MysmsBD.ComLogin Sign Up

ঝালকাঠিতে ভারি বর্ষণে ৬ হাজার হেক্টর আমন বীজ নষ্ট

In দেশের খবর - Aug 09 at 9:24am
ঝালকাঠিতে ভারি বর্ষণে ৬ হাজার হেক্টর আমন বীজ নষ্ট

ঝালকাঠিতে থেমে থেমে ভারি বর্ষণ, নেমে আসা বন্যার পানি ও জোয়ারের পানি বৃদ্ধিতে জেলার চার উপজেলায় এক মাসেরও অধিক সময় ধরে আমন বীজতলা হাঁটুপানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। এর ফলে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর আমন বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, এতে এক কোটি ৮০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পানি দ্রুত নেমে না গেলে এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবারের আমন আবাদে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ঝালকাঠি জেলায় ৫০ হাজার ৭৬৯ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। এর মধ্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের ৮ হাজার ৯৫৫ হেক্টর এবং ৪১ হাজার ৮১৪ হেক্টর স্থানীয় জাতের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

তবে ঝালকাঠি সদর, নলছিটি, রাজাপুর ও কাঁঠালিয়ার কৃষকরাও বীজতলা করেছিলেন কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু ও আষাঢ় মাসে কয়েক দফায় জোয়ারের পানি বৃদ্ধি ও টানা বৃষ্টিতে আমনের বীজতলা হাঁটু সমান পানিতে ডুবে গেছে। গত কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ, জোয়ারের পানি ও টানা একমাসের জলাবদ্ধতার কারণে বীজতলার সিংহভাগই নষ্ট হয়ে গেছে।

কথা হয় কৃষক আ. মোতালেবের সাথে। তিনি জানান, স্থানীয় আড়তদারদের কাছ থেকে চুক্তিতে টাকা এনে বীজতলা করেছি। কিন্তু সে বীজতলা জোয়ারের ও বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন করে বীজতলা করার সময়ও শেষ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষি বিভাগ ব্রি ২৩ জাতের ধান চাষের পরামর্শ দিলেও টাকার অভাবে নতুন করে বীজতলা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

নলছিটি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান জানান, জলাবদ্ধতায় আমন বীজতলা নষ্ট হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদেরকে স্বল্পায়ু ব্রি-২২ ও ব্রি-২৩ জাতের আমন বীজ উঁচুস্থানে রোপণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কৃষক মো. মামুন সিকদার বলেন, এক পোন বীজ আড়াই হাজার টাকা, বর্তমানে এক কাঠা জমির জন্য ১ হাজার টাকার চারা কিনতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও টাকায়ও তা মিলছে না।

এদিকে কৃষি কর্মকর্তাদের কোনো প্রকার সহযোগিতা না পাবার অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক শেখ আবু বকর ছিদ্দিক জলাবদ্ধতায় আমন বীজতলা নষ্ট হওয়ায় কথা স্বীকার করে বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। আমাদের কৃষকরা তাদের যে পরিমাণ বীজ দরকার তার চেয়ে বেশি তৈরি করে। এ পর্যন্ত ২৫ হাজার হেক্টর রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।

Googleplus Pint
Roney Khan
Posts 819
Post Views 93