MysmsBD.ComLogin Sign Up

একজন আর্দশ বাবার মাঝে থাকে যে ৭টি গুণ

In লাইফ স্টাইল - Nov 16 at 1:43pm
একজন আর্দশ বাবার মাঝে থাকে যে ৭টি গুণ

“বাবা” নির্ভরতার অপর নাম। একজন মেয়ে সন্তানের প্রথম ভালোবাসা এবং ছেলে সন্তানের প্রথম হিরো হয়ে থাকেন বাবা। সন্তানের মুখের এক চিলতে হাসির জন্য বাবার যত চেষ্টা। আপনি কি জানেন প্রত্যেক সন্তানের রোল মডেল হয়ে থাকেন একজন বাবা? বাবাকে অনুসরণ করে বড় হয় প্রত্যেক সন্তান। তাই একজন বাবাকে ভালো বাবার হওয়ার পাশাপাশি একজন আর্দশ মানুষ হওয়া প্রয়োজন। একজন আর্দশ বাবার মধ্যে কিছু বৈশ্যিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে। যা তাকে তার সন্তানের কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি একজন ভালো মানুষ হিসেবে তৈরি করে।

১। সন্তানকে উৎসাহ দিন
সন্তানকে ভালোবাসুন, সম্মান করুন। ভালো কাজে উৎসাহ দিন। “তুমি এটা পারবে না”, “তোমাকে দিয়ে এই কাজ হবে না” এইধরণের কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। সন্তানরা নতুন কিছু করতে, চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে ভয় পায়। তাদের কাজে উৎসাহ দিন। আপনার উৎসাহ তাদের নতুন কিছু করার সাহস দিবে।

২। সন্তানের সাথে সময় কাটান
কর্মব্যস্ততার কারণে বাবারা সন্তানকে বেশি সময় দিতে পারেন না। তবে সন্তানকে সময় দেওয়া প্রতিটি বাবার কর্তব্য। যত ব্যস্ত থাকুন না কেন দিনের কিছুটা সময় সন্তানের জন্য রেখে দিন। এটি আপনার সাথে সন্তানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হবে। সন্তানের সাথে খেলা করুন, গল্প করতে পারেন অথবা তাকে নিয়ে কোথাও থেকে ঘুরে আসতে পারেন। এই কাজটি আপনাদের মধ্যে দূরত্ব দূর করে একটি সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করবে।

৩। প্রত্যেক সন্তান সমান
আপনার যদি একের অধিক সন্তান থাকে, তবে তাদের সমান আদর করুন, সমান ভালোবাসুন। একজন সন্তানের প্রতি আপনার বাড়তি ভালোবাসা, অপর সন্তানকে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগাবে।

৪। সন্তানের গায়ে হাত তুলবেন না
সন্তানের গায়ে ভুলেও হাত তুলবেন না। অনেক সময় বাবারা সন্তানের গায়ে হাত তুলে থাকেন। এটি সন্তানের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সন্তান ভুল করতে পারে, তাকে সেটি বুঝিয়ে বলুন। মারধর কোন সমস্যার সমাধান হতে পারে না। নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণ রাখার চেষ্টা করুন। কারণ আপনার রাগ তার মনে ভয় তৈরি করবে। সে আপনাকে সম্মান করার পরিবর্তে ভয় পাবে।

৫। সত্য বলুন
বাবারা অনেক সময় সন্তানকে খুশি করার জন্য মিথ্যা কথা বলে থাকেন। এই ছোট ছোট মিথ্যাগুলো সন্তানের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আপনার সন্তানের প্রশ্নের সত্য উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করুন। মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। আপনার মিথ্যা বলা দেখে সে মিথ্যা কথা বলা শিখবে।

৬। গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলো মনে রাখুন
সন্তানের জন্মদিন, পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান কিংবা স্কুলের কোন অনুষ্ঠানের তারিখ মনে রাখুন। প্রয়োজনে মোবাইল কিংবা নোট বুকে তারিখ লিখে রাখুন। ক্যালেন্ডারে দাগও দিয়ে রাখতে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে সন্তানের জন্য বিশেষ কিছু করার চেষ্টা করুন। আপনার ছোট একটি চেষ্টা আপনাকে সন্তানের কাছে আপনাকে হিরো করে তুলবে।

৭। ভাল মানুষ হওয়ার চেষ্টা করুন
আপনার সন্তান ভাল, খারাপ সব কিছু আপনার কাছ থেকে শিক্ষা পাবে। তাই একজন ভাল মানুষ হওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানের সামনে এমন কোন কিছু করবেন না যা সন্তানের মনে আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করবে। দাম্পত্য কোলাহল থেকে সন্তানকে সবসময় দূরে রাখুন।

সন্তান লালন পালন পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন, চ্যালেঞ্জিং এবং আনন্দদায়ক একটি কাজ। আর এই কঠিন কাজটি করতে একজন বাবাকে সাবধানে করতে হয়। তার একটি ছোট ভুল নষ্ট করে দিতে পারে সন্তানের সাথে সম্পর্ক। মনে রাখবেন একজন বাবা হতে পারে সন্তানের শ্রেষ্ঠ বন্ধু।

Googleplus Pint
Anik Sutradhar
Posts 7007
Post Views 181