MysmsBD.ComLogin Sign Up

সফল হতে ৩০ বছরের মধ্যেই চাই ১০ অভ্যাস

In লাইফ স্টাইল - Aug 20 at 3:10pm
সফল হতে ৩০ বছরের মধ্যেই চাই ১০ অভ্যাস

১. দৃঢ়চেতা হওয়া
আপনি যদি কাউকে কল করতে যান তাহলে তা করে ফেলুন। কোনো বিষয়ে আপনার উত্তর যদি হয় না তাহলে লোকের চোখে চোখ রেখে তা বলার মতো আত্মশক্তি অর্জন করুন। এতে আপনি সাময়িকভাবে কিছু হারালেও দীর্ঘ মেয়াদে সম্মান অর্জন করতে পারবেন। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার মানে হলো নিজের পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে পরিপূর্ণ বুঝে আসা।

২. সংবেদনশীলতা
সময়মতো কারো ডাকে সাড়া দেওয়ার মানে হলো আপনি তাঁকে যথেষ্ট সম্মান করেন এবং ব্যক্তিগতভাবেও আপনি সুসংগঠিত। এখন আর সহকর্মী, বন্ধু ও পরিবারের ডাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাড়া না দেওয়ার কোনো অজুহাত থাকতে পারে না। কারণ যোগযোগ প্রযুক্তির অভূতপূর্ব বিকাশ সব অজুহাতকেই ছাড়িয়ে গেছে। অন্তত একটি খুদে বার্তা পাঠিয়ে হলেও তাঁদের ডাকে সাড়া দিন।

৩. সময়ানুবর্তিতা
কোথাও পৌঁছাতে দেরি করার চেয়েও বাজে জিনিসটি হলো যখন আপনি কাউকে অপেক্ষারত রাখবেন তা। তিরিশের মধ্যেই সময়ানুবর্তিতার অভ্যাসটি গড়ে তুলতে হবে। এতে আপনি পেশাগত জীবনে যেমন সাফল্য অর্জন করতে পারবেন তেমনি ভালো বন্ধু তৈরিতেও সক্ষম হবেন।

৪. আর্থিক ব্যবস্থাপনা
আর্থিক ব্যবস্থাপনার দক্ষতাটিও তিরিশের মধ্যেই অর্জন করতে হবে। শেষ বয়সে অবসর কাটাতে ব্যয় করার জন্য প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা করতে হবে। আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়টি কোনোভাবেই অবহেলা করার মতো নয়।

৫. প্রতিদিনের রুটিন
সফল ব্যক্তিদের দৈনিক একটি রুটিন বা কার্যসূচি থাকে। নিজের জন্য প্রতিদিন সবচেয়ে উৎপাদনশীল কাজটি খুঁজে বের করার মাধ্যমে আপনি আপনার লক্ষ্যগুলো আরো সহজে অর্জন করতে পারবেন। কিসে আপনাকে সবচেয়ে বেশি শক্তি জোগায়? কোনটি টেকসই? নিজের সর্বোচ্চ সক্ষমতার সময় এবং ধীর সময় সম্পর্কে সচেতন হন। কিভাবে পুনরায় ঠিক পথে ফিরে আসতে হয় তা জানুন। সফল ব্যক্তিরা নিজেদের প্রবণতাগুলো সম্পর্কে জানেন এবং নিজেদের শক্তির ওপর ভিত্তি করেই কার্যতালিকা তৈরি করেন।

৬. সুসংগঠিত
সুসংগঠিত হলে ওপরের সব বিষয়ই আপনার জন্য আরো সহজ হয়ে আসবে। এটি আপনাকে আরো উদ্দেশ্যমূলক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। আর যাদের জীবনধারা উদ্দেশ্যপূর্ণ তারা সব সময়ই অনেক বেশি উৎপাদনশীল এবং অর্থপূর্ণ জীবন পান। নিজের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাছাই করা এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেগুলো বাস্তবায়ন করার মতো দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এর মাধ্যমেই আপনি কর্ম ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারবেন। প্রতি দিন, সপ্তাহ ও মাসের নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো সুসম্পন্ন করতে পারবেন।

৭. স্বেচ্ছাসেবামূলক ও দাতব্য কাজ
পেশাগত জীবনের শুরুতে স্বেচ্ছাসেবামূলক বা দাতব্য কাজ না করার যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে। কিন্তু ৩০ বছর বয়সের মধ্যে আপনার কর্মজীবন ইতিমধ্যেই কয়েক বছর পার করে ফেলেছে। এর মধ্য দিয়ে আপনি নিশ্চয়ই নিজের মূল্য আবিষ্কার করে ফেলেছেন এবং নিজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জেনেছেন।

৮. স্বাস্থ্য সচেতনতা
প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো নিজের যত্ন নেওয়া। নিজের যত্ন নিতে না জানলে আপনি অন্যদেরও যত্ন নিতে পারবেন না। আপনার একজন প্রধান ডাক্তার এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তার থাকতে হবে। আপনার সব চিকিৎসাগত রেকর্ড একীভূত করে রাখতে হবে। এখনই সময় নিয়মিত ডাক্তার দেখানোর জন্য অর্থ ব্যয় করার এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত কাগজপত্র শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখার। আর নয়তো জরুরি সময়ে চড়া মূল্য গুনতে হতে পারে।

৯. নিজের শক্তি ও দুর্বলতাগুলো জানুন
আত্ম-উন্নয়নের লড়াইয়ে আপনি পুরোপুরি বিজয় লাভ করবেন না যদি নিজের দুর্বলতাগুলো স্বীকার করে নিয়ে সেগুলো দূর করার কাজে মনোনিবেশ না করেন। লোকে সততার সঙ্গে তাদের জীবন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চায় না। কারণ এতে সাধারণত তাঁরা নিজেদের অপছন্দ করার অনেক কারণ পেয়ে যান। ফলে তাঁরা বিষয়টিকে আবেগের তলে চাপা দেন। আত্ম-উন্নয়নের বিষয়টি কদাকার। কিন্তু আপনি যদি দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য স্বল্প মেয়াদে একটু অসুবিধায় ভোগেন তাহলে আপনার দ্বারা যেকোনো কাজ সুসম্পন্ন করা সম্ভব হবে। নিজের আত্মসচেতনতাকে সম্মান করতে শিখুন। যাঁরা নিজেদের দুর্বলতাগুলোর মুখোমুখি হয়ে সেগুলোর মোকাবিলা করতে ভয় পান তারা খুব একটা সফল হতে পারেন না।

১০. বিষাক্ত বন্ধুত্ব ত্যাগ
ভুল মানুষের ওপর আস্থা স্থাপন করলে আপনি অবমাননার শিকার হবেন। অভিজ্ঞতার সবচেয়ে বড় সুফল এর ওপর ভিত্তি করে আপনি নিজের বিচার-বিবেচনাকে পরিশুদ্ধ করতে পারবেন। কিন্তু এর সবচেয়ে বড় কুফল হলো আপনি বেশির ভাগ মানুষকেই অবিশ্বাস করতে শুরু করবেন। জীবনটা সংক্ষিপ্ত; আর সময়ও মহামূল্যবান। সুতরাং নিজের অবসর সময়টুকু ভণ্ড, অসহযোগিতামূলক এবং স্বার্থপর বন্ধুদের দিয়ে নষ্ট করবেন না। নিজের সময় ও শক্তির অপচয় করবেন না।

যারা আপনার প্রতি ভালো এবং আপনার উন্নতিতে সহায়তা করে তাদের মূল্যায়ন করুন। কিন্তু পুরোপুরি তাদের ওপর ভরসা করতে যাবেন না। নিজের ভুল স্বীকার করুন। ক্ষমা চাইতে এবং নিজেকেও ক্ষমা করতে শিখুন।

Googleplus Pint
Anik Sutradhar
Posts 7103
Post Views 297