MysmsBD.ComLogin Sign Up

ভুয়া নিবন্ধনের লাখো সিম দেশের বাজারে

In দেশের খবর - Jul 14 at 8:32am
ভুয়া নিবন্ধনের লাখো সিম দেশের বাজারে

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে মোবাইল সিমের পুন:নিবন্ধনের সময় অন্যের নাম ব্যবহার করে অগুণিত সিম চতুরতার সঙ্গে ভুয়া নিবন্ধন করা হয়েছে। এ সংখ্যা কত সুনির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারছেন না। তবে অপারেটরগুলোর কর্মকর্তাদের আশংকা এ সংখ্যা ‘লাখ লাখ’।

সংখ্যার বিষয়ে জানতে চাইলে একটি মোবাইল ফোন অপারেটরের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, চারিদিক থেকে যেভাবে শোনা যাচ্ছে তাতে একজনের আঙ্গুলের ছাপ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরের (এনআইডি) বিপরীতে ‘লাখ লাখ’ সিম নিবন্ধন হলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।

অনেকের আশংকা অপরাধমূলক কার্যক্রমে এসব সিম ব্যবহার হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তা চোরাই পথে দেশে বিদেশি কল ঢুকতেও সহায়তা করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অবৈধ ভিওআইপির জন্য এমন কাজ করেছে একটি চক্র।



কিছুদিন আগে পুলিশ এয়াটেলের কর্মকর্তাসহ এমন একটি চক্রকে বিপুল সংখ্যক এমন ভুয়া সিমসহ গ্রেফতার করেছে।

এমনি পরিস্থিতিতে টেলিযোগাযোগ বিভাগের উদ্যোগের পর অপারেটরগুলো একজন গ্রাহকের এনআইডির বিপরীতে কয়টি সিম রয়েছে সেগুলো জানানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রন সংস্থা বিটিআরসি সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে বাড়তি সিম বন্ধের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারবেন বলে এসএমএস দিয়েছে।

জাতীয় পরিচয়পত্র ও আঙ্গুলের ছাপ মিলিয়ে এবার মোবাইল ফোন সিমের পুন:নিবন্ধন করা হয়েছে। এরপরেও চক্রটি কিভাবে চাতুরিপূর্ণ নিবন্ধন করেছে- এমন তথ্য খুঁজতে পাওয়া গেল আরও চকমপ্রদ তথ্য।

এ কার্যক্রমের শুরু থেকেই অপারেটরগুলাে বলেছে, নির্বাচন কমিশনের ডেটাবেজের সঙ্গে অনেক গ্রাহকের আঙ্গুলের ছাপ মিলছে না। এ তথ্যকেই সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছে অসাধু রিটেইলাররা। তারা একজন গ্রাহককে বারবার আঙ্গুলের ছাপ দিতে বলেছেন। আর সেগুলো ডিলিট না করে প্রতিটি ছাপের বিপরীতে নতুন সংযোগ নিবন্ধন করা হয়েছে, যা পরে অন্যদের কাছে বিক্রি করেছেন চড়া দামে।

হাজার টাকা থেকে শুরু হয়েছিল এক একেকটি ভুয়া নিবন্ধিত সিমের বিক্রি। পরে তা নেমে আসে দুইশ ও তিনশ টাকাতেও। রাজধানীর মতিঝিল, ফার্মগেটসহ আরও কয়েকটি এলাকায় হকারদের মতো হাকডাক দিয়ে এ সিম বিক্রি করতে দেখা গেছে।



টেকশহর ডটকম বিভিন্ন জায়গা থেকে বেশ কয়েকটি নিবন্ধিত সিম কিনেছে। পরে সেগুলো ব্যবহারও করা হয়েছে।

বাংলালিংকের একটি সিমে পাওয়া গেছে ১০টি নম্বরের নিবন্ধন। তবে প্রকৃত গ্রাহক জানেনও না তার নামে আরও নয়টি সিম নিবন্ধন হয়ে গেছে এবং তা অন্যের হাতে চলে গেছে।

টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের ফেইসবুক পেইজে এক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, তিনি কোনো সিম নিবন্ধন না করলেও তার রবি নম্বরে এসএমএস এসেছে আটট সিম নিবন্ধনের।

একই সঙ্গে এয়ারেটেলের আরও তিনটি সিম তার নামে নিবন্ধন হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ওই গ্রাহক। এখন তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানিয়েছেন তারানা হালিমকে।

অবশ্য প্রতিউত্তরে প্রতিমন্ত্রী ওই গ্রাহককে কিছু বলেননি।

সম্প্রতি সবগুলো অপারেটর গ্রাহকদেরকে এসএমএস দিয়ে জানিয়ে দিচ্ছে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরের বিপরীতে কতোগুলো মোবাইল সিম নিবন্ধন হয়েছে।

এ প্রক্রিয়া শুরু হওয়াতে গ্রাহকরা দেখছেন, তাদের আঙ্গুলের ছাপের বিপরীতে তাদের অজান্তে কয়টা সিম নিবন্ধিত হয়েছে। এ পরিস্থিতি এখন গ্রাহকদেরকে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ করে তুলছে।

এর আগে সরকারের নির্দেশে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সিম পুন:নিবন্ধন শুরু হয়। যদিও অপারেটরগুলো নিবন্ধনের কার্যক্রম পুরােদমে ‍শুরু করেছিলেন জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে। একবার সময় বাড়িয়ে সেটা চলে ৩১ মে পর্যন্ত।

নির্ধারিত সময়ে সব মিলে ১১ কোটি ৬০ লাখ সিমের নিবন্ধন হয়েছে, যদিও ওই সময় পর্যন্ত অ্যাক্টিভ সিম ছিল ১৩ কোটি ২৬ লাখ।

আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে নিবন্ধিত নয় এমন সিম বন্ধ করতে অপারেটরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত সেগুলো বন্ধ হয়নি।

Googleplus Pint
Asifkhan Asif
Posts 1372
Post Views 107