MysmsBD.ComLogin Sign Up

অভিষেকে মুস্তাফিজের শিকার হয়েছেন এই তারকারা

In ক্রিকেট দুনিয়া - Jul 23 at 1:51pm
অভিষেকে মুস্তাফিজের শিকার হয়েছেন এই তারকারা

২৪ এপ্রিল, ২০১৫। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এদিন বল হাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক ঘটে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ নামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক সহজ সরল ছেলে মুস্তাফিজুর রহমানের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রেখেই স্পটলাইটটা নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিয়েছিলেন। পরের সময়টাও মধুর কেটেছে।

বাঘা বাঘা সব ব্যাটসম্যানকে বসে আনাটা রীতিমতো তুড়ির কাজ বানিয়ে ফেলেছেন বাংলাদেশ পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার পর প্রথম শিকার শহীদ আফ্রিদির উইকেট, ওয়ানডেতে রোহিত শর্মা, টেস্টে হাশিম আমলা, আইপিএল-অভিষেকে এবি ডি ভিলিয়ার্স আর কাউন্টি ক্রিকেটে রবি বোপারা— মুস্তাফিজ যেন ঠিকই করেছেন, খাতা খুলবেন বড় শিকার দিয়ে, সব অভিষেকেই উপহার দেবেন বিরাট চমক!

পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি, ভারতের সঙ্গে ওয়ানডে আর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট—ক্রিকেটের তিন সংস্করণের আন্তর্জাতিক অভিষেককেই অসাধারণ সাফল্যে রাঙিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কাউন্টি দল সাসেক্সের হয়ে অভিষেকটাও হলো আরও দুর্দান্ত।

• এক নজরে দেখে নেয়া যাক মুস্তাফিজের বর্ণিল পাঁচ অভিষেক.....

টি-টোয়েন্টি অভিষেক :
২৪ এপ্রিল ২০১৫, মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষিক্ত মুস্তাফিজের শুরুটা হলো ওয়াইড দিয়ে। এরপরই যেন ক্ষেপেই গেলেন। প্রথম স্পেলে দুই ওভারে দেন মাত্র পাঁচ রান।

আবার বোলিংয়ে ফিরলেন একাদশ ওভারে। পাকিস্তানের তারকা অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদিকে দিয়েই উইকেটের খাতা খুললেন মুস্তাফিজ। তার শেষ ওভারটা হলো আরও দুর্দান্ত। এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মোহাম্মদ হাফিজকে।

অভিষেকে মুস্তাফিজের বোলিং ফিগার ৪-০-২০-২। ১৬টি ডট বল! ম্যাচসেরার পুরস্কার না পেলেও বাংলাদেশের জয়ে রাখলেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। আন্তর্জাতিক আঙিনায় পা রেখে প্রথম ম্যাচেই চমকে দিলেন বাঁ-হাতি এই পেসার।

ওয়ানডে অভিষেক :
১৮ জুন, ২০১৫। টি-টোয়েন্টির পর ওয়ানডেতে অভিষেক ঘটলো 'কাটার মাস্টার' মুস্তাফিজের। এদিন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ভারতকে ৩০৮ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ। বোলিংয়ে এসে চার ওভারের প্রথম স্পেলটা ভালো হয়নি বাঁ-হাতি এই পেসারের। ২৭ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য।

তবে মুস্তাফিজ-জাদুর দেখা মিলল দ্বিতীয় স্পেলে। ২১তম ওভারে ফিরে পঞ্চম বলে মিড অফে রোহিত শর্মাকে ক্যাচ বানালেন মাশরাফির। ওয়ানডেতে প্রথম উইকেট! পরের ওভারে আবারও উইকেট, এবারের শিকার অজিঙ্কা রাহানে।

২৫তম ওভারে ঘটল এক দুর্ঘটনা। ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে চলে গেলেন সাজঘরে। ১২ ওভার পর মাঠে ফিরে পাঁচ বলের মধ্যে তুলে নিলেন ৩ উইকেট!

৫০ রানে ৫ উইকেট— বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে অভিষেকে দ্বিতীয় সেরা বোলিং।ফলাফল ভারতের বিপক্ষে ৭৯ রানের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল বাংলাদেশ। পেলেন ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কারও।

টেস্ট অভিষেক :
২১ জুলাই, ২০১৫। চট্টগ্রামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এবার টেস্ট অভিষেকও ঘটলো মুস্তাফিজের। প্রথম ১৩ ওভারে উইকেটশূন্য। এরপর ব্যক্তিগত ১৪ তম ওভারে চমকে দিলেন সবাইকে।

ওভারের প্রথম বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানালেন হাশিম আমলাকে। পরের বলটা বুঝতেই পারেননি জেপি ডুমিনি। বল লাগল প্যাডে। জোরালো এলবিডব্লিউর আবেদনে সাড়া দিলেন না আম্পায়ার। রিভিউ নিল বাংলাদেশ। পক্ষে গেল বাংলাদেশের।

পর পর দুই বলে মুস্তাফিজ তুলে নিলেন দুই উইকেট। টেস্ট অভিষেকেই হ্যাটট্রিকের সামনে মুস্তাফিজ! কিন্তু হ্যাটট্রিক বলটা কোনোমতে ঠেকিয়ে দেন কুইন্টন ডি কক। তবে এক বল পরেই ডি ককের অফ স্টাম্প উড়িয়ে দেন মুস্তাফিজ।

বৃষ্টিভেজা সেই চট্টগ্রাম টেস্টে শেষ পর্যন্ত হয়েছিল ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দু'দল। ওয়ানডের পর অভিষেক টেস্টেও ম্যাচসেরা হন বাঁ-হাতি এই পেসার। ওয়ানডে ও টেস্ট দুই ধরনের ক্রিকেটে অভিষেকেই ম্যাচসেরা হওয়ার প্রথম কীর্তি মুস্তাফিজেরই।

আইপিএল অভিষেক :
জাতীয় দলের অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর ডাক পেলেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নবম আসরে। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে মুস্তাফিজের আইপিএল অভিষেকটাও হলো রঙিন।

১২ এপ্রিল, ২০১৬। ব্যাঙ্গালুরুতে বিরাট কোহলি- এবি ডি ভিলিয়ার্স যখন তুলাধোনা করেছেন হায়দ্রাবাদের অন্যান্য বোলারদের, তখন লাগামটা টেনে ধরেন মুস্তাফিজই। যেখানে হায়দ্রাবাদের অন্য পাঁচ বোলার ওভারপ্রতি দিয়েছেন ১২.৩১ রান; মুস্তাফিজের ইকোনমি সেখানে ৬.৫০।

দুই উইকেট নিয়েছেন টানা দুই বলে। আউট করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার আক্রমণাত্মক ব্যাটস্ম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্স ও অজি অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসনকে। যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা হেরে যায় মুস্তাফিজের হায়দ্রাবাদ।


কাউন্টি অভিষেক :
একদিন আগেই তিনি সাসেক্সের হয়ে ন্যাটওয়েস্ট ব্লাস্ট টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে খেলতে গেছেন। ভ্রমণ ক্লান্তি, অপরিচিত মাঠ, অপরিচিত সতীর্থ, ভিনদেশী কন্ডিশন, অচেনা প্রতিপক্ষ - কোনো কিছুকেই তিনি যেন তোয়াক্কা করলেন না। ২২ জুলাই, ২০১৬। মাঠে নেমেই ম্যাচ সেরার খেতাব পেয়ে গেলেন বাংলাদেশের বাঁ-হাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান।

তবে, ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের বাঁ-হাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের শুরুটা উইকেট দিয়ে নয়, হল ক্যাচ দিয়ে। ফিল্ডিং করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের টাইমাল মিলসের করা তৃতীয় বলে নিক ব্রাউনের ক্যাচ ধরেন তিনি। এরপর বল হাতেও একের পর এক চমক উপহার দেন তিনি।

ম্যাচের ১৫.২ ওভারে শুরুটা করেন রবি বোপারার উইকেট নিয়ে। এরপর জেমস ফোস্টার, কালাম টেইলর এবং রায়ান ডেশকাটেকেও প্যাভিলিয়নের পথ দেখান বাংলাদেশের এই কাটার মাস্টার।

দিন শেষে মুস্তাফিজের বোলিং ফিগারটা এমন দাঁড়ালো - ‘৪-০-২৩-৪’! এই চার উইকেট ও এক ক্যাচের সৌজন্যে দিন শেষে দিনের সেরা খেলোয়াড় হয়ে মাঠ ছাড়েন মুস্তাফিজ।

Googleplus Pint
Anik Sutradhar
Posts 7063
Post Views 587