MysmsBD.ComLogin Sign Up

যেভাবে মানুষকে বিস্ময়কর সেবা দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

In বিজ্ঞান জগৎ - Oct 20 at 7:59pm
যেভাবে মানুষকে বিস্ময়কর সেবা দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের কাজ নষ্ট করছেন। এতে বেকারত্ব বাড়বে বলে অনেকেই অভিযোগ করেন। কিন্তু পিটসবার্গে অনুষ্ঠিত হোয়াইট হাউজ ফ্রন্টিয়ার্স কনফারেন্সে বিজ্ঞানীরা বলেন, উল্টো আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) মানুষ যা করছে সে কাজেই সহায়তা করছে। যে চিকিৎসকরা রোগীর দেহে সেপসিস খুঁজছেন, সে কাজেই সহায়তা করবে এআই। আবার যে বিজ্ঞানী বিলুপ্ত প্রাণীর সন্ধান করছেন, তাই খুঁজে দেব এআই।

এআই বিষয়ে উন্নতিকল্পে সব সময় উদ্দীপনার বিষয় দেখা যায় না। যেমন- পদার্থবিদ স্টিফেন হকিংয়ের মতে, চরম উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গোটা মানবজাতি ধ্বংসের কারণ হতে পারে। এ ছাড়া হলিউডের বহু সায়েন্স ফিকশন মুভিতে মানুষের বিরুদ্ধ যুদ্ধ করতে দেখা গেছে প্রবল ক্ষমতাশালী সব রোবটদের। এসব নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে এমনিতেই ভয় ঢুকে যায়। এখানে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন ৫টি এআই উদ্ভাবনের কথা। এগুলো ইতিমধ্যে প্রযুক্তিকে উৎকর্ষতা প্রদান করছে।

১. ওয়াইল্ডলাইফ সংরক্ষণ : অসংখ্য গবেষক জানতে চান, একটা বিশাল বনে আসলে কয়টা প্রাণী তাদের জীবন কাটাচ্ছে। কিন্তু এ জানার ক্ষমতা কারো নেই। এ কাজে যথেষ্ট জিপিএস কলার বা স্যাটেলইট ট্র্যাক নেই বলে জানান ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়েসের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের প্রফেসর তানিয়া বার্জার-ওল্ফ। ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গ এবং কার্নেগি মেল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে আয়োজিত এক যৌথ কনফারেন্সে এ কথা বলেন তিনি। তানিয়া এবং তার সহকর্মীরা ওয়াইল্ড ডট অর্গ নামের এক সাইট বানিয়েছেন। সেখানে দেওয়া হয়েছে এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সিস্টেম এবং অ্যালগোরিদম। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ছবি থেকে প্রত্যেক প্রাণীকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা যাবে। পশুর বয়স এবং লিঙ্গ পর্যন্ত বের করতে পারবে সিস্টেমটি। ২০১৫ সালের এক বিশাল ফটো ক্যাম্পেইনে ওয়াইল্ডবুক কাজ করে। এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমেই স্পষ্ট হয় যে, কেনিয়ায় সিংহগুলো বিলুপ্তপ্রায় গ্রেভিস জেব্রার শাবক মেরে ফেলছে। এর পরই সিংহ সামলাতে ব্যবস্থা নেয় কর্তৃপক্ষ।

২. সেপসিস পরীক্ষা : সেপসিস এমন এক অবস্থা যা আগে ধরা পড়লে চিকিৎসা সম্ভব। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে একে চিহ্নিত করা যায় না। ফলে আক্রান্তরা প্রত্যঙ্গে নিষ্ক্রিয়াতার শিকার হন এবং তাদের মৃত্যুও ঘটে থাকে। জনস হপকিন্স হুইটিং স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর সুচি সারিয়া বলেন, এখন সেপসিস নির্ণয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে করে সময়ের অনেক আগেই তা ধরা পড়ছে। একবার ৫২ বছর বয়সী এক নারীর সেপসিস চিহ্নিত হয় টার্গেটেড রিয়েল-টাইম আরলি ওয়ার্নিং সিস্টেম (ট্রিউস্কোর) নামের এক এআই পদ্ধতি ব্যবহারের কারণে। হয়তো এটা ব্যবহার না করলে মৃত্যুর ১২ ঘণ্টা আগে সেপসিস ধরা পড়তো। ট্রিউস্কোরের মাধ্যমে ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপও আগে থেকেই চিহ্নিত করা যায়।

৩. সন্ধান ও উদ্ধার : বন্যা, ভূমিকম্প এবং অন্যান্য দুর্যোগে শিকার মানুষদের খুঁজে বের করতে এআই উপকারী হতে পারে। আধুনিক যুগে এ ধরনের কাজকে দ্রুত করতে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু এর মাধ্যমে খুঁজে বের করে সেখানে পৌঁছতে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে আক্রান্তকে উদ্ধারের আগে তার মৃত্যুও ঘটছে। কিন্তু এআই এর মাধ্যমে কম্পিউটার প্রোগ্রাম ব্যবহার করে যেকোনো স্থানে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এমন মানুষের সংখ্যা বের করা যাবে দুই ঘণ্টারও কম সময়ে। এ ছাড়া হারানো মানুষগুলো কোথায় আটকে আছে তাও বের করা যাবে। তা ছাড়া এই অ্যালগোরিদমের মাধ্যমে দুর্যোগের কথা অন্যান্য সোশাল মিডিয়ায় সঙ্গে সঙ্গে ছড়িয়ে দেওয়া যাবে।

৪. সাইবারসিকিউরিটি : কম্পিউটারে সাইবার আক্রমণের লক্ষণ খুঁজে বের করা বেশ কঠিন কাজ। ডিফেন্স অ্যাডভান্স রিসার্চ প্রজেক্টস এজেন্সির প্রোগ্রাম ম্যানেজার মাইকেল ওয়াকার জানান, আক্রমণকারীরা মাস বা বছর ধরে আক্রমণের কাজটি করতে পারেন। প্রতিহত করতে সদা প্রস্তুত থাকতে হবে। এ কাজটিকে সহজ করে দেয় আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স। সাইবার গ্র্যান্ড চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়া দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী টিম জান্দ্রা এমন একটি বাইনারি কোড বানিয়েছে যা এ ধরনের আক্রমণ চিহ্নিত করে। যেকোনো সন্দেহজনক অবস্থা শনাক্ত করে জিমা নামের এআই প্রোগ্রাম। এর সমাধানেও কাজ করে। এর মাধ্যমে এমন নিরাপত্তাহীনতা চিহ্নিত করা হয় যা মানুষ বের করতে পারেনি। ইন্টারনেট দুনিয়ার নিরপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারে এমন এআই প্রযুক্তি।

৫. স্পর্শের অনুভূতি দিতে : গবেষকরা এমন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন যার মাধ্যমে প্যারালাইজড ব্যক্তির মাঝে স্পর্শের অনুভূতি আনা সম্ভব হবে। চিন্তার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত এক রোবটের হাত ও মস্তিষ্কের চিপ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে কাজটি করা যাবে। ২০০৪ সালে গাড়ি দুর্ঘটনায় পা ও হাতের অনুভূতি হারান নাথান কোপল্যান্ড। তিনি কোয়াড্রিপ্লেজিয়ায় আক্রান্ত হন। তার হাতের অনুভূতি কিভাবে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা হয়েছে যাই তুলে ধরেন ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গের ডিপার্টমেন্ট অব ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলাইটেশনের প্রফেসর ড. মাইকেল বনিনগার। বিজ্ঞানীরা দুটো ছোট ইলেকট্রনিক চিপ স্থাপন করেছে কোপল্যান্ডের মস্তিষ্কে। একটি বসানো হয় সেন্সরি কর্টেক্সে যার মাধ্যমে স্পর্শ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আরেকটি বসানো হয় মোটর কর্টেক্সে। এর মাধ্যমে রোবটের হাতটিকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে চিন্তা দিয়ে।

এভাবে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স মানুষের অসাধ্য সাধন করতে সক্ষম হচ্ছে। এভাবে এআই মানুষকে নিতে পারে উন্নতির শীর্ষে। সূত্র : লাইভ সায়েন্স

Googleplus Pint
Roney Khan
Posts 819
Post Views 205