MysmsBD.ComLogin Sign Up

সেরা রান-আপের ৫ বোলার

In ক্রিকেট দুনিয়া - Nov 18 at 8:57am
সেরা রান-আপের ৫ বোলার

মাইকেল হোল্ডিং, শোয়েব আখতার, ডেনিস লিলি, ফ্রাঙ্ক টাইসন ও ডেইল স্টেইন

ক্রিকেট খেলার সূচনালগ্ন থেকেই ফাস্ট বোলারদের দিকে এক অন্যরকম আকর্ষণ ছিল সবারই। দিন দিন এই আকর্ষণের মাত্রা ক্রমশ বেড়েছে। বোলিং করার সময় ফাস্ট বোলারদের রান-আপ, বলের গতি, এমনকি দুর্দান্ত পেস যা ভক্তদের মনকে জয় করে নিয়েছে খুব অল্প সময়েই। বলতে গেলে ঠিক তখন থেকেই ক্রিকেট বিশ্বে ফাস্ট বোলারদের রাজত্ব শুরু।

সর্বকালের সেরা ফাস্ট বোলাররা তাদের এই লম্বা রান-আপ দিয়েই ব্যাটসম্যানদেরকে ভড়কে দিতে সক্ষম হয়েছেন অনেক সময়। তাছাড়া তাদের এই রান-আপ এবং বলের গতির কারণে অধিকাংশ সময়েই ব্যাটসম্যানরা পরাস্থ হয়ে বোল্ড হয়েছেন। অসংখ্য ফাস্ট বোলারদের মধ্যে সেরাদের থেকেও সেরা রান-আপের ফাস্ট বোলার নির্বাচন করা সত্যিই কঠিন বিষয়।

তবে বিশ্লেষকরা বছরের পর বছর বিভিন্ন বোলারদের বোলিং লাইনআপ গুলো বিশ্লেষণ করে সেরা রান-আপের ৫ জন শীর্ষ বোলার এর নাম প্রকাশ করেছেন।

৫. ডেইল স্টেইন : ডেইল স্টেইন এ প্রজন্মের সেরা ফাস্ট বোলারদের মধ্যে একজন। তিনি ১৪০ কিঃমিঃ এর বেশি গতিতেও বল করতে সক্ষম। যা একজন ব্যাটসম্যান এর জন্য খুবই ভয়ানক । তার এই গতির বিরুদ্ধে খেলাটা সহজ সাধ্য নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে প্রোটিয়া এ পেসার দিনের পর দিন তার এই রান-আপ এবং বলের গতি বাড়ানো নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তার এই অবিশ্বাস্য রান-আপের জন্য তিনি তার বলের গতি ও পেস বাড়িয়ে প্রতিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যানদেরকে খুব সহজেই পরাস্থ করতে পারছেন।

তবে ডেইল স্টেইনের ইনজুরি আবারও তাকে আধারের মাঝে ফেলে দিয়েছে। তিনি অস্ট্রেলিয়া সফরে ইনজুরিতে পড়ায় সিরিজ থেকে ছিটকে পড়েছেন। ডেইল স্টেইনের এই দ্রুত রান-আপের জন্য বেশির ভাগ সময় ব্যাটসম্যানরা বিভ্রান্তও হয়েছেন। তাইতো সেরা রান-আপের বোলারদের তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে তার নাম।

৪. ফ্রাঙ্ক টাইসন : ইংল্যান্ডের সাবেক ফাস্ট বোলার ফ্রাঙ্ক টাইসন। তিনি ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম কয়েকজন ফাস্ট বোলারদের একজন। যদিও তিনি তার টেস্ট ক্যারিয়ারে মাত্র ১৭টি টেস্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিংবদন্তি এই পেসারের দ্রুতগতির বোলিং এবং তার রান-আপের জন্য তার নাম দেয়া হয়েছিল “টাইফুন টাইসন”

৩৮ গজ রান-আপে বল করতেন এই “টাইফুন টাইসন”। এক কথায় সাহসী বোলার ছিলেন তিনি। তা না হলে এত বড় রান-আপ নিয়ে বল করা মুখের কথা নয়। তবে তার রান-আপ প্রচলিত ফাস্ট বোলারদের তুলনায় খুব আলাদা ছিল। এমনকি তিনি বল করার সময় সেই ভিন্ন রকমের রান-আপ নিয়েও অনেকটা গতিতে বল করতে পারতেন।

ফ্রাঙ্ক টাইসন তার সময়কার ব্যাটসম্যানদের কাছে ছিলেন এক আতঙ্কের নাম। তার এই হিংস্র গতির বোলিংয়ের স্বীকার হয়েছেন অসংখ্য ব্যাটসম্যান। তাইতো নিঃসন্দেহে সেরা রান-আপের বোলারদের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানেই রয়েছেন এই ফাস্ট বোলার “টাইফুন টাইসন”

৩. ডেনিস লিলি : সর্বকালের সেরা পেসারদের একজন “ডেনিস লিলি”। অস্ট্রেলিয়ার এই কিংবদন্তি পেসার মাঠে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে এক অন্যরকম কৌতূহল সৃষ্টি হত পুরো মাঠ জুড়ে। তার ক্যারিয়ারের শেষ অর্ধে তার বোলিং এবং রান-আপে আসে আরও অতিরিক্ত গতি, যা তাকে আরও হিংস্র করে তোলে। তিনি তার বোলিং প্রান্ত শুরু করতেন প্রায় অনেকটা দূরত্ব নিয়ে। তার এই দূরত্বের জন্য তিনি বলে অতিরিক্ত পেস দিতে সক্ষম ছিলেন। লিলি হাঁটতে হাঁটতে প্রায় সীমানার দিকে চলে যেতেন এবং সেখান থেকে ফিরে এসে বল করতেন। যার ফলে বলের গতির পরিমাণ ছিল অনেক বেশি।

তার এই রান-আপ এবং বলের গতির জন্য ব্যাটসম্যানদের হিমশিম খেতে হয়েছে।

২. শোয়েব আখতার : বিশ্ব ক্রিকেটে সবচেয়ে ভয়ংকর বোলার ছিলেন শোয়েব আখতার । ডাকনাম রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস। তিনি ক্যারিয়ারের প্রথম দিকের বছরগুলোতে অসাধারণ সাফল্যের মুখ দেখেন। পাকিস্তানি এ পেসার তার গতির জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক বোলারের খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৯৯ সালে কলকাতা টেস্টে অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। শচীন টেন্ডুলকার ও রাহুল দ্রাবিরের মতো ব্যাটসম্যানরা তার বল খেলতে হিমশিম খান। তাছাড়াও ভারতের বিপক্ষে ১৯৯৯ সালে এক টেস্টে তিনি তার অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্য দেখাতে সক্ষম হন। তার অসাধারণ বোলিং রান-আপ ও ধারাবাহিকতায় তার বলকে মোকাবেলা করতে যেকোনো ব্যাটসম্যানকে হিমশিমও খেতে হয়েছে।

ডানহাতি এই ফাস্ট বোলারের ২৯ শে নভেম্বর ১৯৯৭ সালে ওয়েস্টইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টে অভিষেক হয়। তিনি দ্রুত গতির বল ডেলিভারির জন্য অফিসিয়ালি বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন। অনেকটা বিশাল রান-আপেই বল করতেন তিনি। বাউন্ডারি লাইনের ইঞ্চি কয়েক দূর থেকে দৌড়ে এসে বল করতেন এই রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস। যার কারণে ব্যাটসম্যানদের উপর অনেকটা চাপের সৃষ্টি হত। অনেকটা বিশাল রান-আপ নিয়ে বোলিং করার জন্য তার ডাকনাম দেয়া হয়েছিল রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস।

কেপটাউনের নিউল্যাণ্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০০৩ সালে তার বোলিং স্পিড ছিল ঘণ্টায় ১৬১.৩৭ কিঃমিঃ (১০০.২৩ মাইল)। শোয়েব আখাতারের বোলিং ভঙ্গি ব্যাটসম্যানদের ভয় দেখানোর জন্য যথেষ্ট ছিল। তাইতো বিশ্ব ক্রিকেটে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বোলার ছিলেন এই রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস।

১. মাইকেল হোল্ডিং : ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা দ্রুতগতির বোলারদের একজন তিনি। ওয়েস্টইন্ডিজের ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা দ্রুতগতির বোলারদের একজন রূপে গণ্য করা হয় তাকে। বোলিং ক্রিজে শান্ত ভঙ্গিমায় অগ্রসর হওয়ার প্রেক্ষিতে আম্পায়ারগণ তাঁকে ‘হুইম্পায়ারিং ডেথ’ ডাকনামে ভূষিত করেন। তাঁর বোলিং ভঙ্গিমা অত্যন্ত মসৃণ ও দ্রুত। তিনি তাঁর শারীরিক উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে পিচে বড় আকারের বাউন্স দিতে সক্ষম ছিলেন।

আশির দশকের প্রথম দিকে বিশ্ব ক্রিকেটাঙ্গনে ভীতিকর বোলিং করে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিতেন তিনি। টেস্ট জীবনের শুরুর দিকে ওয়েস্টইন্ডিজের পক্ষে সেরা বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন ১৪/১৪৯, যা আজ অব্দি টিকে রয়েছে।

তাঁর এই বোলিং ও সেরা রান-আপের জন্য তাঁকে সেরা রান-আপের বোলারদের শীর্ষে স্থান দেয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্রঃ অনলাইন

Googleplus Pint
Anik Sutradhar
Posts 7054
Post Views 290