MysmsBD.ComLogin Sign Up

ইন্টারভিউয়ে আপনাকে বিপদে ফেলতে পারে যে ১১টি প্রশ্ন

In চাকুরি প্রস্তুতি - Sep 16 at 8:02am
ইন্টারভিউয়ে আপনাকে বিপদে ফেলতে পারে যে ১১টি প্রশ্ন

স্মল বিজনেস রিপোর্টে বলা হয়, ২০১৬ সালের ৫০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের মতে, নতুন প্রার্থী নির্বাচন কঠিনতম কাজের একটি। কাজেই বলা যায়, আপনার স্বপ্নের চাকরি আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। এখন বাকি ইন্টারভিউটা ঠিকভাবে দেখা। তারপরও যত প্রস্তুতিই থাক না কেন, ইন্টারভিউয়ে বসা অনেক কঠিন কাজের একটি। এই স্নায়বিক চাপ সামলাতে কিছু বিষয়ে সাবধান থাকতে হবে। এগুলো সাধারণ প্রশ্ন বলেই মনে হয়। কিন্তু উত্তর দিতে গিয়ে আমতা আমতা করলে বিপদে পড়ে যাবেন।

১. আপনি নিজের সম্পর্কে বলতে পারেন? : সোজাসাপ্টা প্রশ্ন বলেই মনে হয়। এর প্রশ্নের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য সম্পর্কে জানতে চান বলে মনে হয়। উত্তর দিতে হলে পরিবার বা ব্যক্তিগত জীবনের অস্বস্তিকর বিষয়ে কথা বলবেন না।

২. আপনি কি ছুটি কাটাতে গিয়েও ই-মেইল চেক করেন? : এর উত্তর হ্যাঁ হলে বোঝা যাবে আপনি দারুণ দায়িত্ববান মানুষ। অন্যদিকে বলা যায়, ব্যক্তিগত-পেশাগত জীবনের সমন্বয় করতে সক্ষম নন আপনি। এমন উত্তর দেবেন যেন আপনি কাজের প্রতি দায়িত্বশীল। তা বলে এমন বোঝাবেন না যে, অফিসের কাজ অফিসেই শেষ করতে পারেন না। ছুটি কাটাতে গিয়ে অফিসের বাকি কাজ সারা ভালো বিষয় নয়।

৩. এই ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি কিভাবে নিয়েছেন? : এর মাধ্যমে তারা বুঝতে চায় আপনি হুজগের বসে চলে এসেছেন, নাকি অনেক বুঝে-শুনে এসেছেন? বোঝাতে হবে যে, আপনি প্রতিষ্ঠান ও কাজ নিয়ে গবেষণা চালিয়েছেন। তা ছাড়া চাকরির চলতি বাজার সম্পর্কেও ধারণা রয়েছে আপনার। অর্থাৎ হোমওয়ার্ক সেরেছেন, যা সব সচেতন প্রার্থী করে থাকেন।

৪. আপনার স্বপ্নের চাকরি কোনটি? : এটাও এমন এক প্রশ্ন যা কাজের প্রতি আপনার মানসিকতা ফুটিয়ে ধরবে। এ প্রশ্নে বোঝা যাবে এই চাকরিটি আপনি কতটা পছন্দ করেন। যে জবাবই দেন না কেন যেন তার অর্থ হয়, এখানে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে আপনার।

৫. পাঁচ বছরের মধ্যে নিজেকে কোথায় দেখতে চান? : এ প্রশ্নের জবাবে তারা বুঝে নেবে আপনি এই চাকরিতে কত সময় টিকে থাকতে পারবেন। মূলত প্রতিষ্ঠান এমন কর্মী চায় না যারা দীর্ঘদিন কাজ করতে চান না। কাজেই জবাব বুঝে দিতে হবে। যে কাজ করছেন তার পেছনে উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকলেই চলবে না। আপনার ভালো লাগা ও আবেগ থাকতে হবে।

৬. আপনার বড় দুর্বলতা কি? : অনেকেই এ প্রশ্নের জবাবে নিজেকে নিখুঁত মানুষ বলে তুলে ধরতে চান। কিন্তু কোনো মানুষই নিখুঁত নয়। তা ছাড়া এভাবে যারা কাজ করেন তারা সময়ের অপচয় ঘটান। কাজেই জবাবে বলতে পারেন যে, আপনি এমন মানের কাজ করতে চান যা শতভাগ সফলতা বয়ে আনবে।

৭. এখানে কেন কাজ করতে চান? : এ প্রশ্নের মাধ্যমেও আপনার পছন্দের কাজ সম্পর্কে ধারণা পেতে চান তারা। অনেকভাবেই উত্তর দেওয়া যায়। বলতে পারেন, অনেক পরিচিত মানুষের মুখে এখানকার প্রশংসা শুনেছেন। আবার বলতে পারেন যে, এ প্রতিষ্ঠানে কাজটি বেশ চ্যালেঞ্জিং। অথবা তাদের ফেসবুক পেজ যথেষ্ট পূর্ণ বলে মনে হয়েছে আপনার কাছে।

৮. একা কাজ করতে পছন্দ করেন, নাকি দলগতভাবে? : যদি বলেন একা করতে চান, তবে মনে করা হবে আপনি দলের সঙ্গে কাজ করার যোগ্য নন। আবার দলগতভাবে কাজ করার কথা বলা হলে তারা ভেবে নেবে যে, একা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আপনার নেই। কাজেই জবাব দিন যে, আপনি দুই পরিবেশেই কাজ করতে আগ্রহী।

৯. আগের চাকরিটি কেন ছাড়বেন বা ছেড়েছেন? : এর জবাবে যদি আগের প্রতিষ্ঠান ও বস সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলেন তবে বিপদে পড়ে যাবেন। তাই তাদের সম্পর্কে ভালো কথা বলুন। যতটা পারুন নেতিবাচক দিকগুলো এড়িয়ে যান। কেবল নতুন সুযোগ ও সম্ভাবনা খুঁজে পেতেই নতুন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে চান।

১০. কখনো সহকর্মী বা বস আপনার সততা জলাঞ্জলি দিতে বলেছেন? : আপনার কর্মআদর্শ সম্পর্কে ধারণলাভ করা হব এ প্রশ্নের মাধ্যমে। একেবারে কাঠখোট্টা জবাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এমনটা ঘটলেও বাজে বকবেন না। বরং সততার সঙ্গে উত্তর দিন। ব্যক্তিগত ও স্পর্শকাতর তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সাবধান থাকুন।

১১. বেতনের ক্ষেত্রে আপনার চাহিদা কি? : খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এ প্রশ্নের আলোচনা উভয় পক্ষকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। সাধারণত প্রশ্নকর্তারা এ প্রশ্ন করে বুঝতে চান, আপনার চাহিদা তারা মেটাতে পারবে কিনা। এ প্রশ্নের জবাব দিতে আগে থেকেই প্রস্তুতি রাখুন। বর্তমান বাজারে এ পদের জন্য অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কত বেতন দেয় তার সঙ্গে তুলনা করে নিন। এ হিসাব থেকে নিজে একটা সীমারেখার মধ্যে বেতনের কথা বলতে পারেন। কিংবা বাজার অনুযায়ী যা হওয়া দরকার তাই চাইতে পারেন। সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

Googleplus Pint
Mizu Ahmed
Posts 4094
Post Views 2421