MysmsBD.ComLogin Sign Up

ড. জাকির নায়েককে বাংলাদেশের দুই জঙ্গীর ‘অনুসরন’ ও ভারতের ‘তদন্ত’ নিয়ে মুখ খুললেন জাকির নায়েক

In আন্তর্জাতিক - Jul 08 at 12:19pm
ড. জাকির নায়েককে বাংলাদেশের দুই জঙ্গীর ‘অনুসরন’ ও ভারতের ‘তদন্ত’ নিয়ে মুখ খুললেন জাকির নায়েক

ড. জাকির নায়েককে বাংলাদেশের দুই জঙ্গীর ‘অনুসরন’ ও ভারতের ‘তদন্ত’ নিয়ে মুখ খুললেন জাকির নায়েক

”গুলশান হামলায় অংশগ্রহনকারী নিহত দুই শীর্ষ জঙ্গী ভারতের ইসলামী নেতা ড. জাকির নায়েককে অনুসরন করতেন” এমন শিরোনামে বাংলাদেশের একটি শীর্ষ ইংরেজি দৈনিকে সংবাদ প্রকাশের পর নড়ে চড়ে বসেছে ভারত।

মুম্বাইয়ের বাসিন্দা ইসলাম ধর্ম প্রচারক জাকির নায়িকের টিভি বক্তৃতা সন্ত্রাসবাদী কিনা তা নিয়ে তদন্ত করার কথা জানিয়েছে ভারত।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে আকস্মিক এক হামলায় দেশি ও বিদেশি নাগরিকদের জিম্মি করে একদল দুর্বৃত্ত। পরদিন শনিবার করা অভিযানের পর ওই রেস্তোরাঁ থেকে ছয়জন জঙ্গির লাশ উদ্ধার করে বলে দাবি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয় ২০ জনের মরদেহ।

পুলিশের দেয়া তথ্যমতে রাজধানী ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলা চালিয়েছিল সাত জঙ্গি। অন্যদিকে, অভিযান শুরুর আগেই হামলাকারী পাঁচজনের ছবি প্রকাশ করে আইএসের কথিত মুখপাত্র আমাক। সেখানেই প্রকাশিত হয় হামলাকারী বাংলাদেশি জঙ্গী তরুনদের ছবি। পরে বাংলাদেশ পুলিশও হামলায় নিহত আক্রমনকারী জনের ছবি প্রকাশ করে ।

মুহুর্তেই আক্রমণকারীদের ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পরই হামলাকারী তরুনদের সম্পর্কে বেরিয়ে আসতে শুরু করে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। ঢাকা মহানগর আঃ লীগ নেতা ও ব্যবসায়ী ইমতিয়াজ খান বাবুল প্রথম জানতে পারেন যে, ছয় মাস আগে হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যাওয়া তার ছেলে রোহান ইবনে ইমতিয়াজই হলেন হামলাকারী নিহত জঙ্গীদের মধ্যে একজন। ধীরে ধীরে শনিবার রাতেই ফেসবুকের কল্যানে বেরিয়ে আসে বাকি সবার তথ্য ও পরিচয়।

সোমবার দেশের একটি শীর্ষ ইংরেজি দৈনিকে বেরিয়ে আসে হামলাকারী দুজনের সম্পর্কে চমকপ্রদ কিছু তথ্য। নিহত জঙ্গীদের মধ্যে দু’জন ভারতের বহুল আলোচিত /সমালোচিত ধর্মীয় নেতা ও পিচ টিভির মালিক জাকির নায়েক সহ আইএস এর সাথে জড়িত আর দুই বিতর্কিত নেতার অনুসারী ছিলেন বলে জানা গেছে ।

জাকির নায়েকের অনুসারী ছিলেন নিহত দুই জঙ্গী তরুন !

বাংলাদেশে এক আওয়ামী লীগ নেতার জঙ্গি ছেলে ফেসবুকে ভারতের খ্যাতনামা ইসলামী চিন্তাবিদ, বক্তা ও লেখক জাকির নায়েকের উদ্ধৃতি দেয়ায় তাকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছে ভারতের কয়েকটি সংগঠন ।

এ প্রসঙ্গে ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজ্জু বলেন, ‘আমরা ব্যক্তিকে নিষিদ্ধ করি না। আমরা নিষিদ্ধ করি সংগঠনকে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাইনি। তারা অনুরোধ করলে আমরা বিবেচনা করে দেখব কী করা যায়।’

পহেলা জুলাই শুক্রবার ঢাকার সন্ত্রাসী হামলায় অংশ নেয়া অন্তত দুজন তার ভক্ত- এ রকম খবরের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু আরও বলেন, মুম্বাই-ভিত্তিক ইসলাম ধর্ম প্রচারক জাকির নায়িকের জাকির নায়িকের টিভি বক্তৃতা সন্ত্রাসবাদী কিনা তদন্ত করবে ভারত ।

ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “জাকির নাইকের বক্তৃতা আমাদের কাছে একটা উদ্বেগের বিষয়। আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।”

জাকির নাইকের কী ধরণের বক্তব্য হেট-স্পিচের আওতায় পড়তে পারে বা প্রমাণ পাওয়া গেলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে – মন্ত্রী অবশ্য তা পরিষ্কার করেননি।

সংবাদ মাধ্যমকে তিনি জানান, “আমি পার্লামেন্টের বাইরে এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না”।

প্রসঙ্গত, দ্যা ডেইলি স্টারের একটি খবরে ইতিমধ্যেই অভিযোগ উঠেছে যে ঢাকায় গুলশানের হামলাকারীদের মধ্যে অন্তত একজন, রোহান ইমতিয়াজ (আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে ) ফেসবুকে জাকির নাইককে ‘ফলো’ করত এবং তার কিছু পোস্ট সে নিজের ওয়ালে শেয়ারও করেছিল।

এমনই একটি পোস্টে সে জাকির নাইককে উদ্ধৃত করে নিহত জঙ্গী ইমতিয়াজ লিখেছিল “প্রত্যেক মুসলিমেরই সন্ত্রাসবাদী হয়ে ওঠা উচিত”।

এই পটভূমিতে গুলশানের হামলাকারীরা তার বক্তৃতায় অনুপ্রাণিত হয়েছিল কি না সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এদিন নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত ৪ জুলাই বাংলাদেশের ইংরেজি দৈনিক ও পরবর্তিতে ৫ জুলাই ভারতের বিভিন্ন পত্রিকায় হামলাকারী দুই নিহত জঙ্গীর ড. জাকির নায়েককে অনুসরনের খবর বেরুলে এ প্রসঙ্গে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান ড. জাকির নায়েক ।

বর্তমানে উমরাহ করতে সৌদি আরবে রয়েছেন জাকির নায়েক। তার বিরুদ্ধে সর্বশেষ এ অভিযোগ ওঠার পর মক্কা নগরী থেকে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকাকে দেয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি ইসলামিক স্টেটকে অনৈসলামিক বা ‘ইসলামবিরোধী’ বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘ইসলামের নাম ব্যবহার করে আমরা ইসলামের নিন্দা করছি… ইরাক সিরিয়ার ইসলামিক স্টেট ইসলামবিরোধী, যারা নিরপরাধ বিদেশিকে হত্যা করছে। ইসলামের দুশমনরা এ নাম (আইএস) দিয়েছে।’

সেই সঙ্গেই তিনি বলেছেন, “ফেসবুকে তার অনুসারি ১ কোটি ৪০ লাখ।উর্দু, বাংলা, চীনাসহ বিভিন্ন ভাষায় প্রায় ২০ কোটি লোক পিস টিভি দেখে থাকেন।বাংলাদেশে নব্বই শতাংশ লোকই আমাকে চেনে, সে দেশের অর্ধেক লোকই আমার ফ্যান। ফলে ওই হামলাকারীরাও যদি আমায় চিনত, তাতে আমি অবাক হব না! আর আমাকে চেনা কেও জঙ্গী হলে সে দাআয় অবশ্যই আমার নয় “

প্রসঙ্গত, মুম্বাইয়ের বাসিন্দা জাকির নাইকের পিস টিভি বিশ্বের বহু দেশে সম্প্রচারিত হয়। বাংলাদেশের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় বাংলাতেও অনুষ্ঠান করা হয়। বাংলাদেশে তার ভাষণের অগনিত দর্শক আছে।

তবে বছর কয়েক আগে আল কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে সন্ত্রাসবাদী বলতে অস্বীকার করে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন জাকির নায়েক। এরপর থেকে ‘বিতর্কিত বক্তব্য’ প্রচারের অভিযোগে যুক্তরাজ্য, কানাডা বা মালয়েশিয়ার মতো বহু দেশেই তার প্রবেশ নিষিদ্ধ করে সেসব দেশের প্রশাসন ।

আরবি ভাষাভাষীদের বাইরে ইসলাম প্রচারকারীদের মধ্যে অন্যতম আলোচিত হলেন জাকির নায়েক। নিজের প্রতিষ্ঠিত পিস টিভিতে তিনি তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নিয়ে যে আলোচনা করেন, তা বাংলাদেশের মানুষের কাছেও ব্যাপক পরিচিত।

ভারতের মহারাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া জাকির আবদুল করিম নায়েক চিকিৎসা শাস্ত্রে ডিগ্রিধারী। ৪৭ বছর বয়সী এই বক্তা ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট। পিস টিভি ওই ফাউন্ডেশনেরই প্রতিষ্ঠান, যেটি বাংলাদেশে বাংলাভাষায়ও সম্প্রচার করে থাকে।

তবে যুক্তরাজ্য ও কানাডার মত খ্রিষ্টান প্রধান দেশের পাশাপাশি মুসলিম প্রধান মালয়েশিয়াতেও জাকির নায়েকের বক্তব্য প্রচারের অনুমতি নেই।

তবে ভারত ও বাংলাদেশে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়। মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবে তিনি সাদরে গৃহীত। ইসলামের সেবার জন্য সৌদি বাদশা সালমান গত বছর তাকে নিজ হাতে বাদশা ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত করেছেন।

আধুনিক ইসলামের অন্যতম প্রচারক মনে করা হয় তাকে।

Googleplus Pint
Asifkhan Asif
Posts 1372
Post Views 248