MysmsBD.ComLogin Sign Up

৯ লক্ষণে বুঝবেন আপনার সহকর্মীরা অবিশ্বস্ত

In লাইফ স্টাইল - Oct 04 at 3:29pm
৯ লক্ষণে বুঝবেন আপনার সহকর্মীরা অবিশ্বস্ত

অবিশ্বস্ত সহকর্মীরা যেকোনো কর্মস্থলের অভিজ্ঞতাকে বিষিয়ে তুলতে পারেন। সুতরাং সেসব সহকর্মীকে চিহ্নিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যারা আপনার আস্থাভাজন হওয়ার যোগ্য নন। আর নয়ত তারা আপনাকে পিঠে ছুরি মেরে বসবেন।

এই লক্ষণগুলো দেখে বুঝবেন কোনো সহকর্মীকে বিশ্বাস করা যায় না :

১. ঈর্ষাকাতরতা
ঈর্ষা একটি বিশ্বজনীন প্রবণতা। কিন্তু কর্মস্থলে যদি ঈর্ষাকাতরতার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে না থাকে তাহলে তা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ঈর্ষাকাতর লোকরা তাদের সফল সহকর্মীদের যা আছে তা পেতে চান। যার ফলে অসন্তোষ, অদূরদর্শিতা ও সম্পর্ক বিষাক্ত হয়ে ওঠার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

ঈর্ষাকাতর সহকর্মীদের সামলানোর উপায় :
যারা অন্যের ঈর্ষাকাতরতার শিকার হতে ভয় পান তারা বেশি বেশি সামাজিকতার অনুকূল আচরণ করার প্রবণতা দেখান। যারা তাদেরকে ঈর্ষা করতে পারেন তাদেরকে সহায়তা করার মাধ্যমে তাদের হিংসা থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করেন এরা। এর ফলে পিছিয়ে পড়া সহকর্মীদের অবস্থারও উন্নতি ঘটে।

অন্যের সাফল্য দেখে প্রতিনিয়ত যে সহকর্মীদের পেট কামড়ায় তাদের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন। কারণ আপনার সাফল্য দেখার পর এদের ভেতরকার সবুজ চোখওয়ালা দানবটি আপনার ওপরও চড়াও হবে।

২. অসততা
অসৎ সহকর্মীদের আপনি বিশ্বাস করতে পারবেন না। কোনো সহকর্মী যদি প্রতিনিয়তই মিথ্যা কথা বলে, বা আপনার কাজের কৃতিত্ব চুরি করে তাহলে ধরে নেবেন তারা ব্যক্তি হিসেবে অসৎ। আর মনে রাখবেন, যদিও তাদের অসততা সরাসরি আপনার ক্ষতি করছে না তথাপি তারা ইতিমধ্যেই নিজেদেরকে অবিশ্বস্ত হিসেবে প্রমাণ করেছে। আর কোনো মিথ্যবাদীর ওপর আস্থা রেখে আপনি মনে শান্তি পাবেন না।

অসৎ সহকর্মীদের সামলানোর উপায়:
অসৎ সহকর্মীদেরকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ না করে বরং তাদের অসততামূলক আচরণ বা পরিস্থিতির মোকাবিলা করুন।

৩. গুজব ছড়ায়
কর্মস্থলে বন্ধুদের মাঝে বিভিন্ন বিষয়ে গল্প-গুজব একটি স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু কোনো সহকর্মী যখন গুজব ছড়ানোতেই বেশি ব্যস্ত থাকবে তা খুবই বাজে লক্ষণ। গুজব কারো খ্যাতি নষ্ট করতে পারে এবং অন্যদের অনুভূতিতেও আঘাত হানতে পারে। সুতরাং এ থেকে দূরে থাকুন।

আর মনে রাখবেন, কেউ যদি আপনার সামনে অন্যদের ব্যাপারে বাজে কথা বলে তাহলে আপনার পেছনেও যে তারা আপনাকে নিয়ে বাজে কথা বলছে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

গুজব ছড়ানো সহকর্মীদের মোকাবিলা করবেন যেভাবে :
অফিসে কারো ব্যাপারে গুজবে কান দেওয়াটা হয়ত লোভনীয়। কিন্তু এমনটা করার মাধ্যমে আপনি আপনার কর্মজীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছেন। কর্মস্থলে আপনি হয়ত প্রায়ই হতাশায় আক্রান্ত হবেন। কিন্তু কর্মস্থলে হিংসাত্মক গল্প ছড়ানোর কাজে লিপ্ত না হওয়াটাই উত্তম; যদিও তা আপনার হতাশা কমাতে সহায়ক হয়। সুতরাং কর্মস্থলে যারা গুজব ছড়ায় তাদের কাছ থেকে সব সময়ই দূরত্ব বজায় রাখুন। আর দূরত্ব বজায় রাখতে না পারলে কোনো গুজব শোনার পর তা নাকচ করে দিন।

৪. অন্যকে হেয় করে
কর্মস্থলে চক্রান্তকারী এবং অপরকে হেয়কারী সহকর্মীদেরকে সব সময়ই এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। কোনো সহকর্মীকে কি তার সঙ্গে ভালো একটি ধারণা নিয়ে কথা বলার পর সেটি চুরি করে নিজের বলে চালিয়ে দিতে দেখেছেন? আপনি কি সহকর্মীদের অসহযোগিতার কারণে কোনো বৈঠকে উপস্থিত থাকতে ব্যর্থ হচ্ছেন? এমন ঘটতে থাকলে বুঝবেন যে, আপনার কাজ নিয়ে তারা গড়বড় শুরু করেছেন। আপনি হয়ত তাদেরকে অন্যদের ধারণার কৃতিত্ব চুরি করতে দেখবেন। এমনটি ঘটতে দেখলে নিজের ধারণাগুলো চুরির বিষয়েও আগেভাগেই সতর্ক হন।

অন্যকে হেয়কারী সহকর্মীদেরকে সামলাবেন যেভাবে :
প্রথমত, এটা জেনে রাখুন যে, তারা এমনভাবে আচরণ করছেন কারণ তারা আপনাকে ভয় পান। আপনি সত্যিকার অর্থেই তাদের জন্য একটি হুমকিস্বরূপ। সুতরাং নিজের পিঠটি রক্ষা করুন। আপনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ভান করতে আসলে তাদের এড়িয়ে চলুন। আর তাদের সঙ্গে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করবেন না। তাদের যেকোনো গুরুতর প্রতারণা সম্পর্কে আপনার বসকে অবহিত করুন।

৫. তোষামুদে
বসের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক স্থাপন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু কিছু লোক আছে যারা এ বিষয়ে বহুদুর পর্যন্ত এগিয়ে যান। এরা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সাফল্য লাভের পরিবর্তে বরং উচ্চপদস্থদের তোষামোদ করেই টিকে থাকতে চান।

এরা উচ্চপদস্থদের প্রিয় হওয়া সত্ত্বেও নিজের সাফল্যের জন্য এদের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধবেন না। বসের পোষা লোকরা নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার জন্য কর্মস্থলে কঠোর পরিশ্রমের পরিবর্তে যেকোনো ন্যাক্কারজনক কাজ করতে পারেন।

এদের মোকাবিলা করবেন যেভাবে :
কর্মস্থলে উচ্চপদস্থদের পদলেহনকারী সহকর্মীদেরকে সব সময়ই এড়িয়ে চলুন। আর মনে রাখবেন, কোন কর্মীটি সত্যিকার অর্থেই মূল্যবান আপনার বস তা বুঝার জন্য যথেষ্ট স্মার্ট। কর্মস্থলে সহকর্মীদের মাঝে এই ধরনের আচরণ সত্যিই বিরক্তিকর। তবে আপনি যদি এ কথাটি মনে রাখেন যে, পদলেহনকারীরা কখনোই নিজেদের প্রত্যাশা মতো ফল পান না তাহলে আপনারই মঙ্গল হবে। বেশির ভাগ ম্যানেজারই বশ্যতা এবং কার্যকারিতার মধ্যে সুস্পষ্টভাবে পার্থক্য করতে সক্ষম। এমনকি প্রকৃতপক্ষে আপনার জন্য সবচেয়ে উপকারি কাজটি হবে প্রতিনিয়ত পদলেহনকারীদেরকে এড়িয়ে চলার জন্য নিজেকে প্রশিক্ষিত করে তোলা।

৬. আপনার ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনের ভারসাম্য রক্ষায় যত্নবান নয়
যারা কর্মজীবনের সঙ্গে আপনার ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষায় যত্নবান নন তারা হয়তো আপনার ক্যারিয়ার ধ্বংস করছে না। কিন্তু তথাপি তারা আপনার জন্য দুঃসংবাদ। এরা হলেন সেই বস বা সহকর্মী যারা চান যে, কাজের খাতিরে আপনি আপনার ব্যক্তিগত জীবনের সবকিছু বিসর্জন দেবেন।

তবে কিছু কিছু সময় অবশ্যই আপনার ব্যক্তিগত জীবনের ওপর আপনার কর্মজীবন প্রাধান্য লাভ করবে। কিন্তু যারা চায় আপনি আপনার ব্যক্তিগত জীবনকে পুরোপুরি বিসর্জন দিয়ে শুধু কর্মজীবনকে প্রাধান্য দেবেন তারা কখনোই আপনার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের উন্নতি কামনা করতে পারেন না।

এদের সামলাবেন কীভাবে :
যখন আপনার ব্যবস্থাপকের ব্যস্ততা কম থাকে এমন একটি সময় বাছাই করুন। তাকে আপনার কাজের চাপ সম্পর্কে অবহিত করুন। তাকে ব্যাখ্যা করে বলুন যে আপনার কাজের চাপ একটু বেশিই হয়ে যাচ্ছে এবং আপনি আর তা সইতে পারছেন না।

৭. আপনাকে অসম্মান করে
কেউ যদি আপনাকে কর্মস্থলের মৌলিক সম্মান পাওয়ার অযোগ্য বলে মনে করেন তাহলে তাদেরকে আপনি আর কোনো বিষয়েই বিশ্বস্ত মনে করতে পারেন না। এই অসম্মান তাদের দেহভঙ্গিগত ভাষা ও কুৎসা রটানোর মতো কাজের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

এদের কীভাবে সামলাবেন :
আপনাকে যদি কর্মস্থলের ন্যূন্যতম মানবিক সম্মান থেকেও বঞ্চিত করা হয় তাহলে আপনার বসের সঙ্গে কথা বলুন। এর জন্য যদি ব্যবস্থাপনা বিভাগও কিছুটা দায়ী হয়ে থাকে তাহলে মানবসম্পদ বিভাগকেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট করুন।

৮. সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তারা যে কোনো কিছু করতে প্রস্তুত
আপনি যদি এমন কোনো কর্মস্থলে কাজ করেন যেখানে যেকোনো কিছুই সম্ভব, তাহলে কারো ওপর বিশ্বাস স্থাপন না করাই ভালো। আপনি হয়ত মানসিকভাবে বিকৃত বলে গণ্য হতে চান না। কিন্তু আপনি যদি যেকোনো মূল্যে সাফল্য লাভের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন তাহলে আপনার শত্রুর অভাব হবে না। শত্রুরা আপনাকে বাসের তলায় পিষ্ট করতে একটুও দ্বিধা করবে না।

এদের সামলাবেন কীভাবে :
এই ধরনের সহকর্মীদের মোকাবিলা করতে গিয়ে এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, এরা হয়ত আপনার বিরুদ্ধে মনে কোনো ব্যক্তিগত অসন্তোষ লালন করেন না। কিন্তু উপযুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও এরা আপনাকে নিজের সুবিধা আদায়ের জন্য বিক্রি করে দেবে।

৯. এরা নেতিবাচক কর্মস্থল সংস্কৃতির একটি লক্ষণ মাত্র
অবিশ্বস্ত সহকর্মীরা হয়ত বড় কোনো সমস্যার একটি লক্ষণ মাত্র। এমনও হতে পারে আপনার কম্পানিই হয়তো কুকুরে-কুকুরে কামড়া-কামড়ির সংস্কৃতি উৎসাহিত করে। আপনার প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র ব্যবস্থাপকদের স্বরটি বুঝার চেষ্টা করুন। তারা কি আপনাকে সহযোগিতা এবং সমর্থনমূলক পরিবেশ দিচ্ছেন নাকি উচ্চ প্রতিযোগিতামূলক এবং পিঠে ছুরি মারার মতো পরিস্থিতিতে কাজ করতে বাধ্য করেছন?

বিষাক্ত কর্মপরিবেশের মোকাবিলা করবেন কীভাবে :
এক এক করে প্রতিটি সহকর্মীর সঙ্গে মোকাবিলা করা একটু কঠিনই বটে। আর পুরো একটি প্রতিষ্ঠান যেভাবে কাজ করে তা রাতারাতি বদলে ফেলাটাও প্রায় অসম্ভব। এমন ক্ষেত্রে আপনার জন্য সবচেয়ে উপকারী পদক্ষেপটি হবে নিজের ক্ষতি কমিয়ে আনার জন্য অন্য কোথাও কাজের সন্ধান করা।

সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

Googleplus Pint
Mizu Ahmed
Posts 3787
Post Views 142