MysmsBD.ComLogin Sign Up

শিশুকে যৌন নিপীড়ন থেকে সুরক্ষা দিতে

In লাইফ স্টাইল - Jul 25 at 9:55am
শিশুকে যৌন নিপীড়ন থেকে সুরক্ষা দিতে

শিশুদের যৌন নির্যাতনের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। স্কুল বা বাইরে যেকোনো পরিস্থিতির শিকার হতে পারে তারা। বিশেষজ্ঞরা শিশুকে এ নিপীড়নের হাত থেকে সুরক্ষায় দিয়েছেন পরামর্শ।

এমন নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে শিশুকে কিছু মৌলিক শিক্ষা প্রদানের কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। আবার যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটেই যায়, তবে তা বুঝে নিতেও অভিভাবকদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন এবং শিশুকে মানসিক চাপ থেকে বের করে আনতে হবে।

ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট সালমা প্রভু বলেন, দেহের স্পর্শকাতর অংশে কেউ যেন হাত না দেয় সে বিষয়ে শিশুদের শিক্ষা দেওয়া হয় না। এই অংশ বলতে এমন স্থান বোঝায় যেখানে হাত দিলে শিশু অস্বস্তিবোধ করবে। অনেকেই শিশুদের গাল ধরে টানেন বা টিপে দেন। এটা আদর প্রকাশের ভাষা। কিন্তু সন্তানকে শিক্ষা দিতে হবে, কোন কোন স্থানে হাত দিলে তাকে প্রয়োজনে দৌড়ে পালাতে হবে। স্কুলে এমন ঘটনা ঘটে থাকলে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। তা ছাড়া অপরিচিত কারো সঙ্গে কথা বলতে বারণ করতে হবে শিশুদের।

যৌন নিপীড়ন : শিশুদের সঙ্গে যৌনতাপূর্ণ আচরণ বা আপত্তিকর দৈহিক স্পর্শই যৌণ নিপীড়ন নয়। শিশুদের কোনো প্রাপ্তবয়স্ক যৌনাঙ্গ প্রদর্শন বা অশ্লীল কিছু দেখালেও যৌন নির্যাতনের তালিকায় পড়ে। শিশুদের এ ধরনের নির্যাতন সারা জীবনের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারতে ২০০৭ সালের এক জরিপে বলা হয়, ৫৩.২২ শতাংশ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। একে ভয়ংকরতম দুঃস্বপ্ন বলে অভিহিত করা হয়। ভয়ের বিষয় হলো, ৫০ শতাংশ শিশুকে নির্যাতন করেছে তাদের পরিচিত কাছেন মানুষ যাদের ওপর তারা নির্ভর করে বা বিশ্বাস স্থাপন করেছে। অধিকাংশ শিশুই এ ঘটনা কারো কাছে বলেনি। অনেক সময়ই আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে শিশুরা নির্যাতনের শিকার হয় বলে জানান প্রভু।

এ ক্ষেত্রে শিশুদের সঙ্গে বাবা-মা বা অভিভাবকের যথাযথ যোগাযোগের অভাব বড় ধরনের সমস্যা হয়ে রয়েছে। শিশুরা আসলে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে ভয় করে। এমনকি স্কুলের সহপাঠী বা বন্ধুদের মাধ্যমেও এ ঘটনা ঘটতে পারে। এদের সবার ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম শেখাতে হবে বাবা-মায়ের।

প্রভু মনে করেন, বাবা-মাকে বেশ আগে থেকেই সন্তানকে যৌন সংক্রান্ত শিক্ষা দিতে হবে। যাতে করে তারা বিষয়টি বুঝে নিয়ে সাবধান থাকতে পারে। আবার শিশুর বয়স অনুযায়ী তাদের আগ্রহপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

যদি শিকার হয়ে থাকে : যদি ঘটনাক্রমে শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েই থাকে, তবে তার সামনে এ নিয়ে খুব বেশি কথা বলবেন না। বরং তাকে থেরাপিস্টের কাছে নিয়ে যান। যদি না ঘটনা সে নিজে থেকে না বলে তবে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পাবে। অকারণে একেবারে চুপচাপ সময় কাটাবে সে। কিছু খেত চাইবে না। হঠাৎ ওজন হারাতে শুরু করবে। যদি সন্দেহ করে জিজ্ঞাসাও করা যায়, তবে ভয় পেয়ে কিছু লুকানোর চেষ্টা করবে। এ ক্ষেত্রে থেরাপিস্টের কাছে নিয়ে যাওয়া ভালো। এ সময়টিতে শিশুকে আলাদাভাবে সময় দিতে হবে।

প্লে থেরাপি : এর মাধ্যমে শিশুর ট্রমা বা আবেগগত স্ট্রেস সামলে নেওয়া যায়। তাদের দুনিয়াসা একটু সঙ্কুচিত করে আনতে হয়। খেলনা বা তার প্রিয় জিনিস বা পরিবেশে সময় কাটাতে দিন। যখন সে এতে মনোযোগী হবে তখন বুঝে নিন, সে ধীরে ধীরে সেই স্মৃতি থেকে বেরিয়ে আসছে।

প্রোজেক্টিভ টেকনিক : এ কৌশলের মাধ্যমে শিশুকে মানুষের দেহ আঁকতে দেওয়ার মাধ্যমে যৌন নির্যাতনের বিষয়টি বোঝা যায়। রোচচাচ ইনক ব্লট টেস্টের মাধ্যমে শিশুকে জিজ্ঞাসা করা হয়, সাদা জমিনে দশটি ইনক ব্লট কেমন চিত্র তুলে ধরছে আর কেনই বা এমন মনে হচ্ছে। মানুষের দৈহিক চিত্র শিশুর জটিল অনুভূতি খুঁজে বের করে যা প্রকাশ করা কঠিন হয়ে যায়। যেমন- যৌন নির্যাতনের শিকার শিশুটি মানুষের যৌনাঙ্গের প্রতি দৃষ্টি দেবে। তার আঁকানো চিত্র অন্যান্য বাচ্চাদের মতো হবে না।

প্রোজেক্টিভ টেস্ট সাধারণত ৩-১০ বছর বয়সী শিশুদের কথা হয়। পাশাপাশি তাদের সাইকো-সেক্সুয়াল সংগ্রাম সংশ্লিষ্ট কিছু ছবি দেখানো হয়। তাকে এসব ছবি দেখে তার বর্ণনা দিতে বলা হয়।

Googleplus Pint
Anik Sutradhar
Posts 6704
Post Views 294