MysmsBD.ComLogin Sign Up

Search Unlimited Music, Videos And Download Free @ Tube Downloader

হেলিও এস২ : দারুণ ফিচারে দুর্বলতা শুধু ফিঙ্গারপ্রিন্টে

In মোবাইল ফোন রিভিউ - Oct 04 at 9:49pm
হেলিও এস২ : দারুণ ফিচারে দুর্বলতা শুধু ফিঙ্গারপ্রিন্টে

: সম্প্রতি বাজারে এসেছে এডিসন গ্রুপের হেলিও ব্র্যান্ড সিরিজের নতুন স্মার্টফোন এস২। এর আগে এই সিরিজের দুটি স্মার্টফোন এনেছে গ্রুপটি। তবে সেগুলোর চেয়ে আরও অত্যাধুনিক ফিচার আর উন্নত কনফিগারেশন দিয়ে নতুন মডেলের ফোনটি বাজারে ছেড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন স্মার্টফোনটিতে রয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার প্রযুক্তি। যা খুব সহজেই ব্যবহারকারীকে লক-আনলকসহ বিভিন্ন সুবিধা দেবে।

ক্রেতাদের আগ্রহ বিবেচনার স্মার্টফোনটির ভালো-মন্দ জানতে টেকশহর রিভিউ টিম বেশ কিছুদিন হ্যান্ডসেটটি ব্যবহার করেন। সেই ব্যবহারে হ্যান্ডসেটটির মূল্যায়ণ করা হয়। সেই মূল্যায় হ্যান্ডস-অন রিভিউ।

একনজরে হেলিও এস-২



১০৮০*১৯২০ পিক্সেল রেজুলেশনের ৫.৫ ইঞ্চি আইপিএস ডিসপ্লে।
ফোরজি নেটওয়ার্কের সুবিধা।
মিডিয়াটেক এমটি-৬৭৫৩ চিপসেট।
মাল্টি-৭২০ এমপি-৩ জিপিইউ।
৩ গিগাবাইট র‍্যাম।
৩২ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ।
১২৮ জিবি পর্যন্ত এসডি কার্ড ব্যবহারের সুবিধা।
সনি আইএমএক্স সেন্সরযুক্ত ১৩ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা ও ৮ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরা ।
৩১৫০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের নন-রিমুভেবল ব্যাটারি।
ফিঙ্গার প্রিন্ট সেন্সর।

মোড়ক খুললে যা মিলবে

একটি হ্যান্ডসেট।
একটি ইয়ারফোন।
একটি চার্জিং এডাপ্টর।
একটি ইউএসবি ডেটা ক্যাবল।
একটি প্লাস্টিক ব্যাক কাভার ।
ইউজার ম্যানুয়াল এবং
ওয়ারেন্টি কার্ড ।

ডিজাইন নজরকাড়া :

নজরকাড়া ডিজাইন ও আউটলুক দিতে হ্যান্ডসেটিতে ব্যবহার করা হয়েছে মেটাল বডি। ডিভাইসটির ফ্রন্ট প্যানেলের উপরের দিকে রয়েছে স্পিকার, ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরা, প্রক্সিমিটি সেন্সর ও লাইট সেন্সর।

একদম নিচের দিকে রয়েছে চার্জিং পোর্ট ও ৩.৫ মিমি অডিও জ্যাক। পাওয়ার/লক বাটন ও ভলিউম রকারস রয়েছে ডিভাইসটির ডান দিকে । একেবারে পিছনে থাকছে রিয়ার ক্যামেরা ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার সেন্সর।

ডিসপ্লে ও টাচ

এডিসন গ্রুপের হেলিও ব্র্যান্ড সিরিজের তৃতীয় এই ফোনটিতে ৫.২ ইঞ্চির ১০৮০ পিক্সেল ফুল এইচডি আইপিএস ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। যার পিপিআই ৪০০। এ কারণে ডিভাইসটিতে ভিডিও প্লেব্যাক কিংবা হাই-গ্রাফিক্স গেইমিং এক্সপেরিয়েন্স এক কথায় অসাধারণ। আমাদের দেখায় (ব্যবহার করে) ডিভাইসয়াটির ডিসপ্লেটিতে উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি।

অপারেটিং সিস্টেম:

অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ মার্শম্যালো অপারেটিং সিস্টেমে চলবে হ্যান্ডসেটটি। হ্যান্ডসেটের ইউজার ইন্টারফেস এ বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। যেমন : নোটিফিকেশন সেন্টার উপরের পরিবর্তে নিচে ব্যবহার করা হয়েছে, থাকছে না কোনো অ্যাপ ড্রয়ার, রয়েছে থিম ব্যবহার ও অন্যান্য কাস্টমাইজেশনের সুবিধা ।



ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর:

এই ফোনে যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ব্যবহার করতে গিয়ে দেখা গেছে বিভিন্ন সময় এটি খুব ভালো কাজ করেনি। তাই সেদিক বিবেচনায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরকে খুব ভালো বলা যায় না। তারপ্রও এটির সাহায্যে আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে ডিভাইস লক-আনলকের পাশাপাশি ছবি তোলা, ইনকামিং কল রিসিভ করা ইত্যাদি কাজ করা যাবে।

ক্যামেরায় চমক:

এই ফোনটির সবচেয়ে ভালো দিক মনে হয়েছে এর ক্যামেরা। এতে সনির সেন্সরযুক্ত ১৩ মেগাপিক্সেলের রিয়াল ক্যামেরা ও ৮ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। রাতের আলোতে এর ক্যামেরার পারফরমেন্স মধ্যম মানের হলেও দিনের আলোতে এই ফোনে চমৎকার ছবি তোলা সক্ষম। এই ফোনের আরেকটি বিশেষত্ব হচ্ছে রিয়ার ক্যামেরার পাশাপাশি এর সেলফি ক্যামেরাতেও ফ্ল্যাশ রয়েছে ।

পারফরমেন্স:

এই হ্যান্ডসেট মিডিয়াটেকের এমটি-৬৭৫৩ চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে। ৬৪ বিট প্রযুক্তির ১.৩ গিগাহার্জ গতির অক্টাকোর বিশিষ্ট শক্তিশালী এই প্রসেসরের পাশাপাশি গ্রাফিক্স প্রসেসিং এর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে মালি টি-৭২০ এমপি-৩ জিপিইউ।

আর পুরো সিস্টেমকে চালনার জন্য থাকছে ৩ গিগাবাইট র‍্যাম। সবমিলিয়ে ডিভাইসটি চমৎকার পারফরমেন্স দিতে সক্ষম। তবে মেটাল বডি হওয়ার কারণে দীর্ঘক্ষণ চালনায় কিছুটা গরম হয়ে উঠতে পারে হ্যান্ডসেটটি।

ডিভাইসটিতে ডাটা স্টোরেজ হিসেবে থাকছে ৩২ গিগাবাইটের ইন্টারনাল মেমোরি যা মাইক্রো এসডি কার্ড ব্যবহার করে ১২৮জিবি পর্যন্ত বাড়িয়ে নেওয়া যাবে ।

বেঞ্চমার্ক

স্মার্টফোনের পারফরমেন্স যাচাইয়ের জনপ্রিয় অ্যাপ আন্টুটু বেঞ্চমার্কে এর স্কোর এসেছে ৩৮৮৮৩ , যা এই বাজেটের ফোন হিসেবে সচরাচর পাওয়া যায় না। যা সেই হিসাবে খুব ভালো।

পাশাপাশি গ্রাফিক্স পারফরমেন্স যাচাইয়ের অ্যাপ নেনামার্ক-২ তে এর স্কোর এসেছে ঃ ৫৯।



মাল্টিমিডিয়া:

এই ফোনটির মিউজিক এক্সপেরিয়েন্স বেশ ভালো মানের। এই ফোন কোনো ধরনের ল্যাগ ছাড়াই ফুল এইচডি ভিডিও প্লেব্যাক হয়। আর ফোনের সাথে থাকা হেডফোনটির কোয়ালিতি বেশ ভালো মনে হয়েছে আমাদের কাছে।

কানেক্টিভিটি:

ফোরজি সুবিধাযুক্ত হাইব্রিড ডুয়াল সিম প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারী একই সঙ্গে দুটি সিম কিংবা একটি সিম ও একটি মাইক্রো এসডি কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন।

এছাড়াও ওয়াই-ফাই, ওয়াই-ফাই ডিরেক্ট, জিপিএস, এফএম রেডিও প্রভৃতি কানেক্টিভিটি সুবিধা রয়েছে।

ব্যাটারি

এই ফোনে তিন হাজার ১৫০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের নন-রিমুভাবল ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। আমাদের ব্যবহারে ডিভাইসটির ব্যাটারি ব্যাক-আপ বেশ ভালো মনে হয়েছে। একবার ফুল চার্জে টানা এক বা দুই দিন চলবে।

মূল্য:

এক বছরের বিক্রয়োত্তর সুবিধাসহ দেশের বাজারে স্মার্টফোনটি ১৫ হাজার ৯৯০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

এক নজরে ভালো:

অসাধারন ডিজাইন
ভালো মানের ডিসপ্লে
ডুয়াল ফ্ল্যাশ বিশিষ্ট ক্যামেরা

এক নজরে খারাপ:

একই সাথে ডুয়াল সিম ও মেমরি কার্ড ব্যবহার না করতে পারা।
ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরের মান দুর্বল।
- টেকশহর

Googleplus Pint
Asifkhan Asif
Posts 1372
Post Views 209