MysmsBD.ComLogin Sign Up

[Trick] Uc Browser দিচ্ছে ৪০০০টাকা করে বিকাশে। বাংলাদেশ থেকে প্রথম থেকে ৪০০০ জন পাবে ৪০০০ টাকা করে ।

আতঙ্কে বাড়িছাড়া নারী-পুরুষ, ভয়ে স্কুলে যাচ্ছে না ছোটরা!

In দেশের খবর - Nov 10 at 9:16am
আতঙ্কে বাড়িছাড়া নারী-পুরুষ, ভয়ে স্কুলে যাচ্ছে না ছোটরা!

রংপুর চিনিকলের আওতাধীন গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জায়গা থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদের সময় হামলা, বাড়িঘরে অগি্নসংযোগ এবং লুটপাটের যে ঘটনা ঘটেছে তার আতঙ্ক কাটেনি। আতঙ্কে তাদের ছেলেমেয়েরা স্কুল-কলেজে যাচ্ছে না।

এমনকি বয়স্করা হাট-বাজারে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না। এ যখন পরিস্থিতি তখন পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় বিমল কিসকু (৪০), চরণ (৫০), দ্বিজেন টুডু (৩৫), মাজিয়া হেমব্রম (৫০) নামে সাঁওতালদের চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত শনিবারের হামলা এবং সংঘর্ষের ঘটনায় শ্যামল হেমব্রম ও মঙ্গল টুডু নামে দু'জন নিহত হয়েছেন বলে পুলিশ স্বীকার করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল হান্নান জানিয়েছেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উচ্ছেদ করা জায়গায় মিল কর্তৃপক্ষ কংক্রিটের খুঁটি বসিয়ে কাঁটাতার দিয়ে সীমানা ঘেরাও করে রাখার কাজ শুরু করেছে।

এদিকে উচ্ছেদ অভিযানের পর খামার-সংলগ্ন গোবিন্দগঞ্জের সাপমারা ইউনিয়নের মাদারপুর ও জয়পুর গ্রামের সাঁওতালদের বাড়িঘরে হামলা, গরু-ছাগল লুটপাটের ঘটনার পর থেকে সাঁওতাল পল্লীতে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের ছেলেমেয়েরা ভয়ে স্কুল, কলেজ ও হাট-বাজারে যেতে পারছে না।

মেরিনা সরেন (২০) নামে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী জানান, তার বাড়ি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মাদারপুর গ্রামে। বাড়ি থেকেই তিনি নিয়মিত কলেজে যাতায়াত করতেন।

ওই সংঘর্ষের ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখানোর ফলে তিনি কলেজে যাচ্ছেন না। শুধু মেরিনা সরেন নন, ওই গ্রামের অর্ধশতাধিক আদিবাসী শিক্ষার্থী নিরাপত্তাহীনতার কারণে স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না বলে জানায়।

সাঁওতাল সম্প্রদায়ের লোকজনের অভিযোগ মিল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির নির্দেশে নির্মমভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের মাদারপুর সাঁওতাল পল্লীর বাসিন্দা মুগলু টুডু জানান, যৌথ বাহিনীর অভিযানের পর তাদের সম্প্রদায়ের বেশকিছু লোক এলাকা ত্যাগ করে বিভিন্ন স্থানে চলে যান।

তারপরও স্থানীয় লোকজন তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে গরু-ছাগল লুটপাট করে এবং ভয়ভীতি দেখায়। গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার জানান, সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমি উদ্ধারসহ রংপুর চিনিকলের সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল হান্নান জানান, চিনি কলের আওতাধীন উপজেলার সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের দখল হয়ে যাওয়া এক হাজার একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে। সাঁওতাল পরিবারগুলো এখন কর্মহীন হয়ে পড়ায় নানাভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাদের কর্মসংস্থান, বাসস্থানসহ নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার জন্য সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে বুধবার দুপুরে ঢাকা থেকে আসা একটি মানবাধিকার সংগঠনের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ূয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক স্বপন আদনান, ব্যারিস্টার হাসনাত কাইয়ুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোসাহিদা সুলতানা, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য ফিরোজ আহমেদ, গণশিল্পী অরূপ রাহি, মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির নেতা জাকির হোসেন ও রেজাউর রহমান গোবিন্দগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতাল পল্লী পরিদর্শন করেন এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন।

এ ছাড়া মাদার তেরেসা চ্যারিটি ফাউন্ডেশন ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে চাল ও বস্ত্র বিতরণ করেছে। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তারা সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার থেকে আদিবাসীদের উচ্ছেদ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

গোবিন্দগঞ্জের ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের দু'পাশে এক হাজার ৮৪২ একর এলাকাজুড়ে সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার। এর মধ্যে ১০ একর জমি রয়েছে মহাসড়কের দু'পাশে। চিনি কলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল আউয়ালের দাবি, হঠাৎ করেই আট মাস আগে স্থানীয় কিছু সাঁওতাল সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের এক হাজার ৮৪২ একর জমির মধ্যে এক হাজার ২০০ একর জমি দখলে নিয়ে তাতে ঘরবাড়ি তুলে বসবাস শুরু করেন।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন সমকালের কাছে বলেন, রংপুর সুগার মিলের জন্য অধিগ্রহণের নামে পূর্ব পাকিস্তান সরকার এ জায়গা কেড়ে নিয়েছিল।

অধিগ্রহণের ফলে ১৫টি আদিবাসী ও পাঁচটি বাঙালি গ্রাম উচ্ছেদ হয়। কথা ছিল অধিগ্রহণের নামে নেওয়া এই জমিতে আখ চাষ হবে। অন্য কোনো ফসল চাষ করা হলে বা চিনিকলের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সম্পর্কহীন কোনো কিছু করা হলে এসব জমি ক্ষতিপূরণ ভূমি মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে। চিনিকল কর্তৃপক্ষের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে ২০০৪ সালের ৩১ মার্চ কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

পরে নানা সময় একবার চালু হয়, আবার বন্ধ হয় এভাবেই চলতে থাকে কলটি। চিনিকল কর্তৃপক্ষ ইক্ষু চাষের জন্য অধিগ্রহণ করা জমি বহিরাগত প্রভাবশালীদের কাছে ইজারা দিতে শুরু করে। এর ফলে বিরোধ শুরু হয় জমির আদি বাসিন্দাদের সঙ্গে।সমকাল

[Trick] Uc Browser দিচ্ছে ৪০০০ টাকা করে বিকাশে। বাংলাদেশ থেকে প্রথম থেকে ৪০০০ জন পাবে ৪০০০ টাকা করে ।

Googleplus Pint
Noyon Khan
Posts 3450
Post Views 377