MysmsBD.ComLogin Sign Up

পছন্দের মানুষকে প্রেমের জালে বন্দী করার ১১ কৌশল!

In লাইফ স্টাইল - Oct 19 at 8:46am
পছন্দের মানুষকে প্রেমের জালে বন্দী করার ১১ কৌশল!

কীভাবে পছন্দের মানুষকে প্রেমে ফেলা যায় এ নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। সঠিক কৌশল না জানলে ভালবাসার মানুষটিকে আপনারপ্রেমে ফেলতে পারবেন না। আয়ালা মালাচ পিনেচ নামে এক জনপ্রিয় লেখিকা চুলচেরা বিশ্লেষণ করে এ বিষয়ে একটি বই লিখেছেন। বইতে একজন মানুষকে কীভাবে প্রেমে ফেলা যায় সে কৌশল তুলে ধরেছেন লেখিকা। আয়ালা মালাচ পিনেচ কিরগিজিস্থানের নাগরিক।

লেখিকা ছাড়াও সারা বিশ্বে তিনি একজন জনপ্রিয় মনোবিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিত। অনেক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে মনোসমীক্ষা নিয়ে বক্তৃতা দিয়েছেন। মানুষের মনস্তাত্বিক অবস্থা নিয়ে অনেক বইও আছে তার।


সম্প্রতি তার ‘ফলিং ইন লাভঃ হোয়াই উই চুজ দি লাভার উই চুজ’ নামের বইয়ের দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়েছে।

এ সংস্করণে একজন মানুষকে কীভাবে প্রেমে ফেলতে হবে তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। একজন মানুষ মূলত আরেকজনের প্রতি আকৃষ্ট হন তার ভেতর ভালো বা তার পছন্দের কিছু গুণ দেখে। আর এসব গুণ ছাড়াও প্রেমের বিষয়ে আরও কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে হয়। তিনি এ বইয়ে প্রেমে ফেলার মোট ১১টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

ব্যক্তিত্ব, আচরণ ও পারিবারিক অবস্থা: একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে পছন্দ করার সময় কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখেন। প্রথমে দেখেন তার আচরণ কেমন?

তারপর দেখেন তিনি ব্যক্তিত্ববান কিনা? আর চূড়ান্ত মুহূর্তে দেখেন তার পারিবারিক অবস্থা কেমন। তবে কাউকে প্রেমে ফেলতে হলে যে সবগুলোই মিল থাকতে হবে তা নয়। কিন্তু যদি এমন হয় যে কোনটাই মিলছে না তাহলে তাদের মধ্যে প্রেম হওয়া সম্ভাবনা একেবারেই শুন্য।

তাই কাউকে প্রেমে ফেলতে হলে প্রথমে এই তিন বিষয়ে নজর দিতে হবে। যদি এমন হয়, আপনার ব্যক্তিত্ব একটু খারাপ তাহলে পারিবারিক অবস্থাটা ভালো হতে হবে। তাহলে আপনার পছন্দের পাত্র বা পাত্রী আপনার ব্যক্তিত্ব ঠিক করার ঝুঁকি নিয়ে আপনার সাথে প্রেম করতে রাজি হবেন।

আর যদি আপনার পারিবারিক অবস্থা খারাপ হয় তাহলে ব্যক্তিত্বকে ভালোভাবে গড়ে তুলুন। তাতে আপনার পছন্দের পাত্র বা পাত্রীটি মনে করবেন, মানুষ ভালো হলে টাকা একদিন ঠিকই আসবে। এবং এই ভেবে আপনার প্রেমে পড়বে।

ভৌগোলিক নৈকট্য: ভৌগোলিক দূরত্বও একজন মানুষের প্রেমে পড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সাধারণত কেউ বেশি দুরের কোনো মানুষের সাথে সম্পর্কে জড়াতে চান না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একজন বাংলাদেশি সাধারণত মেক্সিকোর কোনো নারী বা পুরুষের সাথে প্রেমে জড়াতে চাইবে না। আর যদিও পড়ে তাহলে তাদের প্রেম স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বেশি দূরত্বের মানুষের সাথে প্রেমে পড়েছিলেন তাদের খুব তাড়াতাড়ি বিচ্ছেদ হয়ে গেছে।

তাই যখন আপনি দেখবেন যে আপনার সাথে আপনার পছন্দের পাত্র বা পাত্রীটির ভৌগোলিক দূরত্ব খুব বেশি তখন আপনার অন্য গুণগুলোর প্রতি নজর দিবেন। কারণ আপনার পছন্দের পাত্র বা পাত্রী নিশ্চয় বেশি দূরত্বের কারো সাথে প্রেম করতে চাইবেন না।

আকাঙ্খীত চেহারা ও বৈশিষ্ট্য: কিছু মানুষ আছে যাদের সাথে কয়েক মিনিট কথা বললেই তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট মানুষকে পাগল করে দেয়। আপনি যদি সে চারিত্রিক গুণে গুণান্বিত হন তাহলে তো কোন কথায় নেই। সহজেই আপনার পছন্দের পাত্র বা পাত্রীটি আপনাকে দেখা মাত্র প্রেমে পড়বে। আর যদি আপনার চেহারায় তেমন কোন গুণ না থাকে তাহলে সেগুলো অর্জন করার চেষ্টা করুন। আর আপনার পছন্দের পাত্র বা পাত্রীটি কোন ধরনের আচরণ পছন্দ করেন সেসব আয়ত্ব করার চেষ্টা করুন।

পারস্পরিক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা: উপরের সবগুলো গুণ থাকা সত্বেও আপনার পছন্দের পাত্র বা পাত্রী আপনার প্রেমে পড়ছে না। তাহলে এই পদ্ধতিটি অনুসরণ করুন।

তাকে ভালোবাসুন ও তার ব্যক্তিত্বকে শ্রদ্ধা করুন। মনে রাখবেন ভালোবাসা জোর করে আদায় করার বিষয় নয়।

আপনি যদি সত্যিই তাকে মন থেকে ভালোবাসতে পারেন তাহলে অবশ্যই সে আপনার প্রতি আকৃষ্ট হবে। আর কখনো ধৈর্য হারা হলে চলবে না। সে যদি আপনাকে ভালো নাও বাসে তাহলেও খারাপ ব্যবহার করবেন না। তাকে হুমকি দেবেন না। মনে রাখবেন ভালোবাসা দিয়েই মানুষের মন জয় করা যায়। অন্য কিছু দিয়ে নয়।

সন্তোষজনক চাহিদা: আপনার চাহিদার উপরও নির্ভর করে আপনার পছন্দের পাত্র বা পাত্রী আপনার প্রেমে পড়বে কি পড়বে না। যেমন আপনার চাহিদা যদি সন্তোষজনক না হয় তাহলে কোনোদিনও আপনার পছন্দের পাত্র বা পাত্রী আপনার প্রেমে পড়বে না। কারণ কোনো প্রেমিক বা প্রেমিকা কখনই চাইবে না যে তার আকাশ কুসুম চাহিদার কারণে পরিবারে কিছু সঞ্চয় তো দূরে থাক উল্টো ঋণের জালে আটকা পড়ুক।

তাই আপনার পছন্দের পাত্রের সামনে কখনই দামি দামি রেস্টুরেন্টে খেয়ে বাবার লাখ টাকা ধ্বংস করার গল্প করবেন না। তাহলে প্রেম হয়ে থাকলে ভেঙে যাবে। আর না হয়ে থাকলে সারা জীবনের জন্য হওয়ার সম্ভাবনাটা নষ্ট হবে।

কারণ কোনো ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ ফালতু টাকা পয়সা নষ্ট করা পছন্দ করেন না।

শারীরিক ও মানসিক উত্তেজনার: সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠেলে একটু আঙ্গুলটা বাঁকা করুন। না, লেখিকা আপনার পছন্দের পাত্র বা পাত্রীর মাথায় পিস্তুল ধরার কথা বলছেন না। তার শারীরিক বা মানসিকভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করার কথা বলছেন। তার সামনে সু্ন্দর আকর্ষণীয় পোশাক পরে ঘোরাঘুরি করুন। তার হৃদয়ে কামনা জাগানোর চেষ্টা করুন।

আর প্রেমের সাথে কামনার ‍খুবই মিল আছে। আপনি যদি তার হৃদয়ে ঝড় তুলতে পারেন তাহলে সে আপনাকে অবশ্যই ভালোবাসবে।

সামাজিক প্রভাব, নিয়ম, এবং আমাদের স্বীকৃতি: প্রেমে পড়ার ক্ষেত্রে সামাজিক বৈশিষ্ট্য ও নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হিসেবে কাজ করে। একেক অঞ্চল ও একেক সামাজের বৈশিষ্ট্য একেক রকম। তাই আপনার পছন্দের পাত্র বা পাত্রীকে প্রেমে ফেলার আগে তার অঞ্চল ও সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে পারলে ভালো হয়। সবকিছু ভালো মত জেনে সে অনুযায়ী এগুতে থাকুন। তাহলে তাকে প্রেমে ফেলা সহজ হবে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সাধারণত বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষ দক্ষিণ বা পূর্বাঞ্চলের মানুষের প্রেমে পড়ে না। কারণ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে একেক অঞ্চলের মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য একেক রকম। তবে এর ব্যতিক্রমও আছে। আপনার পছন্দের পাত্র বা পাত্রীটি যদি আপনার থেকে আলাদা অঞ্চলের হয়, তাহলে তাকে প্রেমে ফেলার জন্য লেখার অন্য বিষয়গুলোর প্রতি নজর দেন তাহলে হয়ত প্রেমে পড়ে যেতেও পারে।

কণ্ঠস্বর, চোখ, অঙ্গবিন্যাস, চলার ভঙ্গি: কণ্ঠস্বর, চোখ, অঙ্গবিন্যাস, চলার ভঙ্গি যদিও আচরণ ও শারীরিক বৈশিষ্টের সাথে অন্তর্ভুক তবুও লেখিকা বিষয়গুলো নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনা করেছেন। তিনি গবেষণায় দেখেছেন একজন বাদামী রঙের চোখ বিশিষ্ট নারী বা পুরুষ আরেকজন বাদামী রঙের নারী বা পুরুষের প্র্রতি আকৃষ্ট হন। এভাবে অন্যান্য বিষয়গুলোও একইভাবে কাজ করে।

তাই আপনার পছন্দের মানুষের এ বৈশিষ্ট্যগুলো যদি আলাদা হয় তাহলে আপনার সাথে তার প্র্রেম হওয়ার সম্ভাবনা কম। আর যদি হয় তাহলে আপনাকে অনেক কাঠখড়ি পোড়াতে হবে। এ মুহূর্তে আপনি আপনার অন্য গুণগুলোর প্রতি নজর দিয়ে তাকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করবেন।

একটি রোমান্টিক সম্পর্কের জন্য প্রস্তুত করা: অনেক নারী বা পুরুষ আছে যারা সাধারণত প্রেম ভালোবাসা এ সম্পর্কে বিশ্বাস করে না। পরিবার যে ব্যক্তির সাথে বিয়ে দেবেন তাকেই স্বামী বা স্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে রাজি আছেন। এসব মানুষকে প্রেমে ফেলা খুব কঠিন।

প্রথমে তার সাথে মিশে তাকে প্রেমের প্রতি আকৃষ্ট করতে হবে। তাহলে আপনার স্বার্থ উদ্ধার হবে। তবে বেশি বাড়াবাড়ি করা ঠিক নয়। করলে আবার আপনাকে জেলের ভাতও খেতে হতে পারে। তাই খুব সাবধানে তার সাথে মেশার চেষ্টা করুন।

একান্তে আড্ডা দেওয়া: কাউকে প্রেমে ফেলতে হলে একান্তে তাকে নিয়ে বিভিন্ন দর্শণীয় স্থানে ঘুরতে যেতে পারেন। আর মানুষ যখন একা থাকে তখন সে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা করার সুযোগ পায়। আর আপনারা যদি দুজন হন তাহলে তো কোনো কথাই নেই। যেকোনো সময় আপনার প্রেমে পড়তে পারে সে। তাই সুযোগ করে তাকে নিয়ে কোথাও বেরিয়ে পড়ুন। দর্শণীয় স্থান দেখাও হলো আর আপনার প্রেমের পথ সহজও হলো।

রহস্য তৈরি করা: তার সাথে মেশার বা গল্প করার সুযোগ পেলে আপনার প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য আপনার মধ্যে একটু রহস্য তৈরি করতে পারেন। এতে সে আপনাকে নিয়ে চিন্তাভাবনা করার সুযোগ পাবে। আর সে যদি আপনাকে নিয়ে চিন্তা করেন তাহলেই প্রেম হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, একজনকে নিয়ে ভাবনা চিন্তা করার কারণে অনেক অপছন্দের পাত্র বা পাত্রীও পছন্দের পাত্রে পরিণত হয়েছে। তাই আপনাকে নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ করে দেন। আপনাকে নিয়ে চিন্তাভাবনা করলেই প্রেমে পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

Googleplus Pint
Noyon Khan
Posts 3254
Post Views 1075