MysmsBD.ComLogin Sign Up

Search Unlimited Music, Videos And Download Free @ Tube Downloader

আমিরের পুনর্জন্ম

In ক্রিকেট দুনিয়া - Jul 18 at 12:34pm
আমিরের পুনর্জন্ম

ঐতিহাসিক লর্ডস টেস্ট জয়কে পাকিস্তান ক্রিকেট শুধুমাত্র একটা কারণের জন্যই বোধহয় চিরকাল মনে রাখতে পারে। ইয়াসির শাহ এবং স্বপ্নের ডেলিভারি সহ তার দশ উইকেট?

নাহ।

টেস্ট জিতে উঠে গোটা পাকিস্তান টিমের সর্বাত্মক পুশ আপ, লাফ ও স্যালুটে উৎসবের আবেগে ভেসে যাওয়া?

না, এটাও না।

তবে কি মোহাম্মদ আমির? লর্ডসেই যার ক্রিকেটজীবনের পোয়েটিক জাস্টিস খুঁজে পাওয়া?

একদম ঠিক।

ইয়াসির শাহ যে স্পিন-ঘূর্ণিতে ইংরেজ ব্যাটিংকে দু-দুইবার লণ্ডভণ্ড করে ছাড়লেন, তার আক্রোশের পাশে আমিরের কৃতিত্ব কোথাও থাকারই কথা নয়। ’৯৬ সালের পর লর্ডসে প্রথম টেস্ট জয় ঘিরে যে আবেগের ছবি সৃষ্টি হল, তার পাশেও রোববারের আমির কোথাও থাকেন না। ইয়াসির দশটা উইকেট তুলেছেন দুটি ইনিংস মিলে। গ্যারি ব্যালান্সকে যে বলটা তিনি করলেন, তা মাইক গ্যাটিংকে করা শেন ওয়ার্নের শতাব্দী সেরা ডেলিভারি মনে পড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু নিখাদ ক্রিকেটীয় পারফরম্যান্সের বাইরেও একটা পৃথিবী থাকে। জীবনের অন্ধকারতম পর্বের সঙ্গে হিসেব মেটানোর একটা ব্যাপার থাকে। মোহাম্মদ আমির যেখানে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তিনটি উইকেট স্রেফ সংখ্যা শুধু, ইতিহাস তো মনে রাখবে ‘কলঙ্কের’ মাঠে তার প্রত্যাবর্তনের দিনটা, অবিশ্বাস্য এক ডেলিভারিতে স্টুয়ার্ট ব্রডকে বোল্ড করে দেয়ার ওয়াসিম আকরামের বিমুগ্ধ টুইটটা।

ব্রডকে বোল্ড করার ডেলিভারিটা দেখে আকরাম লিখে ফেলেছেন, আমিরের অবিশ্বাস্য ডেলিভারিটা আমাকে আমার সোনার সময় মনে করিয়ে দিল! পাকিস্তান ক্রিকেটে আকরামের ছায়া তার মধ্যে দেখেন অনেকে। কোনো সন্দেহ নেই, পাক কিংবদন্তির টুইট আমিরকে খুশি করবে। কিন্তু একইসঙ্গে তিনি কি ছয়বছর আগের লর্ডসেও ফিরে যাবেন না? যে লর্ডস তার ক্রিকেটজীবন থেকে পাঁচ-পাঁচটা বছর কেড়ে নিয়েছিল। যে লর্ডস মোহাম্মদ আমির নামটার সঙ্গে জুড়ে দিয়েছিল ‘স্পট ফিক্সিং’ নামের কলঙ্কের শব্দটা। ইয়াসির যদি আজ পাকিস্তান ক্রিকেটকে কোনো এক সাঈদ আজমল হারানোর যন্ত্রণা ভুলিয়ে দিয়ে থাকেন, তা হলে আমির তার ক্রিকেটজীবনের শাপমোচনটাও ঘটিয়ে গেলেন একই মাঠে, ইংল্যান্ড ইনিংসের শেষ উইকেটটা নিজের নামের পাশে রেখে দিয়ে।

লর্ডসে চতুর্থ ইনিংসে ২৮৩ তাড়া করে জেতা খুব সহজ ছিল না। অ্যালিস্টার কুকরা পারলেনও না। টেস্ট হারতে হল ৭৫ রানে। আসলে ইয়াসিরের লেগস্পিন আর আমিরের পেস সামলানো সম্ভব হয়নি ইংল্যান্ডের পক্ষে। প্রথম ইনিংসে ছয়টার পর দ্বিতীয় ইনিংসে চারটি উইকেট নেন ইয়াসির। তার মধ্যে ব্যালান্সকে করা ডেলিভারিটা বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যানের অফস্টাম্পের বাইরে পড়ে লেগস্টাম্প নিয়ে চলে যায়। লেগস্টাম্পের বাইরে ফেলে গ্যাটিংয়ের অফস্টাম্প যেমন নড়িয়ে দিয়েছিলেন ওয়ার্ন। ভাবা যায়, মাত্র চার দিনে লর্ডস টেস্ট শেষ করে দিল পাকিস্তান!

ইয়াসির স্বাভাবিক কারণেই ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হয়েছেন। আল্লাহকে ধন্যবাদ দিয়ে ইয়াসির বলে গেলেন, ‘‘লর্ডসে আমার প্রথম টেস্ট ছিল। সেখানে এমন পারফরম্যান্স করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। আমি আমার পারফরম্যান্স টিমকে উৎসর্গ করছি। প্রথম দিকে উইকেট থেকে তেমন টার্ন পাচ্ছিলাম না। লাইন লেংথের উপরেই জোর দিয়েছিলাম। ভাগ্য ভালো বলতে হবে যে, প্রথম ইনিংসে অতগুলো উইকেট পেয়েছি।’’ মিসবাহ-উল-হকও বললেন। বিয়াল্লিশ বছরেও যার অসাধারণ টেস্ট সেঞ্চুরি করে যেতে অসুবিধে হয় না। বললেন, ‘‘টিমের জন্য অসম্ভব গর্ব হচ্ছে। ক্যাপ্টেন হিসেবেও এটা আমার কাছে অসাধারণ একটা জয়।’’

পাকিস্তানের সাবেকরাও উচ্ছ্বসিত। যেমন আজহার মাহমুদ টুইট করলেন, দুর্দান্ত টিম এফর্ট। সেলিব্রেশনটাও দেখার মতো। আর শাহিদ আফ্রিদি লিখে ফেললেন, ‘‘ইংল্যান্ডের মাঠে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সমালোচকদের মুখের উপর জবাব দিল পাকিস্তান। ওয়েল ডান বয়েজ। তোমাদের জন্য গর্ব হচ্ছে।’’

বলছেন কুমার সঙ্গকারাও, ‘‘কী দুরন্ত জয় পাকিস্তানের! এই জয় দেখার অভিজ্ঞতা অসাধারণ। ইংল্যান্ড প্রায় উড়ে গেল। কুর্নিশ। এ বার পুশ-আপের পালা।’’

শুধু আমিরকে কিছু বলতে শোনা যায়নি। ম্যাচ শেষে তার কিছু বলার ডাকও পড়েনি। যদিও ডাকাই যেত। কিছু বলতে অনুরোধ করাই যেত।

ইয়াসির পৌনে দুই বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটজীবনে যে স্পিন–সম্মোহন দেখাচ্ছেন, তাতে ভবিষ্যতে এমন দশ উইকেট তার হয়তো আরো আসবে। মিসবাহ তিনিও ক্রিকেট-সায়াহ্নে পৌঁছে হয়তো আরো কিছু বিস্ময় সৃষ্টি করবেন। কিন্তু কলঙ্ক-অপমানে শরবিদ্ধ এক ক্রিকেটারের শাপমোচনের দিন- তা রোজ রোজ আসবে তো?

Googleplus Pint
Anik Sutradhar
Posts 6786
Post Views 412