টিপস - Apr 17 at 2:42pm
চুল পড়া নিয়ে আর বিড়ম্বনা নয়!

একটা সময় মাথাভর্তি লম্বা চুল ছিলো। এই আক্ষেপ এখন অনেকেরই। দিনে অন্তত ১০০টি চুল মানুষের মাথা থেকে পড়া স্বাভাবিক। কিন্তু এর থেকে যদি বেশি চুল পড়ে তাহলে ধরে নেবেন, এটি আর স্বাভাবিক পর্যায়ে নেই। চুল বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিষ্কার এবং বদঅভ্যাসের কারণেই দ্রুত চুল পড়ে যায়। জীবনযাপনের ধারা বদলাতে না পারলে আপনাকে খুব কম বয়সেই চুল হারাতে হবে। তাই বুড়ো হওয়ার আগেই টাক হতে না চাইলে কিছু অভ্যাস বদলে ফেলুন। কেনো কম বয়সে চুল পড়ে যায় তার কয়েকটি কারণ তুলে ধরা হলো-


চুলে অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার
জেল চুলের মারাত্মক ক্ষতি করে। এটি চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা নষ্ট করে এবং চুলের গোড়া নরম করে দেয়। এর ফলে নিয়মিত এই জেল ব্যবহারে একটা সময় মাথায় টাক পড়তে শুরু করে।


সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি
যদি কম বয়সে চুল হারাতে না চান তাহলে অবশ্যই বাইরে গেলে চুল ঢেকে রাখুন। তা না হলে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির কারণে আপনি অকালেই চুল হারাতে পারেন। সূর্যের তাপ মাথার ত্বকের ময়েশ্চারাইজার নষ্ট করে চুলকে শুষ্ক ও দুর্বল করে ফেলে। যা চুল পড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ।


ভুল শ্যাম্পু বাছাই
কম বয়সে চুল পড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো চুল অনুযায়ী শ্যাম্পু ব্যবহার না করা। যদি আপনার চুল কম থাকে এবং দুর্বল থাকে তাহলে অবশ্যই কেমিক্যাল সমৃদ্ধ শ্যাম্পু এড়িয়ে চলবেন। এ ক্ষেত্রে সব সময় মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করা ভালো।


গরম পানি ব্যবহার
গরম পানি দিয়ে নিয়মিত চুল ধুলে অনেক দ্রুত চুল পড়ে যায়। গরম পানি ব্যবহারের কারণে মাথার ত্বকের স্বাভাবিক তেল নিঃসরণ বন্ধ হয়ে যায়, চুল শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়। গরম পানি চুলে গোড়া নরম করে ফেলে। আর এ কারণেই কম বয়সে চুল পড়ে যায়।


অতিরিক্ত ওষুধ সেবন
অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার কারণে অনেক সময় চুল পড়ে যায়। বিশেষ করে জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খাওয়ার কারণে নারীদের চুল বেশি ঝরে যায়। তাই প্রয়োজন ছাড়া ওষুধ সেবন করবেন না।


দুশ্চিন্তা
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চুল পড়ে যাওয়ার আরেকটি কারণ হলো দুশ্চিন্তা। এটি চুলের পাশাপাশি ত্বকেরও অনেক ক্ষতি করে। যদি কম বয়সে চুল হারাতে না চান তাহলে দুশ্চিন্তাকে আজই বিদায় দিন।


চুল পড়া রোধে ফলের ব্যবহার
১. ৫টি বড় আকারের কাঁচা আমলকী থেঁতো করে রস ছেঁকে নিন। এবার ৩টি লাল জবা থেঁতো করে নিন। এর সাথে আমলকীর রসটুকু মেশান। মিশ্রণটি পুরো চুলের গোড়াসহ পুরো চুলে লাগান। দশ মিনিট পর চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।

২. মাল্টা এবং আনারসের রস বের করে ছেঁকে নিন। এবার দুটো রস একসাথে মিশিয়ে চুলে লাগান। দশ মিনিট অপেক্ষা করে চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।

৩. নারকেল মিহি করে বেটে নিন আধা কাপ। ২-৩ মাঝারি আকারের কাঁচা জলপাই থেঁতো করে মিশিয়ে দিন এর সাথে। মিশ্রণটি চুলে লাগিয়ে রাখুন দশ মিনিট। এরপর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।

৪. চুলের উজ্জ্বলতা চট করে বাড়িয়ে তোলা সম্ভব হলেও চুলের ভঙ্গুরতা দূর করা একটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যাপার। বেদানা ও আঙুরের রস একসাথে মিশিয়ে চুলে লাগান। এটি নিয়মিত ব্যবহার করুন। চুল উজ্জ্বল তো হবেই চুলের ভঙ্গুরতাও রোধ হবে। তবে দশ মিনিটের বেশি চুলে রাখবেন না।

৫. আধা কাপ ডাবের পানিতে এক চা চামচ গ্লিসারিন দিয়ে ভালো করে মেশান। মিশ্রণটি চুলে লাগিয়ে রাখুন দশ মিনিট। এরপর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।


ঘরেই তৈরি করুন দারুণ কার্যকরী কেমিক্যালমুক্ত প্রাকৃতিক শ্যাম্পু

আপনি যদি পার্লারে গিয়ে হেয়ার ট্রিটমেন্ট করান বা বাসায় শ্যাম্পু ব্যবহার করুন তাতেও পাবেন কেমিক্যাল, যা হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে চুলে উজ্জ্বলতা দেবে কিন্তু সেই সাথে চুলের ক্ষতিও করবে। কি করবেন ভাবছেন?ঘরে বানিয়ে নিন দারুণ কার্যকরী সম্পূর্ণ কেমিক্যালমুক্ত প্রাকৃতিক শ্যাম্পু। মাত্র একমাসেই এই শ্যাম্পুর ফলাফল নজরে আসবে।

প্রাকৃতিক শ্যাম্পুর ব্যবহারে চুলের যে পরিবর্তন হবে, তা হলো- চুল অনেক বেশি সফট ও সিল্কি হবে। মাথার ত্বকের নানা সমস্যা দূর হবে। চুলের উজ্জ্বলতা বাড়বে। একবার ব্যবহারে ৩/৪ দিন চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার না করলেও চুলের উজ্জ্বলতা থাকবে অটুট। চলুন তাহলে দেখে নেয়া যাক শ্যাম্পুটি কীভাবে তৈরি করবেন-


যা যা লাগবে
২ টেবিল চামচ বেকিং সোডা (লম্বা চুলের জন্য)
১ টেবিল চামচ বেকিং সোডা (মাঝারি থেকে ছোটো চুলের জন্য)
৫০০ মিলি পানি
২ টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগার (লম্বা চুলের জন্য)
১ টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগার (মাঝারি থেকে ছোটো চুলের জন্য)
১ কাপ পানি


শ্যাম্পু বানানোর পদ্ধতি ও ব্যবহারবিধি
দুটি আলাদা বোতল ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে মুছে নিন। একটি বোতলে বেকিং সোডা ও পানি মিশিয়ে নিন ভালো করে। লক্ষ্য রাখবেন বেকিং সোডা যেনো পানিতে পুরোপুরি মিশে যায়। অন্য বোতলে ভিনেগার ও পানি ভালো করে মিশিয়ে আলাদা করে রাখুন। প্রথমে গোসলের সময় চুল ভিজিয়ে নিন ভালো করে করে।

এরপর বেকিং সোডার মিশ্রণ চুলে দিন এবং ভালো করে চুল ম্যাসেজ করুন। ভালো করে ম্যাসেজ করা হলে চুল ভালো করে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এরপর ভিনেগারের মিশ্রণটি চুলে ভালো করে লাগিয়ে নিন। ১ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এরপর চুল পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। ব্যস, খুব দ্রুতই দেখতে পাবেন ফলাফল।


সতর্কতা
একেকজনের মাথার ত্বক একেক ধরনের। সবার চুলে এই শ্যাম্পুটি স্যুট নাও করতে পারে। ২-৩ বার ব্যবহার করলেই বুঝতে পারবেন এই শ্যাম্পুটি আপনার জন্য উপযোগী কি না। সেদিকে সতর্ক থাকুন।"

Googleplus Pint
Noyon Khan
Posts 3282
Post Views 148