MysmsBD.ComLogin Sign Up

পঞ্চম শ্রেনীতেই প্রথম প্রেমে পড়েন ঈশানা!

In বিবিধ বিনোদন - Nov 30 at 2:02pm
পঞ্চম শ্রেনীতেই প্রথম প্রেমে পড়েন ঈশানা!

‘পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ার সময় প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম। আমার ক্লাসের একটি ছেলে আমার জন্য প্রতিদিন ফুল ও চকলেট নিয়ে আসতো। আমার দিকে সবসময় তাকিয়ে থাকতো।

আমার মনে আছে, ছেলেটির নামে আমি স্কুলে বেশ কয়েকবার অভিযোগও করেছিলাম। টানা একবছর ছেলেটি আমাকে সবসময়ই অনুসরণ করতো। এরপর আর কখনও পাত্তা দেয়নি ছেলেটিকে। তবে দশম শ্রেণীতে এসে হঠাৎ একদিন ছেলেটিকে দেখে মনে হয়েছিলো, আরে এই ছেলেটির প্রেমেইতো পড়েছিলাম! (হাহা)’।

এভাবেই প্রথম প্রেমে পড়ার স্মৃতি আওড়াচ্ছিলেন লাক্স তারকা খ্যাত অভিনেত্রী ঈশানা খান। নিজের ব্যাক্তিগত আলাপনের বাইরেও তিনি জানিয়েছেন তার বর্তমান ব্যস্ততা ও ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা -

এখন ব্যস্ততা কি নিয়ে?
ঈশানা : এক ঘণ্টার নাটকগুলো নিয়েই বর্তমানে ব্যস্ত আছি। সম্প্রতি ইমন ভাইয়ের সঙ্গে দুটি নাটকের কাজ শেষ করেছি। ফায়জুন্নেসা লুনার পরিচালনায় ‘যে ভুলে হলো ভুল’ ও ‘ঘুমপরী জোনাক পোকা’। সম্প্রতি বান্দরবানে টানা তিন দিন নোয়াশাল ধারবাহিকের শুটিং করেছি। এছাড়া চাপাবাজ নামের আরও একটি ধারাবাহিকের শুটিংয়ের কাজও করছি। বর্তমানে আমার চারটি ধারাবাহিক টেলিভিশনে প্রচার হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে-চাঁপাবাজ (বৈশাখী টিভি), তুমি আসবে বলে (একুশে টিভি), নোয়াশাল (আরটিভি), শান্তি অধিদপ্তর (আরটিভি)

এক ঘণ্টার নাটকে না ধারাবাহিকে- কোন মাধ্যমে আপনি স্বাচ্ছন্দ্য?
ঈশানা : এক ঘন্টা নাটকগুলো করতেই সবাই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। কারণ গল্পের শেষটি জেনে আমি নিজেরে চরিত্রটি সেভাবেই সাজাতে সহজ হয়। অন্যদিকে ধারাবাহিক নাটগুলোতে গল্পের শেষ হবে কবে তা জানা যায় না। এক ঘণ্টা কিংবা ধারাবাহিক দুটো জায়গাতেই অভিনয়ের দিকগুলো একই। তবে ধারাবাহিকে কাজ করার মাধ্যমে পর্দায় নিয়মিত হওয়া যায়।

এখনকার বেশিরভাগ নাটকের শুটিং দু-তিন দিনেই শেষ করা হয়। এতো অল্পসময়ে চরিত্রগুলোর জন্য কি প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হয়ে ওঠে?
ঈশানা : অভিনয়শিল্পীদের জন্য এটা একটা চাপ। এতো অল্পসময়ে কাজ শেষ করাটা বেশ কষ্টসাধ্য। অনেকটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমাদের এই কম সময়ে কাজ শেষ করতে হয়। এছাড়া নাটকের স্ক্রিপ্টও অনেক সময় আগে থেকে পাইনা। হয়তোবা ১-২ দিন আগে পাওয়া হয়। অনেক সময়তো শুটিংয়ের দিনই স্ক্রিপ্ট হাতে পাই। এজন্য প্রস্তুতি নিতে অনেক সমস্যা হয়। বিভিন্ন চরিত্রের জন্য প্রস্তুতির ধরনও পাল্টাতে হয়। তাই প্রস্তুতি নেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্তুতি ব্যতীত চরিত্রগুলো কখনও ফুটিয়ে তোলা সম্ভবনয়।

আপনার স্বপ্নের চরিত্র...
ঈশানা : সমরেশ মজুমদারের ‘গর্ভধারিনী’ উপন্যাসের জয়িতা চরিত্রটি আমার খুব পছন্দের। যদিও এই চরিত্রটির একেবারেই বিপরীত আমি। তবুও চরিত্রটির প্রতি একটা ভালোলাগা কাজ করে। এছাড়া হুমায়ুন আহমেদ স্যারের সব গল্পের চরিত্রই আমার স্বপ্নের চরিত্র।

চলচ্চিত্রে কবে নাগাদ আপনার দেখা মিলবে?
ঈশানা : খুব শিগগিরই। লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগীতার পর থেকে নাটকের চয়ে বেশি চলচ্চিত্রের প্রস্তাবই পেয়েছি। কিন্তু নিজেকে অভিনয়ে পক্ত করতে সময় নিয়েছি বরাবরই। এতোদিন অভিনয়ের যতটুকুই শিখেছি তা কাজে লাগানোর এখন সময় এসেছে বলে মনে করছি। আর তাই চলচ্চিত্রে অভিনয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন শুধু ভালো গল্পের অপেক্ষা...

পরিবারে কার কাছ থেকে বেশি অনুপ্রেরণা পান?
ঈশানা : অবশ্যই, আমার মা। সব কাজেই মাকে আমার পাশে পাই। এমনকি শুটিংয়ের সময়ও আমার মা ছায়া হয়ে আমার পাশে থাকেন। আমার সব কাজে মা সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা যোগান।

প্রথম ক্যামেরার সামনে দাড়ানোর অভিজ্ঞতার কথা শুনতে চাই?
ঈশানা : ২০০৯ সালে লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগীতায় আমি প্রথম রানার আপ হওয়ার পরদিনই আমি একটি নাটক ও একটি টিভিসির শুটিংয়ে হাজির হই।

তন্ময় তানসীনের পরিচালনায় ‘ফিরিয়ে দিলাম পৃথিবী’ টেলিছবির মাধ্যমেই ছোটপর্দায় আমার অভিষেক ঘটে।

প্রথম দিনে একই সঙ্গে দুটি কাজের প্রস্তাব পেয়েছি, নিজের ভাগ্য নিয়ে তখন নিজেই দারুণ খুশি হয়েছিলাম। তবে এই খুশি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। এত কাজ আর এত পরিশ্রম!

মনে হলে এখনো গায়ে জ্বর চলে আসে। আমার অবস্থা দেখে টেলিছবির পরিচালক তন্ময় তানসেন বলেছিলেন, ‘আজকের মতো শুটিং শেষ করি। তোমার চেহারা দেখে মায়া হচ্ছে।’

নিজের অভিনীত নাটক গুলো দেখার অনুভূতি কেমন?
ঈশানা : নিজের ভুল-ত্রুটিগুলো খুটিয়ে বের করতেইআমি নিজের অভিনীত নাটকেগুলো দেখি। ভুলগুলোকে শনাক্ত করে সেগুলো পরবর্তীতে কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। প্রতিটি নাটক সময়ের অভাবে টিভিতে দেখতে না পারলেও ইউটিউবে দেখি। এছাড়া অন্যদের অভিনয় দেখেও তাদের কাছ থেকে শিখতে চাই।

অভিনয় নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?
ঈশানা : চলচ্চিত্রে নাম লেখাবো। আপাতত এটাই ভবিষ্যত পরিকল্পনা। এজন্য নিজেকে প্রস্তুতকরছি। বড়পর্দায় নিজেকে দেখার লোভ সব অভিনয়শিল্পীরই থাকে, আমিও এর ব্যাতিক্রম নই। ছোট পর্দায় কাজের পাশাপাশি এবার বড়পর্দায়ও নিজেকে ঝালিয়ে দেখার চেষ্টা করবো।

অল্প সময়েই এতো জনপ্রিয়তা কিভাবে উপভোগ করছেন?
ঈশানা : আমি ভাগ্যবতি। এজন্যই দর্শকের এতো ভালোবাসা পাচ্ছি। অভিনয়কে গুরুত্ব দিয়ে চলছি। এজন্য অনেক পরিশ্রমও করছি। আমি এ পর্যএন্ত আসতে পেরেছি শুধুমাত্র আমার পরিবার ও দর্শকদের ভালোবাসার জন্য। তারাই আমার শুভাকাঙ্খী। সবার দোয়াই ভবিষ্যতে আরও ভালোভালো কাজ করতে চাই।

বিয়ে করবেন কবে?
ঈশানা : আল্লাহ জানে (হা হা)।আপাতত বিয়ে নিয়ে ভাবছিনা। যখন সময় হবে তখন অবশ্যই পারিবারিকভাবেই বিয়ে করবো।

আপনার আইডল কে?
ঈশানা : সূবর্ণা মুস্তফা ম্যাডামের অভিনয় দেখলে আমি হারিয়ে যায়। এখনও তার সামনে দাড়িয়ে কথা বলতে আমার হাত-পা কাঁপে। তার অভিনয় দেখে মনে হয় তিনি কি সত্যিই এই পৃথিবীর মানুষ! ছোটবেলা থেকেই তার অভিনয় দেখে অনুপ্রাণীত হতাম। এছাড়া নায়িকা মৌসুমী আপুও আমার অনেক প্রিয় একজন অভিনেত্রী। তাকে আমারপরীর মতো মনেহয়।

নিজের সৌন্দরর্য্যে চর্চা করেন কিভাবে?
ঈশানা : সাত্যি বলতে আমি সৌন্দর্য চর্চার সময় পাইনা। তবেযখনই সময় পাই মাসে একবার হলেও বিউটি পার্লারের শরণাপন্ন হই। আমার মা সবসময়ই বলেন ডাবের পানি খাও, একটু ত্বকের যত্ন নাও ইত্যাদি। তবে সময় কই…

অবসরে কি করেন?
ঈশানা : আমি বই পড়তে পছন্দ করি। বলতে গেলে আমি বইয়ের পোকা। সবসময়ই আমার হাতে একটা বই থাকেই। এমনকি শুটিংয়ের ফাঁকেও আমি বই পড়ি। বই পড়ার পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গেই আমার অবসর সময় কাটে।

Googleplus Pint
Noyon Khan
Posts 3474
Post Views 168