MysmsBD.ComLogin Sign Up

Search Unlimited Music, Videos And Download Free @ Tube Downloader

বিপিএল ২০১৬ : প্যাটেল-মুমিনুলের ব্যাটে রাজশাহীর দুর্দান্ত জয়

In ক্রিকেট দুনিয়া - Nov 21 at 5:55pm
বিপিএল ২০১৬ : প্যাটেল-মুমিনুলের ব্যাটে রাজশাহীর দুর্দান্ত জয়

ম্যাথু কোলসের অফ স্টাম্পের বলটা ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠিয়েই ছুটলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। নন স্ট্রাইক প্রান্ত থেকে এগিয়ে গেলেন ফরহাদ রেজা। ডাগআউট থেকে এসে তাদের উদযাপনে যোগ দিলেন অন্য সতীর্থরা। রাজশাহী কিংসের খেলোয়াড়দের উদযাপন দেখেই বোঝা যাচ্ছিল জয়টি তাদের কতটা কাঙ্ক্ষিত ছিল!

টানা তিন ম্যাচ হেরে অনেকটাই খাদের কিনারায় চলে গিয়েছিল রাজশাহী। সোমবার তারা সামিত প্যাটেল ও মুনিনুল হকের দারুণ ব্যাটিংয়ে ঢাকা ডায়নামাইটসকে ৩ উইকেটে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়াল।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম এই ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৮২ রান করে ঢাকা। জবাবে ৭ উইকেট হারিয়ে ১ বল বাকি থাকতে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রাজশাহী।

এই বিপিএলে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। ষষ্ঠ ম্যাচে এটি রাজশাহীর দ্বিতীয় জয়। প্রথম জয়টিও ছিল এই ঢাকার বিপক্ষেই।

বড় লক্ষ্য তাড়ায় রাজশাহীর শুরুটা যদিও ভালো হয়নি। প্রথম ওভারেই ডোয়াইন ব্রাভোর বলে সাঙ্গাকারাকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান জুনায়েদ সিদ্দিক (৪)। চতুর্থ ওভারে মোহাম্মদ শহীদের বলে নাসির হোসেনের দারুণ ক্যাচে বিদায় নেন সাব্বির রহমানও (৭)। রাজশাহীর স্কোর তখন ৪ ওভারে ২ উইকেটে ৩১।

এরপরই সামিত প্যাটেলকে নিয়ে দারুণ জুটি গড়ে তোলেন মুমিনুল। ঢাকার বোলারদের শাসন করে ১২ ওভারে দলের স্কোর ১০০ পার করেন দুজন। ১২তম ওভারে প্যাটেল ম্যাথু কোলসকে একটি ছক্কা ও তিনটি চার মেরে ২৬ বলে পূর্ণ করেন ফিফটি। পরের ওভারে ৩৮ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন মুমিনুলও।

ফিফটির পর অবশ্য ইনিংস আর বড় করতে পারেননি মুমিনুল। ১৫তম ওভারে শহীদের বলে ডিপ মিড উইকেটে নাসির হোসেনকে ক্যাচ দেওয়ার আগে মুমিনুল করেন ৪২ বলে ৫৬। পাঁচে নামা উমর আকমল মুখোমুখি প্রথম দুই বলেই মারেন দুই চার।

জয়ের জন্য শেষ পাঁচ ওভারে রাজশাহীর প্রয়োজন ছিল ৪৩ রান। ১৬তম ওভারে সাকিবের প্রথম চার বলে দুই ছক্কা হাঁকিয়ে ব্যবধান কমিয়ে আনেন প্যাটেল। কিন্তু পঞ্চম বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে খেলতে গিয়ে বলের লাইন মিস করেন তিনি, বোল্ড। মাত্র ৩৯ বলে ৬ ছক্কা ও ৫ চারে প্যাটেল করেন ৭৫। পরের ওভারে ফিরে যান আকমলও (৬ বলে ১২)।

শেষ ১৮ বলে রাজশাহীর দরকার পড়ে ঠিক ১৮ রান। শহীদের করা ১৮তম ওভারে আসে মাত্র ৬ রান। পরের ওভারে ডোয়াইন ব্রাভো ড্যারেন স্যামিকে (৮ বলে ৯) ফিরিয়ে দিলে দারুণ জমে ওঠে ম্যাচ।

শেষ ওভারে রাজশাহীর প্রয়োজন পড়ে ৯ রান। কিন্তু প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে লং অনে ব্রাভোকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আবুল হাসান রাজু। দ্বিতীয় বলে মেহেদী হাসান মিরাজ নেন ১ রান। তৃতীয় বলে ডিপ মিড উইকেট দিয়ে চার মেরে ব্যবধান কমান ফরহাদ রেজা। পরের বলে নেন ১ রান। ২ বলে চাই ৩ রান। তবে পঞ্চম বলেই চার মেরে দলের দারুণ জয় নিশ্চিত করেন মিরাজ।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমেছিল ঢাকা। শুরুতে রানের জন্য লড়াই করেছেন দুই ওপেনার কুমার সাঙ্গাকারা ও মেহেদী মারুফ। প্রথম তিন ওভারে মারুফ শুধু একটি চার মারতে পেরেছিলেন। তিন ওভারে রান আসে ১৫।

তবে মেহেদী হাসান মিরাজের করা চতুর্থ ওভার থেকেই দুই ব্যাটসম্যান দুই চার আর এক ছক্কায় তোলেন ১৭ রান। লং অনের ওপর দিয়ে মারুফের ছক্কাটি ছিল দেখার মতো। পরের ওভারে সাঙ্গাকারাও কাউ কর্নারের ওপর দিয়ে হাঁকান দারুণ এক ছক্কা।

সাঙ্গাকারা-মারুফের ব্যাটে ৮ ওভারে বিনা উইকেটে ৬৫ রান তোলে ঢাকা। নবম ওভারে মারুফকে ফিরিয়ে ৭১ রানের জুটি ভাঙেন আবুল হাসান রাজু। আগের বলেই কভার দিয়ে চার মেরেছিলেন। পরের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে লং অফে সাব্বির রহমানের হাতে ধরা পড়েন মারুফ (২৫ বলে ৩৫)।

মারুফ ফিরলেও সাঙ্গাকারা ৪৭ বলে তুলে নেন ফিফটি। এরপর অবশ্য একটি করে চার ও ছক্কা মেরেই বিদায় নেন তিনি। একই ওভারে মোসাদ্দেক (১৩) ও সাঙ্গাকারাকে ফিরিয়ে দেন ফরহাদ রেজা। ৪৬ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় সাঙ্গাকারা করেন ৬৬ রান।

এরপর দ্রুত ম্যাট কোলসের উইকেট হারালেও পঞ্চম উইকেটে সাকিব আল হাসান ও সেকুগে প্রসন্নর ৪৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বড় পুঁজি পায় ঢাকা। রাজুর করা শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে প্রসন্ন হাঁকান টানা দুই ছক্কা। শেষ বলে মারেন চার। মাঝে চতুর্থ বলে সাকিব হাঁকান এক চার। তাতে শেষ ওভারেই আসে ২২ রান।

১৬ বলে ৩ ছক্কা ও ২ চারে ৩৪ রানের ছোট্ট ঝোড়ো ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন প্রসন্ন। ১২ বলে ৩ চারে সাকিব অপরাজিত থাকেন ১৮ রানে। রাজশাহীর পক্ষে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন ফরহাদ রেজা।

তথ্যসূত্রঃ বিডিনিউজ২৪

Googleplus Pint
Anik Sutradhar
Posts 6803
Post Views 327