MysmsBD.ComLogin Sign Up

সাত দিনে যা শেখালেন আকিব জাভেদ

In ক্রিকেট দুনিয়া - Aug 04 at 10:48pm
সাত দিনে যা শেখালেন আকিব জাভেদ

এইচপি ক্যাম্পের ১৭ জন ও জাতীয় দলের ৯ জন পেসারদের দীক্ষা দিতে ২৯ জুলাই ঢাকায় আসেন পাকিস্তানের বোলিং কোচ আকিব জাভেদ।

গেল ৭ দিন তিনি এইচপি ক্যাম্পের বোলিং পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। এ সময় তিনি জাতীয় দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্পও পরিদর্শন করেন। জাতীয় দলের পেসারদের নিয়ে কাজ করেন।

৭ দিনের প্রশিক্ষণ আজ শেষে হয়েছে। ক্যাম্প শেষে পাকিস্তানের প্রাক্তন এই তারকা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন সংবাদ মাধ্যমে, ‘জাতীয় দলের বোলারদের সঙ্গে দুটি সেশন কাজ করেছি। গতকাল আড়াই ঘন্টা আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আসলে বিভিন্ন লেভেল ও বয়সের বোলারদের নিয়ে কাজ করাটা কোচদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। গুরুত্বপূর্ণও। যখন আপনি বেড়ে উঠবেন তখন আপনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চাইবেন। আপনি প্রশ্ন করবেন এবং সমাধান চাইবেন। আমরা আসলে বোলিংয়ের তিনটি স্টেজে জোর দিয়েছি। নতুন বলে বল করা। ইনিংসের মধ্যমভাগে বল করা এবং ডেথ ওভারে বল করা। এটা আসলে বলের কন্ডিশনের সঙ্গেও সম্পর্কিত। কারণ, প্রত্যেক সময়ই আপনি একটি ম্যাচ খেলবেন। যেখানকার পরিস্থিতি ও পরিবেশ ভিন্ন হবে। ভিন্ন হবে বলের অবস্থাও।’

কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন সে বিষয়ে আকিব জাভেদ বলেন, ‘আমরা আলোচনা করেছি বোলারদের রেটিংয়ের বিষয়ে। আমি তাদের বলেছি নিজেকে খুঁজে বের কর। তুমি কে? সেটা জান। ক্রিকেট বিশ্ব বিভিন্ন ধরণের বোলার দেখেছে। যেমন শোয়েব আখতার, ব্রেট লি ও শন টেইটের বলে গতি ছিল। জোয়েল গার্নার ও মোহাম্মদ ইরফানের বলে বাউন্ড ছিল। সুইং ও পেস ছিল শন পলক, চামিন্দা ভাস ও মোহাম্মদ আসিফের বলে। এরপর মানুষ মালিঙ্গা, মুস্তাফিজুর রহমান, শোহেল তানভীরের বলের ভেল্কি দেখেছে। যদি তুমি বুঝতে পার যে তুমি কোন ক্যাটাগোরির বোলারদের তালিকায় অবস্থান কর, তাহলে কাজটি তোমার জন্য আরো সহজ হবে। তুমি তোমার দায়িত্ব সম্পর্কে আরো বেশি অবগত হতে পারবে। তখন বিভিন্ন বিষয়ে নজর দিতে পারবে। আমি ১৩০ কিলোমিটার গতির বোলার দেখেছি, যারা ব্রেটলির মতো মানসিকতা সম্পন্ন। যরা চূড়মার করে দিতে পারে। আমরা নিজের সচেতনতার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। সেটা যদি পার তাহলে নিজের সামনে কী চ্যালেঞ্জ আসতে পারে সেটা সহজে বুঝতে পারবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আলোচনা করেছি অনুশীলনের বিষয়ে। কারণ অনুশীলন একজন মানুষকে নিঁখুত করে তোলে। আজকের সকালের সেশনে আমরা বুদ্ধিমত্তার সহিত কঠোর পরিশ্রমের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। যেটা একজন বোলারদের উন্নতির দিকে ধাবিত করে। তোমাকে জানতে হবে আজ তুমি কতটুকু কী করেছো। আজ তুমি কোন পর্যায়ে রয়েছো। তোমার ঘাটতি কোথায়। সেটা ঠিক কতটুকু। ৬ কিংবা ১২ বলে তোমার অনুপাত কত। বামহাতি কিংবা ডানহাতি ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে নতুন বলে তুমি কোথায় অবস্থান করছো।’

বোলারদেও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি এটা মাশরাফিকে বেশ সাহায্য করবে। কারণ, সে সেখানে ছিল। আমি তাকে প্রশ্ন করেছিলাম- যদি একজন বোলার সঠিক লাইন ও লেন্থে বল ফেলতে না পারে তাহলে কী তাকে তুমি দলে নিবে?’ সে বলেছে না। তাহলে তোমার চাওয়া কী? চাওয়াটা হচ্ছে সঠিক লেন্থ ও লাইনে বল ফেলার পাশাপাশি বলের নিয়ন্ত্রণ রাখা। পাশাপাশি ‘সঠিকতার’ একটি বিষয় রয়েছে। আসলে আত্মবিশ্বাস কঠোর পরিশ্রম ও অনুশীলনের মাধ্যমে জন্মায়। তোমার মধ্যে যদি এই আত্মবিশ্বাস জন্মায় যে তুমি ছয়টি বলের ছয়টিই ইয়র্কার দিতে পার, তাহলে তুমি চাপের মধ্যেও টিকে থাকতে পারবে। যদি তুমি ছয়টি বলের তিনটি ইয়র্কার দিতে পার- তাহলে তুমি এখনো প্রস্তুত নও। তোমাকে জানতে হবে যে তুমি প্রস্তুত নও। যদি অনুশীলনেই তুমি প্রস্তুত না হও, তাহলে তুমি অলৌকিক কিছু চিন্তা করতে পার না।

বাংলাদেশের অভিজ্ঞ বোলারদের বিষয়ে পাকিস্তানি এই কোচ বলেন, ‘আমি আসলে দীর্ঘমেয়াদে বিশ্বাস করি না। আমি মনে করি ছয়টা দিন অনেক সময় জ্ঞান বিতরণের জন্য। আজকের সেশনের পরে আমি বলেছি যে আমার কাছে আর কিছু নেই দেওয়ার মতো। যখন আপনি অভিজ্ঞ বোলারদের সঙ্গে কথা বলবেন তখন আপনার মধ্যে জড়োতা কাজ করবে। আপনার ভা-ার ফুরিয়ে আসবে। আপনি তাদেরকে এমন কিছু বলতে পারেন না যা ইতিমধ্যে তাদের মধ্যে আছে। আপনাকে এমন কিছু দিতে হবে যা তাদের উন্নতিতে সহায়তা করতে পারে। তবে আমি মনে করি জাতীয় দল ও তরুণ বোলারদের সঙ্গে আমি দারুণ একটি সময় উপভোগ করেছি।’

কিছু কিছু বোলার তার নজর কেড়েছে। তারে বিষয়ে আকিভ জাভেদ বলেন, ‘আমি কিছু নাম লিখে গিয়েছি। তাদের মধ্যে রয়েছে এবাদত হোসেন, আবু হায়দার, আবু জায়েদ চৌধুরী ও আবুল হাসান। আমি মনে করি রাজুর মধ্যে সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ইনজুরি তার জন্য একটি সমস্যা। তার আত্মবিশ্বাসেরও অভাব রয়েছে। তার বলে গতি আছে। ফিটনেসও আছে। অ্যাকশনও ভালো। তবে তাকে তার অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ছিপছিপে গড়নের হলেও এবাদত ১৩৮-১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারে। কোচরা আমাকে জানিয়েছে সে বিমানবাহিনীতে ফিরে যাবে এবং অনুশীলন বন্ধ করে দিবে। আমি মনে করি তাকে কারো এমন একটি চাকরি দেওয়া উচিত যেটা ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সে যদি তার স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে তাহলে সে বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের ভবিষ্যত হতে পারবে। আমি তাদের ভিডিও দেখেছি। তারপর টেকনিক্যাল মূল্যায়ন করেছি। কোচদের সহায়তায় তাদের মূল্যায়নটা সম্পন্ন করব।’

ফলোআপের বিষয়ে পাকিস্তানের এই কোচ বলেন, ‘আসলে সেটা জানতে আমার ২-৩ মাস দরকার হবে। ভাবতে হবে পরবর্তীতে কী করা যায়। যদি আমার আর কিছুই দেওয়ার না থাকে তাহলে সেটাও আমি জানাব। সম্ভবত ৩-৪ মাস ৬-৭ দিনের একটা ফলোআপ ভালো হবে।’

• আকিব জাভেদের তত্ত্বাবধানে ক্যাম্প করছেন যারা.....

জাতীয় দলের : মাশরাফি বিন মুর্তজা, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, আল-আমিন হোসেন, মোহাম্মদ শহিদ, কামরুল ইসলাম রাব্বি, শফিউল ইসলাম ও মুক্তার আলী।

এইচপি ক্যাম্পের : আব্দুল হালিম, রিফাত প্রধান, আবুল হাসান, আবু জায়েদ চৌধুরী, শহিদুল ইসলাম, ইমরান আলী ইনাম, মো. আজিজ, আশিকুজ্জামান, মেহেদী হাসান (রানা), শুভাষিস রায়, নূর আলম সাদ্দাম, আবু হায়দার রনি, দেওয়ান সাব্বির আহমেদ, এবাদত হোসেন চৌধুরী, সাঈফ উদ্দিন, আলাউদ্দিন বাবু ও আরিফুল হক।

তথ্যসূত্রঃ রাইজিংবিডি

Googleplus Pint
Anik Sutradhar
Posts 7026
Post Views 322