MysmsBD.ComLogin Sign Up

বিয়ের বন্ধন টিকিয়ে রাখতে হলে যা করতে হবে

In লাইফ স্টাইল - Nov 11 at 1:22pm
বিয়ের বন্ধন টিকিয়ে রাখতে হলে যা করতে হবে

কোনো অনুতাপ ছাড়াই কারো সঙ্গে আজীবন কাটিয়ে দিতে হলে কী করতে হয়? শুধু ভালোবাসা আর বন্দোবস্তের মাধ্যমেই এটা সম্ভব নয়। আসুন দেখে নেওয়া যাক এ ব্যাপারে কী বলছেন যুগলরা…

বিয়ে টেকানো সবসময়ই একটু কঠিন কাজ। কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন কেন কারো কারো বিয়ে টিকে থাকে আর অন্যদের বিয়ে টেকে না। আমাদের বড়রা বিয়েকে একটি জীবনব্যাপী যাত্রা হিসেবে দেখে থাকেন। কিন্তু এখন আর লোকের পক্ষে খুব বেশি দিন কোনো কিছুতে টিকে থাকা সম্ভব হয় না।

যেসব যুগল দশকের পর দশক ধরে বিয়ে টিকিয়ে রেখেছেন তারা কখনোই তাদের মধ্যকার সংঘাতকে বিয়ের চেয়ে বেশি বড় হতে দেননি। অথচ আজকাল অতি ছোটখাটো বা তুচ্ছ একটি ইস্যুতেও লোকে বিয়ের সম্পর্ক ভেঙ্গে ফেলতে বা অন্তত ভাঙ্গার চিন্তা শুরু করতে দ্বিধা করেন না।

কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো, জীবনভর বিয়েকে টিকিয়ে রাখতে হলে কী করতে হবে?

৪০ বছর ধরে সংসার করছেন, এমন এক যুগল বলেন, বিয়ে টিকিয়ে রাখার উপায় কারো নিজ হাতেই রয়েছে। এর জন্য ধৈর্য্য, সহনশীলতা এবং প্রচুর পরিমাণ বোঝাপড়ার দরকার হয়।

কিন্তু এখনকার প্রজন্ম খুব অল্পতেই পরস্পরের ওপর তিতিবিরক্ত হয়ে ওঠে। আপনার যাত্রাটি যদি হয় অতিবেশি মসৃণ তাহলে এটা কোনো তামাশা নয়। বিবাহিত জীবনে অনেক উত্থান-পতন থাকবে। এতে বিরক্ত না হয়ে বরং তা উপভোগ করুন। আপনাকে ধৈর্য্যশীল হতে হবে। এতে অনেক দেওয়া-নেওয়া আছে। আপনাকে আপনার বিয়েটিকে প্রতিপালন করতে হবে এবং একে আমৃত্যু টিকিয়ে রাখার জন্য বিশেষভাবে কাজ করতে হবে। বিয়ের সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কাজ করে অবাস্তব প্রত্যাশা। বিশেষ করে এমন এক বাস্তবতা যেখানে যৌথ পারিবারিক ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো দৃঢ় সহায়তামুলক পদ্ধতি নেই। বা যেখানে এখন আর আবেগগত সহায়তার জন্য বড়দেরকে কাছে পাওয়া যায় না।

“ছেড়ে যেতে অস্বীকার করুন”
যে একটি বিষয় কোনো বিয়ের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বড় ভুমিকা পালন করে তা হলো ছেড়ে যেতে অস্বীকার করা। রাগের মাথায় বেদনাদায়ক শব্দ ব্যবহারের ফলে আত্মার ওপর দাগ পড়ে যেতে পারে। সুতরাং যখনই রাগ হবে বা মন খারাপ করবে ৫ কিলোমিটার দৌড়ে আসুন। মুখে টেপ মেরে দৌড়ান। আর মনে রাখবেন, বিতর্ক অনিবার্য বিষয়। কিন্তু স্বাস্থ্যকর উপায়ে বিতর্ক করুন এবং শুধুমাত্র যে ইস্যুতে বিতর্ক হচ্ছে তাতেই সীমিত থাকুন।

কখনোই খুব বেশি ব্যক্তিগত স্বার্থসংকীর্ণ আচরণ করবেন না এবং সঙ্গী বা সঙ্গীনির প্রতিটি ভুল শুধরে দেওয়ার চেষ্টা করুন।

আর যখনই বিয়ের চিন্তা করবেন তখনই এ-সংক্রান্ত আসন্ন সমস্যাগুলো মোকাবিলায় নিজেকে প্রস্তুত করুন। সকল বিয়ের সমস্যা মোকাবিলায় একক কোনো নিয়ম নেই। কিন্তু নির্দিষ্ট কিছু প্রবণতা আছে যা বিশ্বব্যাপী দীর্ঘস্থায়ী বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ যুগলদের সকলের মধ্যে দেখা যায়।

সম্প্রতি টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে বলা হয়, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং স্বাভাবিকতা ধরে রাখা। এতে আরো বলা হয়, একেবারে কোনো যোগাযোগ না হওয়ার চেয়ে বরং নেতিবাচক যোগাযোগও ভালো। আর সুখকর উপায়ে সংঘাতগুলোর অবসান করতে শিখুন। এছাড়া বিতর্ক করাও ভালো।

এখনকার বিয়েতে সবচেয়ে বেশি যা দরকার হয় তা হলো বোঝাপড়া এবং মানিয়ে নেওয়া। আপনি এবং আপনার সঙ্গী বা সঙ্গীনি একই ধরনের গান পছন্দ করলেই যে, আপনাদের সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আপনাদের একই ধরনের আগ্রহ থাকারও কোনো দরকার নেই। যা সবচেয়ে বেশি দরকার তা হলো, ভিন্নতা সত্ত্বেও পরস্পরের প্রতি আগ্রহ। এমন অনেক যুগল আছেন যারা পাঁচ, ছয় এবং এমনকি সাত দশক ধরে সুখী দাম্পত্য জীবন-যাপন করছেন।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে যুগলদের বেশিরভাগই বিয়ের এক দশক পরেও পরস্পরের প্রতি গভীর ভালোবাস অনুভব করেন।

জার্নাল অফ সোশ্যাল সাইকোলজিক্যাল অ্যান্ড পার্সোনালিটি সায়েন্সের এক প্রতিবেদেন বলা হয়েছে, সঙ্গী বা সঙ্গীনির সম্পর্কে ইতবাচকভাবে চিন্তা করা বিয়ের সম্পর্কে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করে।

“সহানুভূতি ভালোবাসা টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে”
১৭ বছর ধরে বিবাহিত এক ‍যুগল বলেন, “সহানুভূতি ভালোবাসা টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে। আপনি যদি বিবাহিত থাকতে চান তাহলে কীভাবে অন্ধকারের মধ্য দিয়ে সাঁতার কেটে সামনে এগিয়ে যেতে হয় তা শিখুন।”

বিয়ে টিকিয়ে রাখতে হলে খুব বেশি সমালোচনামূলক বা আগ্রাসী না হয়েই কীভবে সংঘাত নিরসন করতে হয় তার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আর যুগলবন্দি জীবন-যাপন করতে গিয়ে নিজেকে বদলে ফেলার জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে। আর পরস্পর পরস্পরের আত্মসম্মানবোধ বৃদ্ধির জন্য সহায়ক হওয়ার ব্যাপারেও প্রতিশ্রুতিশীল হতে হবে।

প্রতিশ্রুতিশীলতা
যুগলবন্দি জীবন-যাপন করতে গেলে পরস্পরের ভিন্নতাগুলো মেনে নিতে হবে, বদঅভ্যাস এবং নেশাগুলো ত্যাগ করতে হবে এবং পরস্পরের প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল হওয়ার মধ্য দিয়েই স্বাধীনতা খুঁজতে হবে।

যে কোনো যৌথ উদ্যোগের মতো দাম্পত্য সম্পর্ককেও টিকে থাকার জন্য লাভজনক হতে হবে। তাহলেই একমাত্র ভালোবাসাটা টিকে থাকবে। তবে পরিবারে কে কী অবদান রাখল তার হিসাব না করে বরং ছাড় দেওয়ার মানসিকতা লালন করতে হবে। কারণ এখানেই সম্পর্কে চিড় ধরে যখন যুগলদের কোনো একজন অনুভব করেন যে তিনি পরিবারের জন্য বেশি অবদান রাখছেন অথচ বিনিময়ে পাচ্ছেন অনেক কম।

Googleplus Pint
Anik Sutradhar
Posts 6973
Post Views 318