MysmsBD.ComLogin Sign Up

Search Unlimited Music, Videos And Download Free @ Tube Downloader

সাঙ্গাকারার ট্রিপল সেঞ্চুরির উইকেটেই হবে প্রথম টেস্ট

In ক্রিকেট দুনিয়া - Oct 19 at 10:23pm
সাঙ্গাকারার ট্রিপল সেঞ্চুরির উইকেটেই হবে প্রথম টেস্ট

যে মাঠের পানি নিষ্কাষণ ব্যবস্থা অত্যাধুনিক- বন্দর নগরীর জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে কাল বৃহস্পতিবার আবার শুরু ক্রিকেট। তবে এবার আর একদিনের সীমিত ওভারের নয়। টেস্ট ক্রিকেট। সাধারনত: টেস্টের আগে উইকেট নিয়ে অনেক কথাই হয়।

এ টেস্টেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সবার কৌতুহলি প্রশ্ন- ‘উইকেট কেমন হবে? ব্যাটিং, নাকি স্পিন ফ্রেন্ডলি?’ এ প্রশ্নের উত্তর যিনি সবচেয়ে ভাল দিতে পারেন, সেই জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামের কিউরেটর জাহিদ রেজার মুখ বন্ধ।

আইসিসির বেধে দেয়া শর্ত অনুসরণ করেই নিশ্চুপ জাহিদ রেজা বাবু। খেলার আগে মিডিয়ার কাছে উইকেটের গতি প্রকৃতি ও চরিত্র ফাঁস করার প্রশ্নই ওঠে না। এমনকি অতিথি দলের টিম ম্যানেজমেন্টের কাছেও উইকেট সম্পর্কে কোন তথ্য প্রদানে আছে রাজ্যেও নিষেধাজ্ঞা।

উইকেট কেমন? এ নিয়ে একটি কথা না বললেও বাবু একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাহলো, জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের তিন নম্বর উইকেটে খেলা হবে। আগামী কাল থেকে যে টেস্ট শুরু হবে, সে ম্যাচটি ছাড়া গত দুই বছরে এই মাঠে যে তিনটি টেস্ট হয়েছে তার সবগুলোই হয়েছে এই তিন নম্বর উইকেটে।

এই উইকেটের চরিত্র কেমন? ঐ তিন টেস্টের চাল-চিত্র খুঁটিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে উইকেটের আচরণ কেমন? আসুন তা জেনে নেয়া যাক। সংক্ষেপে বলে দেই, এই মাঠে গত দুই বছরে হওয়া তিন টেস্টের একটিতে জিতেছে বাংলাদেশ (জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ১৮৬ রানে)।

আর দুটি টেস্ট ড্র’ই থেকে গেছে। এ মাঠের তিন নম্বর পিচের চরিত্র কিন্তু বহুমুখী। জুলাই-আগস্টে একরকম। আবার মার্চ ও নভেম্বরে ভিন্ন। গত বছর জুলাই-আগস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচটি অর্ধেকেরও কম সময় খেলা হলেও স্কোর লাইন ছিল নীচু; কিন্তু মার্চ ও নভেম্বরে উইকেটের চরিত্র পাল্টে যায়।

এই মাঠের তিন নম্বর পিচেই ট্রিপল সেঞ্চুরির ইতিহাস স্রষ্টা কুমারা সাঙ্গাকারা। এই মাঠে শেষ টেস্ট হয়েছিল ২০১৫ সালের ২১-২৫ জুলাই বৃষ্টি ভেজা সে ম্যাচে ৫ দিনের শেষ দুই দিন খেলাই হয়নি। প্রথম দিন হয়েছিল ৮৫.৪ ওভার। দ্বিতীয় দিন ৬৭ ওভার আর আর তৃতীয় দিন ২১.১ ওভার।

কারো ব্যাট থেকে সেঞ্চুরি আসেনি সেবার। স্কোরলাইন ছিল এরকম; দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংসে ২৪৮ অলআউট ৮৩.৪ ওভারে। (মোস্তাফিজুর ৪/৩৭ ও জুবায়ের হোসেন লিখন ৩/৫৩) এবং সাকিব, মাহমুদউল্লাহ ও তাইজুল একটি করে উইকেট। আর বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৩২৬ (মাহমুদউল্লাহ ৬৭, তামিম ৫৭, লিটন দাস ৫০, সাকিব ৪৭ ও মুশফিক ২৮ )।

বৃষ্টিতে অর্ধেকেরও কম সময় খেলা হওয়া ঐ নিষ্ফলা টেস্টের আগে এই তিন নম্বর পিচে যে দুটি টেস্ট হয়েছিল, সেখানে আর বৃষ্টি বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়নি। যার একটিতে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ১৮৬ রানের বড় জয়ে মাঠ ছেড়েছিল। আর অন্যটিতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে লড়াই করে ড্র। এই দুই ম্যাচে রানের ফল্গুধারা বয়েছে।

তবে বলে নেয়া ভাল, ঐ দুই টেস্টের একটিও আর বৃষ্টির মৌসুমে হয়নি। দুটি ম্যাচই হয়েছে ২০১৪ সালে। এর মধ্যে জিম্বাবুয়ের সাথে মুশফিকের দল যে ম্যাচটি জিতেছে, সেটা হয়েছিল ২০১৪ সালের ১২-১৬ নভেম্বর। আর শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধ খেলাটি হয়েছিল একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে।

বাংলাদেশ ভক্তদের জন্য সুখবর, ওই দুই টেস্টে নয় নয়টি সেঞ্চুরি হয়েছে। যার ছয়টি করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। এর মধ্যে ইমরুল কায়েস ও মুমিনুল হকের ব্যাট থেকে এসেছে দুটি কওে সেঞ্চুরি। তামিম ইকবাল ও শামসুর রহমান শুভ করেছেন একটি করে।

অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার কুমারা সাঙ্গাকারা রানের নহর বইয়ে দিয়েছিলেন। ২০১৪ সালের ৪-৮ ফেব্রুয়ারি এই মাঠের তিন নম্বর পিচে হওয়া টেস্টে লঙ্কান ক্রিকেটের জীবন্ত কিংবদন্তী কুমার সাঙ্গাকারা ট্রিপল সেঞ্চুরি উপহারের পরের ইনিংসে আবার শতরানের অসামান্য কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন।

ড্র হওয়া ঐ টেস্টের প্রথম ইনিংসে সাঙ্গাকারার ৫৫১ মিনিটে ৪৮২ বলে করা ৩১৯ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে শ্রীলঙ্কা ৫৮৭ রানের হিমালয় সমান স্কোর গড়লেও শামসুর রহমান শুভ (১০৬) ও ইমরুল কায়েসের (১১৫) জোড়া শতকে বাংলাদেশ পাল্টা ভাল জবাব দেয় (৪২৬)। দ্বিতীয় ইনিংসে সাঙ্গাকারা (১০৫) ও চান্দিমালের (১০০ঁ*) শতরানের পর বাংলাদেশ মুমিনুলের শতরানে (১০০*) ও সাকিবের (৪৩*) সাকিবের দৃঢ়তায় ম্যাচ বাঁচায়।

এরপর নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৮৬ রানের বড় জয়ে বড় অবদান তামিম, ইমরুল, জুবায়ের লিখন ও মুমিনুলের। শতরান করেন তামিম (১০৯) ও ইমরুল (১৩০)। সঙ্গে সাকিব ৭১, মমিনুল ৪৮ ও শুভাগত ৩৫ ও রুবেল ৪৫* কার্যকর অবদান রাখলে ৫০৩ রানের বড় সংগ্রহ দাড় করায় বাংলাদেশের।

লেগস্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখনের স্পিন ঘূর্নির (৫/৯৬) মুখে জিম্বাবুয়ে ৩৭৪ রানে অলআউট। দ্বিতীয় ইনিংসে আবার সেঞ্চুরি করেন মুমিনুল (১৩৮)। এবার খেলা অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে। ক’দিন আগে ভারী বৃষ্টি হলেও এখন রোদের কড়া তেজ। ভাবা হচ্ছে, বলাও হচ্ছে- পিচ প্রথম দুদিন নাকি ব্যাটসম্যানদের স্বর্গ থাকবে। তারপর স্পিনারদের হাতে চলে যাবে? দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কি হয়?

সূত্রঃ জাগো নিউজ

Googleplus Pint
Mizu Ahmed
Posts 3886
Post Views 377