MysmsBD.ComLogin Sign Up

ক্রিকেটে নাইট ওয়াচম্যানদের ১০টি রেকর্ড (শেষ পর্ব)

In ক্রিকেট দুনিয়া - Oct 24 at 11:41pm
ক্রিকেটে নাইট ওয়াচম্যানদের ১০টি রেকর্ড (শেষ পর্ব)

চলতি চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলায় তখন ১৪ বল বাকি। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং করছে। মুশফিকুর রহিম আউট হয়ে যান স্টোকসের বলে। তখন সাকিবকে সঙ্গ দিতে ক্রিজে আসেন বোলার শফিউল।

টেস্ট ক্রিকেটে কখনো কখনো স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান না নামিয়ে, আনকোরা ব্যাটসম্যান নামানো হয়। দলের প্রয়োজনে এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানকে দিনের শেষ দিকে এসে হারাতে না চাইলে এই কাজ করা হয়। ক্রিকেটীয় পরিভাষায় একেই বলা হয় নাইট ওয়াচম্যান। শফিউলকে বিকেলে নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে ব্যাটিংয়ে নামানো হয়। এইভাবে পরের দিনের জন্য দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানকে রক্ষা করা হয়।

টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে এমন কয়েকটি রেকর্ড আছে যেখানে নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে ব্যাটিংয়ে নেমে লম্বা ইনিংস খেলেছেন। স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যানের মতো রান করেছেন, তুলে নিয়েছেন হাফ সেঞ্চুরি ও সেঞ্চুরি।

• নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে ক্রিজে এসে উল্লেখযোগ্য রান করে দলকে সাপোর্ট করেছেন এমন ১০ ইনিংসের আজ দেখুন শেষ পর্ব.....

৬. সৈয়দ কিরমানি (ভারত) : ১৯৭৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ছয় ম্যাচের টেস্ট সিরিজের এটা ছিল শেষ টেস্ট। মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত এই টেস্টের প্রথম দিনের শেষ দিকে ১২৩ রানে সুনীল গাভাস্কার আউট হন। নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে পাঁচে ব্যাট করতে নামেন বিখ্যাত উইকেটকিপার কাম ব্যাটসম্যান কিরমানি। তখন ভারতে স্কোর ৩ উইকেটে ২৩১ রান। স্কোর বোর্ডে কোনো রান যোগ না করেই প্রথম দিনের খেলা শেষ হয়। পরের দিন কিরমানি ১০১ রানে অপরাজিত থাকেন এবং ভারত ৪৫৮ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। পরে ইনিংস ও ১০০ রানের ব্যবধানে এই টেস্ট এবং ২-০ তে সিরিজ জিতে ভারত।

৭. টনি মান (অস্ট্রেলিয়া) : টনি লেগ স্পিনার হিসেবে ৩২ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়া দলে ডাক পান। তবে বল হাতে তেমন সুবিধা করতে পারেননি। তবে নিজের দ্বিতীয় টেস্টেই ১৯৭৭ সালে পার্থে ভারতের বিপক্ষে নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে নেমে সেঞ্চুরি হাকান তিনি। ভারতের দেওয়া ৩৩৯ রানের লক্ষ্যে তৃতীয় দিনের শেষ দিকে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া শুরুতেই উইকেট হারায়। পরে টনি ক্রিজে আসেন এবং ১০৫ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন। এর সুবাদে অস্ট্রেলিয়া ৩৩৯ রান তারা করে ২ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয়।

৮. মার্ক বাউচার (দক্ষিণ আফ্রিকা) : দক্ষিণ আফ্রিকার নির্ভিক এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান দেশের জন্য অনেকদিন খেলেছেন। সাধারণত তিনি নিচের দিকে ব্যাট করতেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে ইংল্যান্ড পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে আসে। ডারবানে অনুষ্ঠিত হয় সিরিজের তৃতীয় টেস্ট। এই টেস্টে ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেটে ৩৬৬ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংসে ১৫৬ রান করে ফলোয়ানে পড়ে। বাউচার চতুর্থ দিনের শেষ দিকে ব্যাট করতে নামেন। ১০৮ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন ওই দিন বাউচার। পরে এই ম্যাচ ড্র হয় এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ১-০ তে সিরিজে এগিয়ে থাকে।

৯. মার্ক বাউচার (দক্ষিণ আফ্রিকা) : ১৯৯৯ সালের নভেম্বরে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের শেষ টেস্টে, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে জন্টি রোডর্সের আগে ব্যাটিংয়ে পাঠানো হয় বাউচারকে। এদিন বাউচার ১২৫ রানের এক ইনিংস খেলেন। জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংসে ১০২ রানে অলআউট হয়ে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকা ৯ উইকেটে ৪৬২ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। পরে স্বাগতিকরা ১৪১ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ও ২১৯ রানে হারে। এতে দক্ষিণ আফ্রিকা ২-০ সিরিজ জেতে।

১০. জেসন গিলেস্পি (অস্ট্রেলিয়া) : ২০০৬ সালে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে নেমে গিলেস্পি ডাবল সেঞ্চুরি করেন। দুই ম্যাচ সিরিজের এটা ছিল দ্বিতীয় টেস্ট। বাংলাদেশ প্রথমে ইনিংসে ১৯৭ রান করে প্রথম দিনেই অলআউট হয়ে যায়। দিনের শেষের দিকে অস্ট্রেলিয়া ব্যাট করতে নামে। পরে ১৮তম ওভারে এক উইকেট হারালে গিলেস্পি নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে ক্রিজে আসেন। পরে তিনি ২০১ রান করে অপরাজিত থাকেন। আর অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রথম ইনিংসে ৫৮১ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে। পরে অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ও ৮০ রানে ম্যাচ জিতে। এই ম্যাচ জয়ের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়া দুই ম্যাচ সিরিজ ২-০ তে জিতে নেয়।

তথ্যসূত্রঃ অনলাইন

Googleplus Pint
Anik Sutradhar
Posts 7055
Post Views 346