MysmsBD.ComLogin Sign Up

যে ৫ ফুটবলার রিয়াল মাদ্রিদের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন!

In ফুটবল দুনিয়া - Nov 24 at 8:49am
যে ৫ ফুটবলার রিয়াল মাদ্রিদের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন!

ভেরাত্তি, পগবা, জেরার্ড, নেইমার ও টট্টি

রিয়াল মাদ্রিদ এমন একটি বিশ্বমানের ক্লাব যেখানো খেলার জন্য খেলোয়াডরা মুখিয়ে থাকেন। রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাব থেকে কেউ প্রস্তাব পেলে সচরাচর ফিরিয়ে দেন না।

দলে খেলোয়াড় ভেড়ানোর ক্ষেত্রে রিয়ালের একটা বিশেষ সুনামও আছে বটে। কিন্তু এমন কিছু খেলোয়াড় আছেন যারা রিয়াল মাদ্রিদের মতো জায়ান্ট ক্লাবের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। তাদের নিয়েই আজকের আয়োজন।

৫. মার্কো ভেরাত্তি :
মার্কো ভেরাত্তি ইউরোপের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার। বয়স মাত্র ২৩ বছর। তার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু হয় মাত্র ১৯ বছর বয়সে ইতালির একটা ক্লাবে। ভেরাত্তি যখন ইতালির ছোট ক্লাবগুলোতে খেলছিলেন তখন সে বিভিন্ন ক্লাব থেকে প্রস্তাব পেতে শুরু করেন। বেশ কিছু বড় ক্লাব তাকে দলে ভেড়াতে আগ্রহ দেখাতে শুরু করে। তার মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদও ছিল। ভেরাত্তি সম্প্রতি জানিয়েছের যে, তিনি স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদে খেলার প্রস্তাব পেয়েছিল।

সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিয়াল মাদ্রিদে না যাওয়ার বিষয়ে ভেরাত্তি বলেছেন, ‘আমি এই জার্সি গায়ে দিয়ে আরও কিছু ম্যাচ জিততে চাই। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়া তেমন বিশেষ কিছু নয়, আসল কথা হল আমি যখন একটা দলে খেলব তখন ভালোভাবে খেলতে পারলেই খুশি। সে কারণে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে চুক্তিতে যেতে চাইনি।’

৪. পল পগবা :
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার পল পগবার জন্ম ফ্রান্সে। পল পগবার দল বদল নিয়ে অনেকদিন থেকেই মিডিয়াতে গুঞ্জন চলছিল। একজন বিশ্বমানের মিডফিল্ডারের বিরাট মূল্য দাঁড়ায় সেটাই স্বাভাবিক। তার মতো একজন বিশ্বমানের মিডফিল্ডারকে সবাই যেকোন মূল্যে দলে টানতে চায়।

পগবা যখন ফ্রি ট্রান্সফারে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে জুভেন্টাসে পাড়ি দিয়েছিলেন তখন ম্যানইউর তৎকালিন কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন বলেছিলেন- পগবার জন্য ভাল কিছু অপেক্ষা করছে। চার বছরে চারটা সিরি’আ লিগ খেলার পর রেকর্ড পরিমান ৮৯ মিলিয়ন পাউন্ডে আবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলার জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করেন পগবা।

তার ম্যানচেস্টার ইউনাইডেট ছাড়ার আগে যখন গুঞ্জন চলছিল জিদান নাকি পগবাকে দলে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন এবং চুক্তির জন্য মাঝে মাঝে কথাও বলেছিলেন। কিন্তু পগবার এজেন্ট রায়োলা নিশ্চিত করেন যে পগবা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলবেন। টেলিফুটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘জিনেদিন জিদান পগবাকে রিয়াল মাদ্রিদের জন্য চাচ্ছেন। কিন্তু তার আগে আরও ৫/৬ টা ক্লাব তাকে দলে ভেড়াতে চেয়েছিল। কিন্তু পগবা রিয়ালে নয়, তার আগের ক্লাব ম্যানইউতেই খেলতে চায়।’

৩. স্টিভেন জেরার্ড :
ইংল্যান্ডের ফুটবলার স্টিভেন জেরার্ড। জন্ম ১৯৮০ সালের ৩০ শে মে ইংল্যান্ডের হুইস্টোনে। মাঝমাঠের এই খেলোয়াড় বর্তমানে লিভারপুলে খেলছেন।

মাঝমাঠের খেলোয়াড় হলেও দলের প্রয়োজনে আক্রমণভাগ এমনকি রক্ষনভাগেও খেলে থাকেন । বল নিয়ে দ্রুতগতির, জোরালো শট এবং অনুপ্রেরণা যোগানোর জন্য তিনি খুবই জনপ্রিয় এবং বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা মাঝমাঠের খেলোয়াড়।

স্টিভেন জেরার্ড ইউরোপের অনেক বড় ক্লাবগুলোতে খেলার প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু যেখান থেকে তার এতো খ্যাতি-অর্জন, যেখানে তিনি বেড়ে উঠেছেন সেই ক্লাব ছাড়তে চাইলেন না।

চেলসিতে যোগদানের গল্পও শোনা যায় ২০০৫ সালে। চেলসি নাকি খুব ভালভাবেই তাকে দলে বেড়াতে চেয়েছিল এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফি খেলার কয়েক সপ্তাহ আগে তাকে ট্রান্সফারের অনুরোধ পাঠানো হয়।

সে বিবেকের দায়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিল এবং রাত ১১ টায় তার এজেন্টকে ডেকে বলল যে সে লাল ছেড়ে কিছুতেই নীল জার্সি পরতে চান না। এরই মধ্যে তিনি রিয়াল মাদ্রিদে খেলার প্রস্তাব পায়।

তার ক্লাব সতীর্থ মিশেল ওয়েন রিয়ালে যাওয়ার জন্য সব কিছু প্রায় ঠিক করে ফেলেছিলেন। কিন্তু তেমন লাভ হল না। ২০১৪ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন কেন সে রিয়ালে যেতে চান না।

জেরার্ড বলেন, ‘আমি মনে করি রিয়াল মাদ্রিদে গিয়ে ভাল ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ আছে। কিন্তু আমার নিজ ক্লাবের (লিভারপুল) প্রতি কিছু দায়বদ্ধতা আছে। আমি কিছুটা পরিতাপ করছি, কারণ আমি নিজের সাথে চ্যালেঞ্জ নিতে পারছি না এবং বিভিন্ন দেশে গিয়ে খেলাটাও মেনে নিতে পারব না। আমি যেই ক্লাবকে ভালবাসি সেই ক্লাবকে ছেড়ে যেতে সত্যিই অনেক কষ্ট হবে। আমি নিজেই মাদ্রিদেরর একজন বড় ভক্ত, এটি বিশ্বের সেরা একটা ক্লাব। কিন্তু লিভারপুলই আমার কাছে নাম্বার ওয়ান ক্লাব।’

২. নেইমার :
ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর তার পারফরমেন্স খুব ভালভাবেই দেখাচ্ছেন এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছেন।

যদিও নেইমার এখন বার্সেলোনায় খেলছেন। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদেও খেলার প্রস্তাব পেয়েছিলেন দু’বার। প্রথমবার প্রস্তাব পেয়েছিলেন যখন তার বয়স ১৩। নেইমার যদিও ইউরোপে আসতে চাচ্ছিলেন, কিন্তু মন থেকে অনুভব করল যে কিছুতেই তিনি ব্রাজিল ত্যাগ করতে পারবেন না।

এল ইকুইপকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেইমার এই বিষয়টা ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন, ‘এখনও আমার বয়স ১৩, এই সময়ে যদি আমি ইউরোপে পাড়ি জমাই মনে হয় আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করব না। আর এই বয়সে ব্রাজিল ত্যাগ করে আমি নিজেকে কষ্ট দিতে চাই না।’

২০১৩ সালে নেইমার ব্রাজিল ও সান্তোসের হয়ে সাফল্যেরর চূড়ায় আরোহণ করেছিল। তিনি তখন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে যেমন মাঠ মাতাচ্ছিল সমানতালে সান্তোসের হয়েও তার ফুটবল প্রতিভার ঝলক দেখাচ্ছিল। নেইমার এটাই মোক্ষম সময় মনে করল ব্রাজিল ত্যাগ করার এবং ইউরোপে গিয়ে নিজেকে তুলে ধরার। যেমন ভাবা তেমন কাজ।

কিন্তু এ সময় রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনা তাকে দলে বেড়াতে উঠেপড়ে লাগল। কিন্তু সে তো দু’দলে খেলতে পারবে না চাইলেই। অনেকদিন থেকেই সে কোন দলের হয়ে খেলবে সেটা ঠিক করে রেখেছিল। এবং সেই ক্লাবটির নাম বার্সেলোনা।

তার দল ট্রান্সফারের খবরে বার্সেলোনার তখনকার কোচ টিটো ভিলানোভা দারুণ খুশি হয়েছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন- নেইমারের ইউরোপো যাওয়ার একমাত্র কারণ তার ফুটবল প্রতিভা বিশ্বের কাছে তুলে ধরা, টাকা কামানো নয়। আর নেইমারও বার্সেলোনায় খেলার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করলেন এবং ব্যাখ্যা করলেন কেন দল হিসেবে বার্সেলোনাকে পছন্দ করলেন। নেইমার জানালেন মেসি, জাবিসহ বিশ্বমানের সব সুপারস্টাররা বার্সেলোনায়, তাই সে বার্সেলোনাকে বেছে নিল। রিয়াল মাদ্রিদের শত মিলিয়নের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন।

১. ফ্রান্সিসকো টট্টি :
মধ্য মাঠের এই খেলোয়াড়ের জন্ম ইতালির রোমে। বর্তমানে রোমাতেই খেলতেছেন। আধুনিক এই ফুটবলার তার খেলায়োড়সুলভ প্রতিভা দিয়ে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন। এই পর্যন্ত ইতালির সবচেয়ে সেরা মিডফিল্ডারদের একজন টট্টি। অনেক বড় বড় ক্লাব তাকে রোমা ত্যাগ করার প্রস্তাব দিলেও তিনি তা নাকচ করে দিয়েছন।

২০১২ সালে স্কাই ইতালিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন কেন রিয়াল মাদ্রিদের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, ‘আমি মনে করি আমি যার সাথে চুক্তি করব তাকে যেন সর্বদা ভালোটা দিতে পারি। আমি মনে করি না টাকাই সব। যদি তাই হত তাহলে আমি ২৬ বছর বয়সেই রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনায় যোগ দিতাম যখন তারা আমাকে চেয়েছিল। আমি সব সময় রোমার জার্সি পরে আমার ক্যারিয়ার তৈরি করতে চেয়েছি। সে কারণে বার্সেলোনা বা রিয়াল মাদ্রিদের মোটা অঙ্কের টাকার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলাম।’

তথ্যসূত্রঃ অনলাইন

Googleplus Pint
Anik Sutradhar
Posts 6740
Post Views 376