MysmsBD.ComLogin Sign Up

যেভাবে পড়শি যুবকদের বিশ্বাসের খেশারত দিলো দুই কিশোরী!

In আন্তর্জাতিক - Oct 31 at 9:27pm
যেভাবে পড়শি যুবকদের বিশ্বাসের খেশারত দিলো দুই কিশোরী!

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কালীপুজা দেখতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হলো একই পরিবারের দুই কিশোরী। এরপর লজ্জা ও অপমানের হাত থেকে বাঁচতে একজন কীটনাশক খেয়েছে, তার চিকিৎসা চলছে।

আরেকজন গলায় দড়ি দিয়েছে, সে আর বেঁচে নেই। পড়শি যুবকদের বিশ্বাস করে তার খেশারত এভাবেই দিলো ওই দুই কিশোরী। মাথাভাঙার হাজরাহাট পঞ্চায়েত এলাকায় বেলেরডাঙা গ্রামে শনিবার রাতে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নবম শ্রেণির ওই দুই ছাত্রী সম্পর্কে ফুফু-ভাইঝি। বেলেরডাঙা গ্রামে তাদের বাড়িও পাশাপাশি। পরিবারের সকলেই চাষের কাজ করেন।

অভিযুক্ত দুই যুবকের বয়সও বেশি নয়। তাদের সঙ্গে আগে থেকেই ওই দুই কিশোরীর পরিচয় ছিল। যুবকেরা পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে অনেক আগেই। একজন ট্রাক্টর চালায়, আরেক জন খেতে কাজ করে।

ওই দুই কিশোরীর বাড়ির লোকজনদের অভিযোগ, যুবকদের সঙ্গে মেয়ে দু’টি কালীপুজা দেখতে বেরিয়েছিল।

রাতে বাড়ি ফিরে তারা দু’জনেই ভেঙে পড়ে। জানায়, ওই দুই যুবক তাদের ধর্ষণ করেছে। বাড়ির লোকেদের কাছে তাদের দাবি, বেরোনোর পরেই যুবকদের অভিসন্ধি বুঝতে পেরে তারা ফিরে আসতে চেয়েছিল। তখন তাদের টেনে হিঁচড়ে কাছের একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ওই যুবকেরা ধর্ষণ করে।

বাড়ি ফিরে মেয়ে দু’টি প্রথমে সব কথা খুলে বলে। তারপরে কেউ কিছু বোঝার আগেই একজন কীটনাশক খেয়ে নেয়। তাকে কোচবিহার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

মেয়েটির চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেনি পরিবার। রোববার দুপুরে দুই কিশোরীর পরিবারই থানায় যায়। ঠিক সেই সময়েই ফাঁকা বাড়ি পেয়ে অন্য মেয়েটি গলায় দড়ি দেয় বলে জানা গেছে।

যে কিশোরী কীটনাশক খেয়েছে, তার মামা বলেন, ‘ওদের দু’জনকে বাড়িতে কোনোরকম বকাবকি করা হয়নি। আমরা বুঝতেই পারছিলাম, ওরা ঘটনার শিকার হয়ে পড়েছে। কিন্তু তাই বলে এমন কাণ্ড করবে, তা কল্পনাও করতে পারিনি।’ তিনি জানান, পুলিশের কাছে সব কথাই খুলে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত কিশোরীর ময়নাতদন্ত হচ্ছে। তা থেকেই জানা যাবে, তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কি না। অসুস্থ কিশোরী খানিকটা সুস্থ হলে তার জবানবন্দি নেয়া হবে।

ডাক্তারি পরীক্ষাও করা হবে। কোচবিহারের পুলিশ সুপার অনুপ জায়সওয়াল বলেন, ‘যেমন অভিযোগ হয়েছে, তেমনই মামলা দেয়া হচ্ছে।’ অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশিও শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

দীপাবলির রাতে এই ঘটনায় রাতারাতি বদলে গেছে গোটা গ্রামেরই চেহারা। রোববার রাতে প্রদীপ জ্বলেনি তেমনভাবে।

তার উপর এলাকারই দুই যুবক অভিযুক্ত হওয়ায় গ্রামের মানুষের মন আরো ভেঙে গেছে। গ্রামবাসীদের কয়েকজন জানান, তাঁদের এলাকাটি এমনিতে শান্তিপ্রিয় বলেই পরিচিত। গ্রামের ছেলেরাই এমন গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত হবে, সে কথা তাঁরা ভাবতেই পারছেন না।

চিকিৎসাধীন কিশোরীর বাবা বলেন, ‘দীপাবলির দিন আনন্দ করবে ভেবেছিল মেয়েটা। আলোর উৎসবের সেই দিনটাই জীবনে অন্ধকার নিয়ে আসবে দুঃস্বপ্নেও মনে হয়নি।’

আত্মঘাতী কিশোরীও খুবই প্রাণবন্ত ছিল বলে জানিয়েছে তার পরিবার ও গ্রামের লোকেরা। নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই দুই কিশোরীই নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিল। মাথাভাঙা-১ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য আবু তালেব আজাদ বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার। পুলিশের তদন্তেই সব কিছু স্পষ্ট হয়ে যাবে। দোষীরা পার পাবে না।’

হাজরাহাট-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মণিমালা বর্মন বলেন, ‘এলাকার ছেলেরাই এমন করলো, এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। সাঙ্ঘাতিক ঘটনা। দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই।’

আর মাথাভাঙার ডিওয়াইএফআই নেতা কাজল রায় বলেন, ‘উদ্বেগজনক ঘটনা। এমন হলে তো মহিলারা বাড়ির বাইরে যেতেই ভয় পাবেন!’

পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে নারী নির্যাতনের অজস্র ঘটনা বেশ কয়েক বছর ধরেই বারবার সংবাদের শিরোনামে আসছে। তার মধ্যে অনেকগুলিতেই লালসার শিকার হতে দেখা যাচ্ছে নাবালিকা-কিশোরীদের। কিশোর মনে এমন ঘটনার প্রভাব যে কত মারাত্মক হতে পারে, এই দুই মেয়ে সেটাই আবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখালো।

সূত্র-আনন্দবাজার।

Googleplus Pint
Noyon Khan
Posts 3495
Post Views 939