MysmsBD.ComLogin Sign Up

[Trick] Uc Browser দিচ্ছে ৪০০০টাকা করে বিকাশে। বাংলাদেশ থেকে প্রথম থেকে ৪০০০ জন পাবে ৪০০০ টাকা করে ।

ওয়ান প্লাস থ্রি : ভালো পারফরমেন্সে ছোটখাট অস্বস্তি

In মোবাইল ফোন রিভিউ - Oct 04 at 9:52pm
ওয়ান প্লাস থ্রি : ভালো পারফরমেন্সে ছোটখাট অস্বস্তি

শুরুতে বাজেট ফোন এনে তুমুল হৈচৈ ফেলতে না পারলেও বেশ সাড়া ফেলেছিল ওয়ান প্লাস। এ ব্র্যান্ডের কাছাকাছি সংস্করণের দুটি স্মার্টফোনের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল অনেকেরই। সেই ধারা ধরতে রাখতে ওয়ান প্লাস ওয়ান ও টু’য়ের পর এবার প্রিমিয়াম ফোন ওয়ান প্লাস থ্রি নিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছে চীনা কোম্পানিটি।

নামিদামি প্রায় প্রতিটি প্রিমিয়াম ডিভাইস স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৭ ও এইচটিসি ১০ এমনকি আইফোন ৬এস এর সঙ্গে বাজারে টিকে থাকার চেষ্টায় অবশ্য খুব একটা বিফল নয় এ ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসটি।

আগের দুই সংস্করণে কিছুটা আপস করা হলেও, ওয়ান প্লাস থ্রি কিন্তু মোটেও তেমনটা নয়। সুদৃশ্য নকশা, দ্রুত চার্জিং, মোবাইল পেমেন্টের জন্য এনএফসি যা আপনার অনেক কাজ সহজ করবে। ডিসপ্লে ও ব্যাটারি নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি, মেমরি কার্ডে স্লট না থাকা কিংবা অধিক চাপে গরম হওয়াসহ কিছু বিষয় ছাড়া যারা দীর্ঘস্থায়ীভাবে অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারে আগ্রহী তাদের জন্য এ ডিভাইস একটি ভালো অপশন হতে পারে।



এক নজরে

১০৮০x ১৯২০ পিক্সেল রেজুলেশন
৫.৫ ইঞ্চি অপটিক এইচডি এমোলেড ডিসপ্লে
আন্ড্রয়েড মার্সম্যালো ৬.০.১ ।
ডুয়াল কোর ২.১৫ ও ১.৬ গিগাহার্জ কায়রো কোয়ালকম স্নাপড্রাগন ৮২০ প্রসেসর
থ্রিজি ও ফোর জি ব্যবহারের সুবিধা
এড্রেনো ৫৩০ মেগাহার্জ জিপিইউ
৬ গিগাবাইট র‍্যাম
৬৪ গিগাবাইট ইন্টারনাল স্টোরেজ
পেছনে ১৬ মেগাপিক্সেল ও সামনে ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা
৩,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের নন-রিমুভেবল লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি
দৃষ্টিনন্দন ওক্সিজেন ওএস
ডিজাইন
ওয়ান প্লাস ওয়ানের প্রথম সংস্করণে বডি ফিনিশিং ছিল প্লাস্টিক ও বেলে পাথরের সংমিশ্রণ। পরের সংস্করণ ছিল প্লস্টিক রিয়ারের সঙ্গে মেটাল মিশ্রণের ধাতব। আর ওয়ান প্লাস থ্রির বডি ফিনিশিং এসেছে অ্যালুমিনিয়ামের সংমিশনে গ্রাফাইটের ৭.৪ মিলিমিটারের পুরু মেটাল বডি যা অনেকটাই আইফোনের সমতুল্য।

এটির ওজন ১৫৮ গ্রাম। সামনে নিচের দিকে রয়েছে হোম বাটন, ব্যাক ও রিসেন্ট কন্ট্রোল বাটন এবং ফ্লোটেবল সফট কী। বামে রয়েছে ভলিউম আপ ডাউন বাটন ও ইমারজেন্সি সাইলেন্ট বাটন। ডানে পাওয়ার এবং নিচের দিকে হেডফোন জ্যাক ও চার্জিং পোর্ট ।

ডিভাইসটির ফ্রন্ট প্যানেলের উপরের দিকে রয়েছে স্পিকার, সেলফি ক্যামেরা ও প্রক্সিমিটি সেন্সর।



ডিসপ্লের মানে অসন্তোষ
ফোনটিতে ব্যবহৃত ১০৮০x ১৯২০ পিক্সেল রেজুলেশনের ৫.৫ ইঞ্চি অপটিক এইচ ডি এমোলেড ডিসপ্লেটির পিক্সেল ঘনত্ব ৪০১। যেখানে গতবছর রিলিজ হওয়া নেক্সাস পি৬ স্মার্টফোনটির পিক্সেল ঘনত্ব ৫১৮।

মূলত বর্তমান বাজার চাহিদা অনুসারে ৪০১ পিক্সেলের ডিসপ্লে সচারচর সাধারন বলেই ধরা যায় । একারণে ডিসপ্লেটি থেকে ব্যবহারকারীরা আশানুরূপ সন্তুিষ্ট নাও পেতে পারেন।

ডিভাইসটিতে করনিং গরিলা গ্লাস ৪ ব্যবহার করা হয়েছে স্ক্রিন প্রটেকশনের জন্য, যাতে সহজে স্ক্র্যাচের ঝামেলা থেকে বারাবরের মত রেহাই পাওয়া যায়।

অপারেটিং সিস্টেমে নতুনত্ব
‘নেভার সেটেলডাউনে’র মতো আপোসহীন স্লোগানের অধিকারী ওয়ান প্লাস থ্রি স্মার্টফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে বহু প্রতীক্ষিত মার্সমেলো অপারেটিং সিস্টেম। এতে তাদের নিজস্ব অক্সিজেন ওএস এ অপারেটিং সিস্টেমটিকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে।

সহজে ব্যবহার করতে এবং দ্রুত ও পরিবর্তনশীল দৃষ্টিনন্দন থিম, ক্যামেরা সেটিংস, কন্টাক্ট লিস্টসহ বেশ কয়েকটি ফিচার কাস্টোমাইজ করার মত বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে।

পারফরমেন্সে এগিয়ে
স্মার্টফোনটিতে ডুয়াল কোর ২.১৫ ও ১.৬ গিগাহার্জ কায়রো কোয়ালকম স্নাপড্রাগন ৮২০ প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে, যা উচ্চগতির। অভ্যন্তরীণ আপোসহীন কর্মক্ষমতার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে দুটি কোর ও অতিরিক্ত দুই লোয়ার ক্লক।

উভয়ই কায়রো কোর ১৪এনএম দ্বারা গঠিত যা পুরোনো কর্টেক্স-এ৫৭ স্ন্যাপড্রাগন ৮১০ এ ব্যবহৃত কোরের চেয়ে অধিক শক্তিশালী।



মেটালিক ফিনিশিংয়ের জন্য অনেক সময় অতিরিক্ত প্রেশারের ক্ষেত্রে ডিভাইসটি কিছুটা গরম হয়ে পড়ে।

ডিভাইসটিতে রয়েছে ৬ জিবি ডুয়াল চ্যানেল র‍্যাম, যা ডিডিআর৪ ফোনের তুলনায় অধিক দ্রুত ডেটা প্রসেস করতে পারদর্শী।

হার্ডওয়্যারের উপর নির্ভর করে ফোনটিতে থাকবে ইন্টারনাল ৬৪ গিগাবাইট মেমোরি। এতে ডুয়াল সিম সাপোর্ট সুবিধা থাকলেও এক্সটারনাল মেমরি ব্যবহার করার সুযোগ থাকছে না, যা একটি সীমাবদ্ধতা হিসেবেই চিহ্নিত করা যায়।

ইউএসবি সি টাইপ পোর্টের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক রিভার্সিবল কানেক্টর। গ্রাফিক্স সুবিধা দিতে রয়েছে অ্যান্ডেনো ৫৩০ জিপিইউ।

আকর্ষণীয় শক্তিশালী ক্যামেরা
ফোনটির পিছনে রয়েছে ফ্ল্যাশসহ ১৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। সেলফি তোলার জন্য রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। শক্তিশালী ও ঝকঝকে ছবির নিশ্চয়তা দেবার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে সনি আইএমএক্স২৯৮ ১৬ মেগাপিক্সেল সেন্সর।

ফেইস বিউটি, জিআইএফ শট, জেশ্চার, এইচডিআর, প্যানােরমা, সেলফ টাইমার ও ফেইস ডিটেকশনসহ বিভিন্ন ফিচারে পরিপূর্ণ ক্যামেরা অপশন।

ভিডিওয়ের ক্ষেত্রে থাকছে ৭২০পি, ১০৮০পি ও ৪কে সুবিধা। ভিডিওয়ের মান ও স্থিতিশীলতা সন্তোষজনক।

মাল্টিমিডিয়ায় সন্তুষ্টি
ফোনটির মিউজিক অভিজ্ঞতা বেশ ভালো। ভালো মানের সাউন্ড কোয়ালিটির জন্য ব্যবহার করা হয়েছে এক্টিভ নয়েজ ক্যান্সেলেশন ও ডেডিকেটেড মাইক।

এটির সঙ্গে হেডফোন দেওয়া হয় না। কোনো ল্যাগ ছাড়াই ফুল এইচডি ভিডিও প্লেব্যাক করা যায়।



গেইমিং
স্মার্টফোনে গেইম খেলতে পছন্দ করেন না এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া ভার। সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ায় এটি গেইমিংয়ের জন্য এটি যথার্থ ও বেশ উন্নত মানের ফোন। এতে রয়েছে স্ন্যাপ্নড্রাগন ৮০১ প্রসেসর ও এড্রেনো ৫৩০ জিপিইউ। তাই হাই গ্রাফিক্সের গেইম খেলা যাবে অনায়াসেই।

ট্যাম্পল রান, ফ্রুট নিঞ্জা, রেসিং কার জাতীয় গেইমগুলোর পাশপাশি জিটিএ, এনএফএস আসফ্যালহাট ৮ সহ অন্যান্য হাই গ্রাফিক্স গেইমগুলো চলবে চমৎকার ভাবে।

তবে র‍্যামের উপর অধিক চাপ থাকলে মাল্টিটাস্কিং ও গেইমিংয়ের ক্ষেত্রে ডিভাইস হালকা গরম হয়ে যেতে পারে।

অসোন্তসজনক ব্যাটারি
তিন হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ারের নন-রিমুভেবল ব্যাটারি সাধারন ব্যবহারকারীর জন্য পর্যাপ্ত হলেও ওয়ান প্লাস থ্রি ডিভাইসটির জন্য সন্তোষজনক নয়।

কারণ এটির ডুয়াল ক্লকিং সুবিধা ও গেইমিং পারফরমেন্সের বিবেচনায় এর চার্জের ব্যপ্তিকাল খুব বেশি সময় স্থায়ী নয়। তবে মধ্যম ব্যবহারে সারাদিন ব্যাকআপ দিতে সক্ষম।



মূল্য
৬ গিগাবাইট র‍্যাম ও ৬৪ গিগাবাইট স্টোরেজ সংস্করণের স্মার্টফোনটির দাম রাখা হয়েছে ৪২,৫০০ টাকা।

এক নজরে ভালো

অসাধারন গেইমিং পার্ফরমেন্স
চমৎকার ক্যামেরা
স্থিতিশীল ৪কে ভিডিও রেকর্ডিং
সন্তোসজনক সাউন্ড কোয়ালিটি
দৃষ্টিনন্দন ওক্সিজেন ওএস
শক্তিশালী অধিক র‍্যাম
ফাস্ট চার্জিং সুবিধা
মোবাইল পেমেন্টের জন্য এনএফসি
যএক নজরে খারাপ

এক্সটারনাল মেমরি কার্ড স্লট নেই
ব্যাটারি ব্যাকআপ সন্তোষজনক নয়
ডিসপ্লে কালার এসআরজিবি ন্যাচারাল দেখায় না
অস্থিতিশীল ডিসপ্লে কালার
অধিক চাপে ডিভাইস গরম হয়ে যায়

[Trick] Uc Browser দিচ্ছে ৪০০০ টাকা করে বিকাশে। বাংলাদেশ থেকে প্রথম থেকে ৪০০০ জন পাবে ৪০০০ টাকা করে ।

Googleplus Pint
Asifkhan Asif
Posts 1372
Post Views 180