MysmsBD.ComLogin Sign Up

বাঁচতে হলে জানতে হবে (পর্ব-১)

In লাইফ স্টাইল - Oct 21 at 11:29pm
বাঁচতে হলে জানতে হবে (পর্ব-১)

অনেক দিন ধরে প্রচলিত কথাকে আমরা এক প্রকার নীতি হিসেবে ধরে নিই। বেশিরভাগ মানুষ সেই নীতি বা পৌরাণিক কথাতে বিশ্বাস করেন। কখনো ভালো করে ভেবেও দেখেন না যে, এই অতিকথা আদৌ সত্যি কিনা। বা আমাদের জীবনে এটি কতটুকু কার্যকরী।

বর্তমানে অনেক টিভি চ্যানেলে কিছু সারভাইভাল অনুষ্ঠান দেখানো হয়। দেখানো হয়, একটি নির্জন এলাকাতে আপনি হারিয়ে গেছেন এবং আপনাকে কি করতে হবে। আপনি এই টিভি চ্যানেলগুলো দেখে কতটুকু শিখবেন আর আদৌ বেঁচে ফিরে আসবেন কিনা তা প্রশ্নবোধক।

তবে সত্যি কোনো নির্জন জায়গায় গিয়ে যদি বেঁচে থাকার অভিজ্ঞতা নিতে চান তাহলে সর্বপ্রথম আপনাকে জানতে হবে সঠিক তথ্য। উক্ত জায়গাটি সম্পর্কে, কি কি বিপদ হতে পারে এবং কিভাবে সেই বিপদ এড়ানো যাবে সেই তথ্য। আসুন তবে জেনে নেওয়া যাক এ বিষয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের প্রথম পর্বে কিছু বিপদ সম্পর্কে, যার প্রচলিত নিয়ম কি বলে আর সত্যিটাই বা কি।

সাপে কামড়ালে
আমাদের মিথ বা পৌরাণিক কথা বলে যে, সাপে কামড়ালে সেই বিষ মুখ দিয়ে চুষে বের করা যায়। কিন্তু সত্যি হলো, আপনি যদি মুখ দিয়ে বিষ বের করার চেষ্টা করেন তাহলে আপনার মুখের ব্যাকটেরিয়া ক্ষত স্থানে লেগে যেতে পারে এবং আপনার মুখে বিষ লেগে তা আপনার শরীরেও প্রবেশ করতে পারে।

এর থেকে বাচঁবার উপায় হলো সাপে কামড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হন্ত দন্ত হয়ে দৌড়াদৌড়ি করবেন না। যথাসম্ভব হার্টের বিট কম রাখার চেষ্টা করুন। ক্ষত স্থানের ওপরের অংশে বেঁধে দিন। যেন ওই বিষমিশ্রিত রক্ত হার্টে পৌঁছাতে না পারে।

ভাল্লুক আক্রমণ করলে
ভাল্লুক মৃত কোনো প্রাণী খায় না, তাই অনেকে বলেন ভাল্লুক দেখলে মরে যাওয়ার ভান করতে। কিন্তু আসল সত্যি হলো আপনি মরে যাওয়ার ভান করবেন নাকি ভাল্লুকের সঙ্গে লড়াই করবেন এটি নির্ভর করে ভাল্লুকের ধরনের ওপর।

আপনি যদি কোনো ধুসর রঙের ভাল্লুক দেখেন তাহলে মরে যাওয়ার ভান করুন এবং যথাসম্ভব নিশ্বাস আটকে রাখুন। কিন্তু যদি কোনো কাল রঙের ভাল্লুক আপনাকে আক্রমণ করে তাহলে নিজেকে তার থেকে বড় প্রমাণ করার চেষ্টা করুন এবং তার সঙ্গে লড়াই করুন।

ভাল্লুকরা প্রতিপক্ষকে বার বার সাবধান করে শব্দ বা ভাল্লুককে বিরক্ত না করার জন্য এবং লড়াইয়ের সময় তার প্রতিপক্ষকে আগে আক্রমণ করার সুযোগ দেয়। এছাড়া প্রতিপক্ষের সঙ্গে চোখের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। ভাল্লুকটি যদি আপনার চোখের মাঝে দুর্বলতা খুঁজে পায় তাহলেই বিপদ আরো বাড়বে।

অপর্যাপ্ত খাবার
কোনো নির্জন জায়গায় বেঁচে থাকার জন্য সব থেকে প্রথমে খাবার খুঁজে বের করাটা হলো অতিকথা। একজন মানুষ খাবার ছাড়া ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। আপনি যদি দেখেন আপনার খাবারটি সংগ্রহ করতে আপনাকে বেশ শক্তি খোয়াতে হবে এবং তারপরও খাবারটি না পাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায় তাহলে খাবার সংগ্রহ সাময়িকভাবে বাদ দিন।

প্রথমে আশ্রয় খুঁজে বের করুন। কারণ আপনি খাবার ছাড়া দীর্ঘদিন পর্যন্ত বেচেঁ থাকতে পারবেন, তবে এ বিষয়টি শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।

পানির উৎস হিসেবে ক্যাকটাস
ক্যাকটাসে অনেক পানি থাকে। বলতে গেলে এই গাছে শুধু ওপরিভাগ টুকু বাদে বাকি পুরোটাই খাওয়া যায় এবং তা পানিতে পরিপূর্ণ। তাই বলে সব ধরনের ক্যাকটাস নয়। শুধু ব্যারেল ক্যাকটাসই খাওয়ার উপযোগী। ব্যারেল ক্যাকটাসগুলো গোড়া থেকে ওপরের দিকে নলের মতো লম্বা হয়।

শৈবালের দিক নির্দেশনা
আগেকার মানুষ বলতেন, শৈবাল শুধু গাছের দক্ষিণ পাশে জন্মায়। এজন্য তারা শৈবাল দেখে দিক নির্দেশনা ঠিক করতেন। তবে এটি একটি ভুল পদ্ধতি। কারণ গাছের চারপাশেই শৈবাল জন্মাতে পারে তবে এটি নির্ভর করে তার পরিবেশের ওপর। তাই বর্তমান যুগে দাঁড়িয়ে আপনি যদি দিক নির্দেশনার জন্য শৈবালকে অনুসরণ করেন তবে তা খুব ভুল হবে।

পড়ে থাকা ফল খাবেন কিনা
বলা হয়ে থাকে যে, কোনো পাখি বা প্রাণীর খেয়ে ফেলে দেওয়া ফল খাওয়া ভালো কারণ পাখি বা প্রাণীরা বিষাক্ত ফল খায় না। তবে এমন কিছু ফল ও মাশরুম আছে যা শুধু কয়েক ধরনের পাখি এবং কাঠবিড়ালি খেতে পারে এবং সেগুলো খেলে মানুষের মৃত্যু হতে পারে। -রাইজিংবিডি

Googleplus Pint
Mizu Ahmed
Posts 3828
Post Views 355