MysmsBD.ComLogin Sign Up

[Trick] Uc Browser দিচ্ছে ৪০০০টাকা করে বিকাশে। বাংলাদেশ থেকে প্রথম থেকে ৪০০০ জন পাবে ৪০০০ টাকা করে ।

এক কিশোরের ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করলো আরেক শিশুকে!

In দেশের খবর - Aug 08 at 10:55am
এক কিশোরের ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করলো আরেক শিশুকে!

শিশুরা এক জায়গায় থাকলে গলায়-গলায় ভাব যেমন হয়, তেমনি ঝগড়া-বিবাদও কম হয় না। বন্ধুত্ব বা সখ্যের রীতিই এটা। কিন্তু এর মধ্যে যদি নৃশংস ঘটনা ঘটে, প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে শিশু ধারালো অস্ত্র নিয়ে রক্তপাত ঘটায়, নিষ্পাপ আরেক শিশুকে খুন করে বসে, তখন তা অবশ্যই জটিল এক দুর্ভাবনার বিষয়।

সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় শিশু খুন হওয়ার যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা অতি ভয়ংকর। মিরপুর বেড়িবাঁধসংলগ্ন দিয়াবাড়িতে গত বুধবার রাতে চার বছরের একটি মেয়েশিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

১৪ বছরের এক শিশু তাকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে শিশুটি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

খুনের পেছনে কারণ যা-ই থাকুক না কেন, কোনো শিশু যদি এমন অপরাধ ঘটিয়ে থাকে, তবে তা সেই সমাজের বড় ধরনের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের চিত্র তুলে ধরে।

একটি শিশু জন্ম নেওয়ার পর থেকে বাবা-মায়ের নিবিড় সাহচর্যে, ভাইবোনের মধুর ভালোবাসায় বেড়ে ওঠে।

পারিবারিক পরিমণ্ডল ও ধারেকাছের পরিবেশে সম্পন্ন হয় তার সামাজিকীকরণের গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। এর মধ্যে যদি অস্বাভাবিক কিছু ঘটতে থাকে, শিশুর মেধামননের প্রতিকূলতা তার নিত্যসঙ্গী হয়, পরবর্তী সময়ে এই শিশুও হয়ে ওঠে অস্বাভাবিক। আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা, নির্ভরতার অভাব শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে ব্যাহত করে।

গ্রামীণ জীবনের কথাই বলি, আর নগর জীবনের কথাই ধরি, এখন গড়পড়তা বেশির ভাগ শিশুর জীবন কাটে একটা অস্থিরতার ভেতর। কারণ, তার বাবা-মা আর নিকট স্বজনেরা থাকেন অস্থিরতার মধ্যে। এই অস্থিরতার কারণ সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পারিপার্শ্বিক।

খুন হওয়া শিশু এবং যার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ উঠেছে, সেই কিশোর সমাজের যে শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করছে, সেখানে এই অস্থিরতা আরও বেশি। জানা গেছে, খুন হওয়া শিশুটির বাবা বালুবাহী নৌযানের সুকানি।

খুনের অভিযোগ ওঠা ওই কিশোরের বাবা স মিলের কর্মী। এমন পেশার মানুষের চাকরি আজ আছে তো কাল নেই। আজ এখানে তো কাল ওখানে। ফলে তাঁদের সংসারের চাকাও ঘোরে একই তালে।

দেখা যায়, ঘরে এই চলছে ভালো খাবারের আয়োজন, আবার কোনো সময় চুলায় হাঁড়িই চড়ছে না। এ ধরনের সংসারে স্বপ্ন-সাধও অনেক ক্ষেত্রেই অপক্ব ফলের মতো দড়কচা ধরে থাকে। এই শ্রেণির বেশির ভাগ বাবা-মা সন্তানকে কিছু দূর পড়িয়ে কোনো একটা কাজ ধরিয়ে দেন, যাতে রুজিরোজগারের গতি হয়। ছেলেমেয়ে পড়াশোনা করে ভালো পাস দেবে, ভালো চাকরি করবে—এমন উচ্চাশা করেন খুব কমজনই।

এসব পরিবারের ছেলেমেয়েরা যে পরিবেশে থাকে বা মেশে, সেখানে চাওয়া-পাওয়ার দৌড় সীমিত। তাদের মূল আকর্ষণ থাকে বাবা বা মায়ের মোবাইল ফোন সেটে ভিডিওগেম খেলা। ফাঁক পেলে সাইবার ক্যাফেতে গিয়েও একই খেলায় মত্ত হয়। মারামারি-কাটাকাটির প্রতিযোগিতামূলক গেমগুলো তাদের খুব প্রিয়।

এসব পরিবারের শিশুরা খুব অল্প বয়সেই একলা চলাফেরা করতে শেখে। ফুটপাতে অনেকটা পথ হেঁটে স্কুলে যায়।

দোকান থেকে বাবা-মায়ের ফরমাশমতো জিনিস কিনে আনে। কেনাকাটা করতে বাজারে যায়। দু-তিন বন্ধু মিলে ঘুরতে যায় দূরে। তারা চারপাশ দেখে। বড়দের কথা শোনে।

বড়দের নানা কাণ্ড-কারখানা দেখে। এভাবে শৈশবেই তাদের কচি মন বড়দের আঙিনায় ঘুরে বেড়ায়। তাদের অপরিণত মস্তিষ্কে বড়দের নানা বিষয় ঘুরপাক খায়। এসব তারা নিজেদের মতো করে বুঝতে শেখে। বাসায় মা-বোনের সঙ্গে ‘জলসা মুভিজ’ ধাঁচের ছবিগুলো দেখতে আলগোছে বসে যায়। এখানেও রয়েছে অকালে পেকে যাওয়ার বিষয়।

কীভাবে ছলচাতুরী করে উদ্দেশ্য হাসিল করা যায়, মনের ভেতর চেপে রাখা বিদ্বেষ কীভাবে মেটানো যায়, সবই দেখে তারা। এসব শিশু শান্ত ভোরে কোমল রবির উদয় দেখে না, প্রাচুর্যে ভরা সবুজের মাঝে পাখির গান শোনে না, নদীর কুলু কুলু ধ্বনি তাদের কাছে অচেনা।

এসব শিশুর মা তাদের ঘুমপাড়ানি গান শোনান না। দাদি বা নানির কাছে রূপকথা শোনার সুযোগ হয় না তাদের। মানব আর দানবের তফাত বোঝার বোধশক্তি হারিয়ে ফেলছে তারা। হয়ে যাচ্ছে অন্য রকম।

[Trick] Uc Browser দিচ্ছে ৪০০০ টাকা করে বিকাশে। বাংলাদেশ থেকে প্রথম থেকে ৪০০০ জন পাবে ৪০০০ টাকা করে ।

Googleplus Pint
Noyon Khan
Posts 3442
Post Views 139