MysmsBD.ComLogin Sign Up

Search Unlimited Music, Videos And Download Free @ Tube Downloader

৪ কৌশলে কাটিয়ে উঠুন বিষন্নতা

In লাইফ স্টাইল - Nov 18 at 9:02am
৪ কৌশলে কাটিয়ে উঠুন বিষন্নতা

আপনি কি সারাক্ষণ হীনমন্যতায় ভুগছেন? নিজেকে মূল্যহীন, একা, দুঃখী বোধ করছেন? তাহলে হয়ত আপনি বিষন্নতাজণিত মানসিক রোগে ভুগছেন। মন খারাপ হওয়া বা একটি দিন খারাপ যাওয়া আর বিষন্নতাজণিত মানসিক সমস্যা এক নয়। আপনি যদি এই সমস্যায় আক্রান্ত হোন তাহলে কোন কারণ ছাড়াই আপনার মন খারাপ থাকতে পারে এবং এর সময়কাল ১ দিন, ১ সপ্তাহ এমনকি ১ বছর হতে পারে।

বিষন্নতাগ্রস্থ হয়ে পড়ার পেছনে নানান কারণ থাকতে পারে। বড় কোন আঘাত যেমন বিষন্নতা রোগের সূত্রপাত ঘটাতে পারে আবার কারণটি হতে পারে এত ক্ষুদ্র যা আপনি হয়তো মনেই করতে পারবেন না। দীর্ঘদিন ছোট ছোট কষ্টগুলোকে নিজের অভ্যন্তরে লালন, রাগ, ক্ষোভ, ঘৃণার প্রকাশ না ঘটানো, নেতিবাচকতার চর্চা দিনে দিনে আপনাকে করে তুলতে পারে অসুস্থ।

• কী করে বেড়িয়ে আসবেন, ফিরে আসবেন সুস্থ জীবনে? জেনে নিই সহজ ৪টি উপায়....

থেরাপিস্টের সাহায্য নিন
আপনি ঠিক কখন কী কারণে বিষন্নতাগ্রস্থ হতে শুরু করলেন তা বলতে পারবেন একমাত্র অভিজ্ঞ একজন থেরাপিস্ট। তিনি আপনার সাথে গল্প করবেন দীর্ঘ সময়। আপনার প্রতিটি কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন। নিঃসঙ্কোচে জীবনের যে কোন ঘটনা তার কাছে বলতে পারবেন আপনি। একজন থেরাপিস্ট মানুষের আচরণ বিশ্লেষণের উপরেই পড়াশোনা করেছেন। তিনি জানেন, মানুষ যা বলেন, যেভাবে একটি ঘটনাকে দেখেন তার পেছনে অন্য কোন ঘটনা বা কারণ লুকিয়ে থাকতে পারে।

আপনি যা করছেন তার সবকিছু সচেতনভাবে করছেন না। আপনার জীবনে এমন অনেক ঘটনা আছে যা আপনার মস্তিষ্কের অবচেতন অংশে জমা হয়ে আছে। আপনার আচরণের পেছনে অবচেতন এই স্মৃতিদের ভূমিকা রয়েছে। একজন থেরাপিস্ট প্রশ্ন করে করে, উদাহরণ দিয়ে, নানান অভিজ্ঞতা মিলিয়ে জানতে সমর্থ হোন আপনার বিষন্নতার কারণ আসলে কী! থেরাপিস্ট পথ দেখাতে পারেন, প্রয়োজনে ঔষধ দিতে পারেন, অভিজ্ঞ মতামত দিতে পারেন। এইসবই আপনাকে বের করে আনবে বিষন্নতাবোধ থেকে।

সামাজিক যোগাযোগ বাড়ান
আপনি যখন নিজের সাথে বেশী সময় কাটান বা একা একা সময় কাটান তখন নানান ভাবনা ঘিরে ধরে আপনাকে। আপনি সহজেই তলিয়ে যান চিন্তার অতল গহবরে। একজন বিষন্নতাগ্রস্থ রোগীর জন্য এটি মারাত্মক সমস্যা তৈরি করতে পারে। একা সময় কাটানো আপনাকে আরও জটিল মানসিক রোগীতে পরিণত করবে।

সামাজিক যোগাযোগ বাড়িয়ে নিজেই নিজেকে সহযোগিতা করুন। বন্ধুদের সাথে মিশুন, তাদের খোঁজখবর নিন, একসাথে সিনেমা দেখুন, ঘুরতে যান। অফিসে সহকর্মীদের সাথে ভাল সম্পর্ক তৈরি করুন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সজীব হয়ে জেগে উঠুন। আড্ডা, গল্প, হাস্যোরস আপনাকে দ্রুতই স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনবে।

ইতিবাচক মানুষদের সাথে সময় কাটান
বিষন্নতার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে যেই সমস্যাটি সেটি হল হতাশা। আপনি চাকরি নিয়ে হতাশ, সম্পর্ক নিয়ে, জীবন নিয়ে অথবা নিজেকে নিয়ে। এই হতাশা আপনাকে তিলে তিলে মেরে ফেলতে পর্যন্ত পারে। হতাশাকে ঝেরে ফেলতে সবচেয়ে কর্যকরী উপায় হল নেতিবচকতা প্রত্যাহার করা। যে কোন বিষয়ই আপনার সামনে আসুক না কেন তার মাঝে ইতিবাচকতা খুঁজে নিন। এমন মানুষদের সঙ্গী হিসেবে বেছে নিন যারা সবসময় ইতিবাচক কথা বলেন, আশার কথা বলেন, কখনো থেমে থাকেন না, ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যান।

ইতিবাচকতা একটি অভ্যাসের বিষয়ও বটে। সচেতনভাবে নিজের জগৎকে নিয়ে আসুন অন্ধকার থেকে আলোতে। নিজের ভাবনার উপর নিয়ন্ত্রণ আনুন। পত্রিকায় শুধু ভাল খবরগুলো পড়ুন। ভাল সিনেমা দেখুন। হাস্যরসাত্মক টিভি শো দেখুন।

শারীরিক ঘনিষ্ঠতা তৈরি করুন
একজন মানুষ যখন ভরসা করার মত আরেকজন মানুষ খুঁজে পান তখন তিনি অনেক নিশ্চিন্ত বোধ করেন। আপনার ভরসার মানুষটি হতে পারে আপনার মা, হতে পারে আপনার বন্ধু। আবার হতে পারে আপনার সঙ্গী, সন্তানসন্ততি। এই মানুষটি যেই হোক না কেন মাঝে তাকে জড়িয়ে ধরুন, তার হাতটা ধরুন। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা মানুষের মাঝে সুখানুভূতি বাড়ায়। হতাশা, বিষন্নতাকে দূর করে দেয়। নিয়মিত যৌনমিলন একজন মানুষকে সুখী এবং সন্তুষ্ট করে। স্পর্শ সম্পর্কের গভীরতাও বাড়ায়।

বিষন্নতাগ্রস্থ একজন মানুষ শুধু নিজের নয় আশেপাশের মানুষের জন্যও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। কিন্তু যিনি এই রোগে আক্রান্ত তিনি নাও বুঝতে পারেন তার প্রকৃত সমস্যা আসলে কী! এক্ষেত্রে বন্ধুবান্ধব এবং পরিবার সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারেন। মানুষটিকে আরও একা না করে দিয়ে তাকে থেরাপিস্টের কাছে নিয়ে যান। তার সাথে আড্ডা দিন, গল্প করুন। তাকে ফিরিয়ে আনুন আপনার মত সুন্দর একটি জীবনে।

Googleplus Pint
Anik Sutradhar
Posts 6760
Post Views 220