MysmsBD.ComLogin Sign Up

৫ লাখ টাকায় হত্যা হয়ে গেল ‘আত্মহত্যা’

In দেশের খবর - Thu at 11:00am
৫ লাখ টাকায় হত্যা হয়ে গেল ‘আত্মহত্যা’

কুমিল্লায় প্রবাসীর স্ত্রী হত্যার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভয়াবহ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের এক চিকিৎসক ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যা বানিয়ে প্রতিবেদন দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় বুধবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ‘নিহতের’ বাবা জাহাঙ্গীর আলম। অভিযুক্ত ডা. মো. ওমর ফারুক কুমেকের ফরেনসিক বিভাগে প্রভাষক পদে কর্মরত আছেন।

জানা যায়, চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর জেলার আদর্শ সদর উপজেলার বরদৈল গ্রামে ননদের গোপন বিয়ের কথা ফাঁস করে দেয়ায় প্রবাসী স্বামী মাহবুব আলমের ইন্ধনে শ্বশুর-শাশুড়ি, ননদসহ কয়েকজন মিলে অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে এক সন্তানের জননী তানজিনা আফরিন রিমাকে (২৩) হত্যা করে। রিমা একই উপজেলার আলেখারচর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে।

এ ঘটনায় রিমার স্বামীসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের নামে কুমিল্লার আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন জাহাঙ্গীর আলম। মামলার এই বাদীই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ এনেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে দেয়া অভিযোগে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রবাসী স্বামী মাহবুব আলমের নির্দেশে শ্বশুর-শাশুড়ি, ননদসহ আরও কয়েকজন মিলে অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে তার মেয়েকে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা করছে। রিমার ননদ তানজিনা আক্তার অনৈতিক সম্পর্ক করে গোপনে এক যুবককে বিয়ে করে। রিমা এ তথ্য ফাঁস করে দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন নানা অজুহাতে রিমাকে অমানবিক নির্যাতন করে হত্যা করেন।

তিনি দাবি করেন, আদালতে মামলা করার পর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের খোঁজ নিতে বেশ কয়েকবার তিনি কুমেকের ফরেনসিক বিভাগের ডা. মো. ওমর ফারুকের কাছে যান। এ সময় ডা. ফারুক তাকে বলেন, ‘আপনার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে পুলিশ সুরতহালে অনেক কিছুই লেখেনি।

আপনি যদি সঠিক ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন চান তাহলে আমাকে দুই লাখ টাকা দিতে হবে।’

অভিযোগে জাহাঙ্গীর আলম উল্লেখ করেন, ‘আমি অসহায় মানুষ। তাই ডা. ওমর ফারুকের চাহিদা মোতাবেক টাকা দিতে পারিনি। এক পর্যায়ে আমি বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারি, ডা. ফারুক আসামিদের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছেন।

যার ফলে আমার মেয়ের মৃতদেহের গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন থাকা সত্ত্বেও আমার মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে ২২ নভেম্বর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানাতে চাইলে ডা. মো. ওমর ফারুক বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সঠিক ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রদান করেছি। আমার বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীর আলম ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন। আমি শতভাগ নিশ্চিত হয়েই প্রতিবেদন দিয়েছি। আমার কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণও রয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৭ সেপ্টেম্বর রিমাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর তার বাবা জাহাঙ্গীর আলম মামলা করতে চাইলেও ক্যান্টনমেন্ট ফাঁড়ির পুলিশ অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করে লাশ মর্গে পাঠিয়ে দেয়। পরে তিনি কুমিল্লার আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন। আদালত ২৫ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দেন।

ওই মামলায় রিমার স্বামী মাহবুব আলমকে হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে আসামি করা হয়। অপর আসামিরা হলেন- রিমার শ্বশুর আবদুল আজিজ, শাশুড়ি সাবেরা বেগম, ননদ তানজিনা আক্তারসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন।

Googleplus Pint
Noyon Khan
Posts 3254
Post Views 149