MysmsBD.ComLogin Sign Up

সাকিবের পরেই টেস্টে বাংলাদেশের সেরা বোলার মাহমুদউল্লাহ!

In ক্রিকেট দুনিয়া - Oct 18 at 1:50pm
সাকিবের পরেই টেস্টে বাংলাদেশের সেরা বোলার মাহমুদউল্লাহ!

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের র‌্যাঙ্কিংয়ে অনুযায়ী সাকিব আল হাসানের পরই বাংলাদেশের পক্ষে টেস্টে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী বোলার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ!

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাঁর বোলার পরিচয়টাই হারিয়ে যেতে বসেছে, তিনিই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সেরা বোলার। অন্তত পরিসংখ্যানের হিসাবে। এই সিরিজে বাংলাদেশ দলের বোলিং আক্রমণ যে কতটা নখদন্তহীন, এটাই যেন সবচেয়ে বড় প্রমাণ। টেস্ট খেলতে হলে আপনার এমন একটা বোলিং আক্রমণ চাই যারা প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নিতে পারবে। না হলে খেলবেন কী করে? অথচ বাস্তবতা হলো, টেস্ট অভিষেকের ১৬ বছর পরও বাংলাদেশ এখনো প্রতিপক্ষকে দুবার অলআউট করার মতো বোলিং আক্রমণ গড়তে পারে না।

ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য ঘোষিত দলটার দিকে তাকান। ১৪ জনের দলে বোলার হিসেবে আছেন শফিউল ইসলাম, কামরুল ইসলাম, তাইজুল ইসলাম। বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে শুভাগত হোম ও মেহেদী হাসান। আর ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে মাহমুদউল্লাহ ও সৌম্য সরকার। আর মূল ভরসা সাকিব তো আছেনই।

এই লাইন আপ দেখে মূল নয় বরং একমাত্র বোলিং ভরসা বলেই মনে হচ্ছে সাকিবকে। কারণ ৪২ টেস্টে ১৪৭ উইকেট পাওয়া সাকিব ছাড়া বাকি ১৩ জন মিলিয়েও টেস্টে ১০০ উইকেট পাননি। মোট উইকেট​ ৯৮টি!

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭ টেস্টে ৩৭ উইকেট মাহমুদউল্লাহর কথা তো বলাই হলো, তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩৬ উইকেট বাঁহাতি স্পিনার তাইজুলের। পেস আক্রমণের দায়িত্ব নিচ্ছেন যিনি, সেই শফিউল ৮ টেস্টে পেয়েছেন ১৫ উইকেট। ২০১৪ সালের পর টেস্ট খেলাই হয়নি তাঁর। দলের অন্য পেসার কামরুলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই অভিষেক হয়নি এখনো!

এমন নয় যে বাংলাদেশের টেস্ট বোলিং আগেও খুব আহামরি কিছু ছিল। ৯৩টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। ১৪৪ ইনিংসে বল করেছে বাংলাদেশের বোলাররা। এই ইনিংসগুলোর মধ্যে মাত্র ৬১ বার প্রতিপক্ষকে অলআউট করতে পেরেছে বাংলাদেশ! শতাংশের হিসাবে যেটি মাত্র ৪২ শতাংশ!

যদি ম্যাচের দিকে তাকান, মাত্র ৮টি টেস্টে প্রতিপক্ষকে দুবার অলআউট করতে পেরেছে বাংলাদেশ। অথচ টেস্ট জিততে চাইলে প্রতিপক্ষকে দুবার অলআউট করাটা প্রায় বাধ্যতামূলক। ৯৩ টেস্টে বাংলাদেশের জয় যে মাত্র ৭টি, এর পেছনেও কিন্তু প্রতিপক্ষকে দুবার অলআউট করার ব্যর্থতাটাই দায়ী।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশ দল বদলে গিয়েছে। বোলিংয়ে এখন প্রচুর অস্ত্র বাংলাদেশের হাতে। কিন্তু রঙিন পোশাকটা পাল্টিয়ে সাদা পোশাকটা গায়ে চাপালেই বাংলাদেশের বোলাররা হয়ে যান সাদামাটা। এখনকার পরিস্থিতি এমনই যে, এক সাকিব ছাড়া আর কোনো বোলার নেই যাঁর হাতে বল তুলে দিয়ে নিশ্চিত হতে পারেন অধিনায়ক। টেস্টে ১৪ বার ইনিংসে ৫ উইকেট পেয়ে সাকিবও নিজের প্রতি দাবিটা বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তাঁর উপযুক্ত সঙ্গীই তো পাচ্ছে না বাংলাদেশ। মাঝে মধ্যেই অনেক প্রতিশ্রুতি নিয়ে হাজির হন অনেকেই—ইলিয়াস সানি, রুবেল হোসেন, সোহাগ গাজী, রবিউল ইসলামরা। কিন্তু কিছুদিন পরেই হারিয়ে যান।

সর্বশেষ এমন হারিয়ে যাওয়ার নজির জুবায়ের হোসেন। কত আশা জাগিয়েই না এসেছিলেন এই লেগ স্পিনার। টেস্ট ক্রিকেটে প্রতিপক্ষের মনে ভয় জাগানোর সবচেয়ে ভালো উপায় দলে একজন লেগ স্পিনার রাখা। টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম হ্যাটট্রিকও কিন্তু এক লেগ স্পিনারের হাত ধরেই এসেছিল। সেই অলক কাপালি বাংলাদেশের ক্রিকেটের মূল স্রোত থেকেই যেন দূরে সরে গেছেন।

গতকালই দুবাই টেস্টে দুই স্পিনার ১১ উইকেট নিলেন একদিনে। সাম্প্রতিক সময়ে রশিদ খান ও আদিল রশিদ নামের দুই লেগ স্পিনার বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের নাচিয়ে ছেড়েছেন। কিন্তু জুবায়েরের মতো লেগ স্পিনারের জায়গা হয় না দলে।

মজার কথা, এ রকম আশা জাগিয়েও এখন ফর্ম হারিয়ে ফেলা আরেকজন কিন্তু বাংলাদেশ দলে খেলে যাচ্ছেন নিয়মিত—সৌম্য সরকার। তাঁকে টেস্ট স্কোয়াডে রাখার ব্যাখ্যা দিয়ে হাথুরুসিংহে বলেছেন, ‘তার ফর্ম নিয়ে আমরাও চিন্তিত। আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতেই ওকে সুযোগ দিচ্ছি। সে ভালো খেলোয়াড়। ফর্ম খারাপ হলেও তা সাময়িক।’

কিন্তু জুবায়ের সে সুযোগটা পান না কোনোভাবেই। এভাবেও তো হারিয়ে যান বোলাররা।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের উজ্জ্বল সাফল্যে আড়ালে চলে গেছে। না হলে বড় পরিসরের ক্রিকেটে বিসিবির সঠিক পরিকল্পনাও আছে কি না, ভালো মানের টেস্ট বোলার তুলে আনার ব্যাপারে যথেষ্ট বিনিয়োগ হচ্ছে কি না, এই প্রশ্নগুলোও কিন্তু করা যায়।

তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো

Googleplus Pint
Anik Sutradhar
Posts 7011
Post Views 396