MysmsBD.ComLogin Sign Up

ক্রিকেটার একজনই, গায়ে ভিন্ন দুটি দেশের জার্সি (দ্বিতীয় পর্ব)

In ক্রিকেট দুনিয়া - Jul 10 at 10:12am
ক্রিকেটার একজনই, গায়ে ভিন্ন দুটি দেশের জার্সি (দ্বিতীয় পর্ব)

নাটকীয়তা আর অনিশ্চয়তার খেলা ক্রিকেট। ২২ গজের পিচে ব্যাটে বলে বিস্ময়কর কত কিছুই না হয়ে থাকে! যেন বিস্ময়ের কোন কমতি নেই। তবে ২২ গজের বাইরেও ক্রিকেটকে ঘিরে বিস্ময়কর অনেক ঘটনাই আছে যেটা হয়তো আপনার অজানা।

একদেশের নাগরিক অন্যদেশের নাগরিকত্ব নিয়ে ক্রিকেটে অংশ নেওয়াটা নতুন কোন খবর নয়। অন্য দেশের নাগরিকত্বে সেই দেশের হয়ে খেলে সুখ্যাতি পাওয়া ক্রিকেটারের সংখ্যাটাও কম নয়। তেমনি একই ক্রিকেটারের দু’টি দেশের হয়ে খেলার নজিরটাও নতুন নয়।

ভিন্ন ভিন্ন দু’টি দেশের জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলা ক্রিকেটারদের নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন।

দু’দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেওয়া ক্রিকেটারদের নিয়ে আজ থাকছে দ্বিতীয় পর্ব....

রায়ান ক্যাম্পবেল
৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২ পার্থে জন্মগ্রহণকারী অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের পক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন তিনি। তবে বর্তমানে তিনি হংকং ক্রিকেট দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন। ‘ক্যাম্বো’ ডাকনামে পরিচিত রায়ান ক্যাম্পবেল মূলত উইকটরক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে।

২০০২ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আন্তর্জাতি ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। তবে অস্ট্রেলিয়ার জার্সি গায়ে কেবল মাত্র দু’টি ওয়ানডে খেলার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে ৫২ বলে ৩৮ রান তোলেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলেন ক্যাম্পবেল। ওই ম্যাচে ১৮ বলে ১৬ রান করেন।

অস্ট্রেলিয়ায় ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন ৪৩ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। ২০০৮ সালে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগে (আইসিএল) আহমেদাবাদ রকেটসের পক্ষে এক মৌসুম খেলেন। এরপর ২০১৬ সালে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হংকংয়ের জার্সি গায়ে মাঠে নামেন অস্ট্রেলিয়ায় জন্মগ্রহণকারী এই ক্রিকেটার।

রোয়েলফ ফন ডার মারউই
জন্ম ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৮৪ দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানী জোহানেসবার্গে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকটাও হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সি গায়ে। ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক ঘটে এই ক্রিকেটারের। অভিষেক ম্যাচেই করেন ৪৮ রান আর বল হাতে নেন এক উইকেট। ওই বছর সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নামের মারউই। ব্যাট করার সুযোগ না পেলেও বল হাতে কোন উইকেটের দেখা পাননি।

২০১০ সাল পর্যন্ত প্রোটিয়াদের হয়ে ১৩টি ওয়ানডে ও সমান সংখ্যক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন মারউই। তবে এর পাঁচ বছর পর নাম লেখান নেদারল্যান্ডসের হয়ে। ২০১৫ সালে নেপালের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামেন এই অলরাউন্ডার। এছাড়াও ডাচদের হয়ে সর্বশেষ খেলেছেন ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে।

গ্রাইন্ট জোন্স
জন্ম পাপুয়া নিউগিনিতে হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জোন্সের অভিষেক হয়েছিল ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে। ২০০৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অভিষেক ঘটে তার। ২০০৪-২০০৬ পর্যন্ত ইংলিশদের হয়ে হয়ে খেলেছেন এই ক্রিকেটার। এসময় ৩৪টি টেস্ট, ৪৯ ওয়ানডে ও দুইটি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন।

দীর্ঘ আট বছর বিরতির পর ২০১৪ সালে ফের ক্রিকেটে ফেরেন জোন্স। তবে ইংলিশদের হয়ে নয়, জন্মস্থান পাপুয়া নিউগিনির জার্সিতে। নভেম্বরে পাপুয়া নিউগিনির হয়ে দুইটি দুইটি ওয়ানডেতে অংশ নিয়েছেন ৪০ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। এরপর অবশ্য আর ক্রিকেটে দেখা যায় নি তাকে।

ডগলাস রবার্ট ব্রাউন
ডগি ব্লাউন হিসেবেই তিনি বেশি পরিচিত। ব্রাউন ১৯৬৯ সালের ২৯ অক্টোবর স্কটল্যান্ডে জন্ম নেন । ১৯৯৭ সালে ১১ ডিসেম্বর ইংল্যান্ডের হয়ে ভারতের বিপক্ষে তার অভিষেক হয়। তবে ১৯৯৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর শেষেই ইংল্যান্ড দল থেকে বাদ পড়েন তিনি। ইংলিশদের হয়ে মাত্র নয়টি ওয়ানডেতে অংশ নেন তিনি।

এরপর ২০০২-০৩ মৌসুমে নামিবিয়ার কোচের দায়িত্ব পালন শেষে ২০০৭ বিশ্বকাপে ফের ব্যাট হাতে মাঠে নামেন তিনি। তবে এবার স্বদেশ স্কটল্যান্ডের জার্সি গায়ে তোলেন। একই বছর অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের হয়ে খেলেন তিনি। এর আগে, ২০০৬ সালে স্কটল্যান্ডের হয়ে ইউরোপিয়ান ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেন ব্রাউন। ২০০৭ সালের শেষের দিকে ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। বর্তমানে ওয়ারউইকশায়ারের কোচের দায়িত্ব পালন করছেন ৪৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

অ্যান্ডারসন কামিন্স
১৯৯১ সালে স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ জন্মগ্রহণকারী এই ক্রিকেটারের। এরপর ১৯৯৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জার্সি গায়ে অভিষিক্ত হন কামিন্স। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত ক্যারিবিয়দের হয়ে ধারাবাহিকভাবে খেলেছেন এই ক্রিকেটার। এসময় পাঁচটি ওয়ানডে ও ৬৩টি টেস্ট খেলেছেন এই অলরাউন্ডার।

দীর্ঘ ১২ বছর বিরতির পর ২২ গজে ফেরেন কুমিন্স, তবে কানাডার জার্সি গায়ে। ২০০৭ সালের মার্চ পর্যন্ত কানাডার হয়ে ১৩টি ওয়ানডেতে মাঠে নেমেছেন ক্যারিবিয় এই অলরাউন্ডার। ওই বছরই ক্রিকেট থেকে অবসর নেন ৫০ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

Googleplus Pint
Anik Sutradhar
Posts 6714
Post Views 622