MysmsBD.ComLogin Sign Up

Search Unlimited Music, Videos And Download Free @ Tube Downloader

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে খাদ্য তালিকায় যোগ করুন ১০ সুপারফুড

In সাস্থ্যকথা/হেলথ-টিপস - Nov 15 at 1:52pm
ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে খাদ্য তালিকায় যোগ করুন ১০ সুপারফুড

ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদি জীবন-যাপন বিশৃঙ্খলা। শুধু জেনেটিক উপাদান নয় বরং পরিবেশগত উপাদানও ডায়াবেটিস হওয়ার পেছনে ভুমিকা রাখে।

সঠিক খাদ্য গ্রহণ এবং দেহের একটি স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দেহের মোট ওজনের ৫-১০% ওজন কমানোর মাধ্যমে রক্তচাপ, ব্লাড সুগার এবং কোলোস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে রাখা সম্ভব।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কোনো লোকের উচিৎ এমন খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা যাতে ক্যালোরি এবং কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম। এছাড়া পরিমিত পরিমাণে স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ খাবার। যার প্রধান উপাদানগুলো হবে, আস্ত শস্যদানা, শাক-সবজি এবং নিম্ন জিআই যুক্ত খাদ্য।

এছাড় আপনার খাদ্য তালিকায় উচ্চ আঁশযুক্ত এবং ধীরগতিতে ক্যালোরি পোড়ানো খাদ্য যুক্ত করুন। সামষ্টিক এবং ব্যাষ্টিক পুষ্টি উপাদানের পাশাপাশি রক্তের সুগারের মাত্রায় কী প্রভাব ফেলে তা বিবেচনায় রেখে খাদ্য বাছাই করা উত্তম।

• এখানে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি এমন ১০টি পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাবারের বিবরণ দেওয়া হলো....

১. নিম্ন শ্বেতসারযুক্ত শাকসবজি
ফলকপি, বিট-পালং এবং শতমূলীর মতো নিম্ন শ্বেতসারযুক্ত শাকসবজি একটি সন্তোষজনক খাবার পছন্দ সরবরাহ করে। এতে এমনকি কার্বোহাইড্রেট উপাদানও কম থাকে। এতে যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন, খনিজ, আঁশ এবং ফাইটোনিউট্রিয়েন্টও রয়েছে।

২. নিম্ন বা একেবারে চর্বিহীন দুগ্ধজাত পণ্য
পাস্তুরিত দুধ এবং দইয়ের মতো নিম্ন চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত পণ্যে রয়েছে রক্তে সুগারের মাত্রা কমিয়ে রাখার মতো উপাদান। এসব খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন ডি সরবরাহ করে যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এই পণ্যগুলোতে ক্যালোরি উপাদানও কম যার ফলে এসব খাদ্য ওজন কমানোর জন্যও আদর্শিকভাবে উপযুক্ত।

৩. টমেটো
টমেটো প্রাকৃতিকভাবেই লিকোপেন সমৃদ্ধ। এই উপাদানটি হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে বেশ সহায়ক। যা রক্ত চাপ কমায় এবং ডায়াবেটিস সংশ্লিষ্ট জটিলতাও নিরসন করে।

৪. বাদাম
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বাদাম ভালো এবং সুস্বাদু উপায়। বাদামে রয়েছে প্রচুর আঁশজাতীয় উপাদান এবং স্বল্প পরিমাণ হজমযোগ্য কার্বোহাইড্রেট। বাদামের গন্ধসার তৈল এবং সার্বিক পুষ্টি উপাদানগুলো ডায়াবেটিক প্রদাহ, রক্তে সুগার এবং এইচবি এ ওয়ান সি ও এলডিএল এর মাত্রা কমায়।

৫. শণ বীজ
শণ বীজে রয়েছে অদ্রবণীয় আঁশ যাকে লিগনান নামে ডাকা হয়। যা কিনা আবার ডায়াবেটিস সংক্রান্ত জটিলতাও দূর করে। এবং স্ট্রোক ও রক্তে সুগারের মাত্রা কমিয়ে রাখে। শণবীজ অন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।

৬. রসুন
রসুন একটি স্বাস্থ্যকর সুপার ফুড। ঐতিহ্যগতভাবে এটি রক্তচাপ কমানোর জন্য বিখ্যাত। বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রদাহ কমানো, রক্তের গ্লুকোজ এবং টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এলডিএল বা বাজে কোলোস্টেরল কমাতে এটি বেশ কার্যকর।

৭. ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ মাছ
শ্যামন, হেরিং, সার্ডিন এবং ম্যাকারেল সহ পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ মাছে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। আর এতে কোনো কার্বোহাইড্রেট উপাদান নেই। এসব সেলেনিয়াম এবং ভিটামিন ডি উপাদানেও সমৃদ্ধ যা স্বাস্থ্যকর পরিপাক পক্রিয়ার জন্য জরুরি। এসব খাদ্য হজম প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং স্বল্প ক্যালোরি যুক্ত পুর্ণবেলা খাবার তৈরি করে। এসব খাবার বিএমআই নিয়ন্ত্রণের জন্যও আদর্শ খাবার।

৮. পূর্ণ শস্য
বার্লি এবং ডালের মতো পূর্ণ শস্যদানা জাতীয় খাদ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং আঁশজাতীয় উপাদান। এসব খাদ্য পেটের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে এবং হজম প্রক্রিয়াকে স্বাস্থ্যকর রাখতে সহায়ক। এসব খাবার এলডিএল কোলোস্টেরল কমাতে এবং রক্তে সুগারের মাত্রা স্থিতিশীল রাখতেও বেশ সহায়ক। যা আবার ভিটামিন বি, আয়রন এবং প্রোটিনেরও চমৎকার উৎস।

৯. বাদামি চাল
এতে রয়েছে আঁশ সমৃদ্ধ উপাদান। যা দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় দুটোই। এটি গুদামজাত পুষ্টি উপাদানের একটি বড় উৎস। এই চাল রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে এবং রক্তচাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশ কার্যকর।

১০. হলুদ
হলুদে পাওয়া যায় কারকুমিন নামের একটি সক্রিয় উপাদান। যা রক্তে সুগারের মাত্রা কমিয়ে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। এটি বেশ কিছু সংখ্যক হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিস সংশ্লিষ্ট কিডনি রোগ প্রতিরোধ করে বলে কথিত আছে।

অস্বাস্থ্যকর জীবন-যাত্রার ধরন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের মাঝে এই রোগের তীব্রতা মারাত্মকভাবে বাড়ায়। যার ফলে তারা আরো বেশি কিছু ঝুঁকিতে পড়ে যান। ডায়াবেটিস বান্ধব খাদ্য প্রদাহ এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। যা নাটকীয়ভাবে স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটাতে এবং জটিলতা কমিয়ে আনতে পারে।

আর প্রতিদিন অনুকূল শারীরিক কার্যকলাপের মাধ্যমে ডায়েটকে সম্পূরক সহায়তা দিন। অ্যালকোহল সেবন এবং ধুমপান কমিয়ে দিন যাতে একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যায়।

Googleplus Pint
Anik Sutradhar
Posts 6748
Post Views 111