MysmsBD.ComLogin Sign Up

চাকরির সাক্ষাৎকার: ১০টি কিছু কমন ও গুরুত্বপূর্ণপ্রশ্ন

In চাকুরি প্রস্তুতি - Aug 18 at 12:23am
চাকরির সাক্ষাৎকার: ১০টি কিছু কমন ও গুরুত্বপূর্ণপ্রশ্ন

চাকরীর ইন্টারভিউর কথা শুনলে অনেকের বুক শুকিয়ে যায়। রাতে ভালো ঘুম হয়না। টেনশানে চান্দিছিলা গরম হয়ে যায়। ‘‘না জানি কি প্রশ্ন করে? প্রশ্ন কি সহজ হবে না কঠিন হবে? পারবো কি পারবো না? আমার চেয়ে আরেকজন বেশী পারলে কি হবে?’’ অনেকে আবার রাতজেগে পড়াশোনা করেন। তারপর ইন্টারভিউর দিন নিজের ফ্রেসনেস নস্ট করেন, কখনো কখনো মেজাজ পর্যন্ত হারিয়ে নিয়োগকর্তাকে বকা দিতে দিতে বাসায় ফিরে আসেন।

আপনাকে মনে রাখতে হবে। চাকরীর সাক্ষাৎকার মানে তারা আপনাকে বাছাই করতেও পারে আবার নাও করতে পারে। আপনার ন্য়িতি এটাই যে কয়েকটা ইন্টারভিউ দিয়ে আপনাকে চাকরী বেছে নিতে হবে। সূতরাং ইন্টারভিউর জন্য প্রস্তুতিটা নিতে হবে একটা হালকাচালে টেনশান করে চাকরী হওয়ার আগেই টাক হওয়ার কোনো মানে নেই।

যদি চাকরী করে খেতে হয় তাহলে চাকরীর ইনটারভিউর আপনার জন্য খুব সাধারণ এবং এভাবে একটা ব্যাপার। যিনি খুব মেধাবী যেখানে ইন্টারভিউ দেন চাকরীও হয়ে যায় আর ভালো করেন, তিনিও কিন্তু কয়দিন পর আরেকটা ভালো চাকরীর জন্য ইনটারভিউ দিতে যান। যিনি যত মেধাবী খোঁজ নিয়ে দেখেন চাকরী বদলাবার জন্য তাকে তত ইন্টারভিউ দিতে হয়েছে।

আসুন কয়েকটি কমন প্রশ্ন ও সেগুলোর উত্তর দেয়ার কৌশল জেনে নিই।

প্রশ্ন ১: আপনি এখন কি করছেন?
এই প্রশ্নের উত্তর অনেকেই এমনভাবে দেনযে মনে হয় তিনি খুব ভালো নেই। ‘‘ এই আছি একটা প্রতিষ্ঠানে’’ এটা আপনার বিয়ে পাটিতে দেখা হওয়া নতুন বন্ধুকে বলতে পারেন। ইন্টারভিউ বোর্ডে নয়। এখানে কোম্পানী নাম ও আপনার পদবী বলবেন? কোম্পানীর নাম শুনে যদি কোম্পানীর বিজনেস টাইপ বোঝা না যায় সেটা নিজে থেকে উল্লেখ করাও দোষের কিছু নয়। এবং এটা বলার সময় আপনার মুখভঙ্গি যেটাকে আমরা বলি এটিচিউড যেন পজেটিভ থাকে।

প্রশ্ন ২: চাকরী পরিবর্তন করতে চান কেন?
এই প্রশ্নের উত্তরে সবাই বলি যে, বেটার কিছু করার জন্য। এভাবে গতবাঁধা উত্তর থেকে আপনি কোনো আউটপুট আশা করতে পারেন না। যদি নেতিবাচক কিছু না হয় তাহলে সঠিক কথাটাই বলুন। আর বলতে পারেন ট্র্যাক পরিবর্তন করার কথাও। আর যদি সত্যিকার অর্থে বেশী বেতন পাওয়ার জন্য চাকরী পরিবর্তন করতে চান তাহলে সবচে ভালো হলো আগে থেকেই খবর নেয়া আসলে এই কোম্পানী বেটার স্যালারী দিবে কিনা? তাহলে

সেটাই বলুন এবং বলুন যে আমি আশা করছি আমি যে পরিমাণ শ্রমদিতে পারি বা অভিজ্ঞতা রয়েছে তাতে এই কোম্পানীতে আমি ভালো কিছু করতে পারবো এবং কোম্পানীও আমার আশা পূরণ করবে।

প্রশ্ন: ৩: আমাদের কোম্পানী সম্পর্কে কি জানেন?
এই কমন প্রশ্নটি একদম প্রশ্ন আউট করার মতো। তবুও আমরা অনেকে সে কোম্পানী সম্পর্কে খোজ খবর নিয়ে যাইনা। আজকাল এটা খুব সহজ। ওয়েবসাইট থেকে যেকোনো কোম্পানী সসম্পর্কে জানা যায়। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। যখন ঘুরিয়ে প্রশ্ন করা হয়, আমাদের কোম্পানী সম্পর্কে মানুষের ধারণা কি? তখন অনেকে থতমত করতে থাকেন। এজন্য আগেই সে কোম্পানী সম্পর্কে সম্ভব হলে তাদের গ্রাহকদের ধারণাটা জেনে নিতে পারেন। আবার যখন বলা হয় এ ধরনের আর কি কি কোম্পানী আছে দেশে? তখন অনেকে আকাশ থেকে পড়েন। এজন্য অবশ্যই একই জাতীয় কোম্পানী সম্পর্কে খোজ খবর নিয়ে যাবেন?

প্রশ্ন ৪: আমাদের কোম্পানীতে কাজ করার জন্য, বা কোম্পানীর উন্নতির জন্য আপনি কি করবেন?
এই প্রশ্নের জন্য সবচে ভালো হয় হোমওয়ার্ক করে যাওয়া। এধরনের কোম্পানীতে কি ধরনের সমস্যা হয় সেগুলো কিভাবে সমাধান হয় সেটা জেনে উত্তর দেয়া। অনেকেই গৎবাঁধা উত্তর দেন। ফলে নিয়োগকর্তারা হতাশ হয়ে যান। যদি অন্য কিছু জানতে না পারেন তাহলে বলবেন সমস্যার আলোকে সমাধান বের করবো? অথবা বলতে পারেন সবাইকে সাথে নিয়ে কাজ করবো। অথবা কোম্পানী যে লক্ষ্য ঠিক করে দেবে সে লক্ষ্য পূরণ করার জন্য বৈধপথে যা যা করা দরকার, তাই করবো। যা নিজে পারি নিজে করবো, যেটা পারবো না সেটা সকেলের সহযোগিতা নিয়ে সমাধান করবো।

প্রশ্ন: ৫: আপনার দেশের বাড়ী কোথায়?
এটা আমাদের দেশীয় প্রশ্ন। তখন আমরা সহজে উত্তরাটা দিতে পারি। কিন্তু যদি বলা হয় আপনার জেলা কি জন্য বিখ্যাত? বা আপনার জেলার ৩জন বিখ্যাত মানুষের নাম বলুন? বা আপনার জেলার নামকরণের ইতিহাস কি? তখন অনেক চাকরীপ্রাথী নিয়োগকর্তাদের মুখ চাওয়াচাওয়ী করেন। কারণ কি বলবেন বুঝে উঠতে পারে না। কারণ এই প্রশ্নের উত্তর জানা থাকলেও তার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নেই। তাই এই ব্যাপারে সব সময়ের জন্য একটা প্রস্তুতি নিয়ে রাখবেন।

প্রশ্ন ৬: আপনি কি মনে করেন? এই চাকরীতে আপনাকে নিয়োগ দেয়া উচিত তাহলে কেন?
এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে জগাখিচুড়ি পাকিয়ে পেলেন শতকরা ৯৭জন। এই প্রশ্নের ভালো উত্তর দেয়ার উপায় হলো। প্রথমত কোম্পানী সম্পর্কে জানা, দ্বিতীয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে যেসব কাজ বা যোগ্যতার কথা বলা হয়েছে সেগুলো ভালো করে পড়া। এবং পশ্নের উত্তর দেয়ার সময় পয়েন্ট টু পয়েন্ট উত্তর দেয়া। যে আপনাদের এই এই ডিমান্ড ছিলো, আমার মধ্যে এই এই নলেজ আছে। আমি আগেও কাজ করে নিজেকে প্রমাণ করেছি। তবে বেশী লম্বা কথায় নয়,কম কথায় উত্তর দিন।

প্রশ্ন ৭: নিজের ৩টা দোষ বলুন
মজার প্রশ্ন, এই প্রশ্নের জবাবে দোষ বলা কঠিন হয়ে পড়ে। লোকেরা নিজের দোষ বলতে পারে না। খুজেই পায়না তার কি দোষ? যদি এমন হয় তাহলে আত্মসমালোচনা করুন। অথবা খুঁজে বের করুন নিজের দোষগুলো। মনে করার চেস্টা করুন বন্ধুরা কিজন্য আপনাকে খেপাতো। এই ব্যাপারে একটু হোমওয়ার্ক করুন। তারপর অনেকগুলো দোষ জেনে রাখুন যেখানে যেটা বলা দরকার সেটাই বলুন।

প্রশ্ন : ৮ নিজের ৩টা গুণ বলূন?
আরেক মজার প্রশ্ন এটা বলতে দিলে অনেকে ৫টি গুন বলে দেন। আপনার সিভিতে আপনিতো অনেক গূনের কথা লিখেছেন। এক্ষেত্রে আপনি অবশ্যই সামাজিক গুণের কথা বলুন। এই গুণের সত্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য একটা করে ছোট বাক্য জুড়ে দিন। যেমন ‘‘আমি আসলে খুব মিশুক, আমার বন্ধুরা বলে আমি মানুষের সাথে ভালো মিশতে পারি’’

অথবা, ‘‘আমি ভালো টিম বিল্ডআপ করতে পারি, আগের কোম্পানীতে একবার অমুক টিমের মধ্যে সমষ্যা দেখা দিয়েছিলো, আমি দায়িত্ব নেয়ার পর আর সমস্যাটা হয়নি। ’’

প্রশ্ন ৯: আপনি কতটাকা স্যালারী আশা করেন?
এই প্রশ্নের উত্তরে কখনোই টাকার অংক বলার চেষ্টা করবেন না। এটা খুব সিলি দেখাবে আপনি অবশ্যই নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে শুনতে চাইবেন। যদি বলতেই হয়। তাহলে কখনো একটি অংক বলতে যাবেন না। তাহলে মনে হবে আপনি শুধু টাকার জন্য কাজ করছেন। একটি সাজিয়ে অন্যভাবে বলার চেষ্টা করাই ভালো। আপনি বলতে পারেন। আগে এত পেতাম এখন আরেকটু বেশী চাই। বা আসলে মাসে এত টাকা খরচ আছে। আমাদের দেশে এভাবে চলে। সবচে ভালো হলো নিয়োগকর্তার কাছ থেকে শুনতে পারা।

প্রশ্ন: ১০: কি গ্যারান্টি আছে যে, আপনি কয়দিন পর আমার কোম্পানী ছেড়ে চলে যাবেন ন।
এই প্রশ্নের উত্তরটা দিতে হবে কৌশলে তবে সেটা যেন যুক্তি সঙ্গত হয়। ‍যেমন আমি আসলে ভালো কাজের পরিবেশ পেলে সহজে চাকরী পরিবর্তন করতে চাই না। বা আসলে আমি সহজে জব পরিবর্তন করি না। আগের চাকরিতেও একটানা ৫ বছর ছিলাম। এরকম কোনো ব্যাপার থাকলে সেটার রেফারেন্স দিয়ে বলতে পারেন। অথবা আমি আসলে হুট করে চাকরী পাল্টাই না। আগের চাকরীতে জয়েন করার ৬ মাস পর একটা চাকরী পেয়েছিলাম। কিন্তু চেঞ্জ করিনি। ভাবলাম মাত্র ৬ মাস কেন? আরো কয়দিন দেখি?

Googleplus Pint
Asifkhan Asif
Posts 1365
Post Views 3034