MysmsBD.ComLogin Sign Up

বরিশাল শিক্ষাবোর্ড: জেএসসি পরীক্ষার্থীর বয়স ১১২ বছর!

In পড়াশোনা নিউজ - Oct 30 at 6:03pm
বরিশাল শিক্ষাবোর্ড: জেএসসি পরীক্ষার্থীর বয়স ১১২ বছর!

বরিশাল তিনিধি– নিয়ম অনুযায়ী জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার্থীদের বয়স কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে। এর কম হলে ওই শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারবেনা। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো বরিশালে এবার যারা জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে তাদের অনেকের বয়স ১১২ বছর!

বিষয়টি অনেকটা আশ্চর্যের শোনালেও এবছর জেএসসি পরীক্ষার্থীদের যে প্রবেশপত্র এসেছে সেখানে জন্ম তারিখ অনুযায়ী হিসেব করলে অস্টম শ্রেনীর ছাত্র/ছাত্রীর বয়স ১১২ বছরে দাঁড়ায়। সব পরীক্ষার্থীর ক্ষেত্রে যে এমনটা ঘটেছে তা নয়।

যেসব পরীক্ষার্থীর জন্ম সাল ২০০৪ তাদের ক্ষেত্রেই এ ধরনের ভুল হয়েছে। ২০০৪ সালের স্থানে জন্ম তারিখ লেখা রয়েছে ১৯০৪। সে হিসেবে জেএসসি পরীক্ষার্থীর বয়স ১১২ বছর হয়। যদিও শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে এ বিষয়ে নোটিশ জারি করেছেন। জন্ম তারিখ সংখ্যায় ভুল হলেও কথায় লেখা ঠিক আছে। ফলে কোন শিক্ষার্থীর জন্ম তারিখ সংশোধনের প্রয়োজন নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের অধীন ১৬শ ৮৪ স্কুলেই এ ধরনের কমবেশি জন্ম তারিখ ভুল হয়েছে।

জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, জন্ম সাল অনেকের ২০০৪ আবার অনেকের ২০০৩ সাল। কারো কারো জন্ম সাল ২০০৫ রয়েছে। তবে যেসব পরীক্ষার্থীর জন্ম সাল ২০০৪ তাদের ক্ষেত্রেই ভুলে ১৯০৪ লেখা হয়েছে। সংখ্যায় ভুল হলেও কথায় ঠিক আছে। শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে নোটিশ দিয়েছেন যাদের জন্ম সাল ১৯০৪ হয়েছে কিন্তু কথায় ঠিক আছে তাদের সংশোধনের কোন প্রয়োজন নেই। পরীক্ষার সনদপত্রে সঠিক জন্ম তারিখই উল্লেখ থাকবে।

এ ধরনের ভুল ধরার পড়ার পর শিক্ষা বোর্ডের নিজস্ব ওয়েব সাইটে একটি নোটিশ দেয়া হয়েছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ শাহ আলমঙ্গীর স্বাক্ষরিত নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে ২০১৬ সালের জেএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্রে যাদের জন্ম সাল ২০০৪ এর স্থানে সংখ্যায় ১৯০৫ ছাপা হয়েছে কিন্তু কথায় ঠিক আছে তাদের প্রবেশপত্র সংশোধনের প্রয়োজন নেই। বোর্ডে সংরক্ষিত তথ্যে তা সংশোধন করে দেয়া হয়েছে।

আলাপকালে শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মু. জিয়াউল হক বলেন, জন্ম সালের জায়গায় ২০০৪ সাল সংক্ষেপে ০৪ লিখতে গিয়ে সংখ্যায় ১৯০৪ হয়ে গেছে। কিন্তু কথায় ঠিক আছে। এ জন্য পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চিন্তার কোন কারন নেই। ইতিমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে।

শিক্ষাবোর্ড সূত্র জানায়, এবছর ১৬২ কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৫৬ জন। এদের মধ্যে নিয়মিত ১ লাখ ১৫ হাজার ১৫২ আর অনিয়মিত ২ হাজার ১৪১ জন। জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৬৩ জন।

মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৪ হাজার ৩৯০ জন ছেলে ও ৬০ হাজার ৭৬২ জন ছেলে। এবছর জেএসসিতে ছেলেদের চেয়ে ৬ হাজার ৩৭২ জন মেয়ে পরীক্ষার্থী বেশি। বরিশাল জেলায় ৫৯ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ৩৮ হাজার ৭৫২ জন। এদের মধ্যে ছেলে ১৭ হাজার ৭৯৫ জন মেয়ে ২০ হাজার ৯৫৭ জন।
ঝালকাঠীতে ১৬ পরীক্ষা কেন্দ্রে ১০ হাজার ৬৪৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪ হাজার ৭৩০ জন ছেলে ও ৫ হাজার ৯১৫ জন মেয়ে।
পিরোজপুরে ১৮ কেন্দ্রে ১৫ হাজার ৪৮৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছেলে পরীক্ষার্থী ৭ হাজার ৪৩ জন আর মেয়ে ৮ হাজার ৪৪৫ জন।
বরগুনা জেলায় ১৭ কেন্দ্রে ১৩ হাজার ৪০২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছেলে ৬ হাজার ৬৩৭ জন মেয়ে ৬ হাজার ৭৬৫ জন।
পটুয়াখালী জেলায় ৩০ কেন্দ্রে ২০ হাজার ৮৬৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১০ হাজার ৬৫৬ জন ছেলে ১০ হাজার ২০৯ জন মেয়ে।
ভোলা জেলায় ২২ কেন্দ্রে ১৮ হাজার ৩০৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮ হাজার ৮৬৩ জন ছেলে ৯ হাজার ৪৪১ জন মেয়ে।

Googleplus Pint
Asifkhan Asif
Posts 1365
Post Views 886