MysmsBD.ComLogin Sign Up

এবার ফ্রান্সের আসল পরীক্ষা

In ফুটবল দুনিয়া - Jul 07 at 11:55pm
এবার ফ্রান্সের আসল পরীক্ষা

একপক্ষ চোট ও কার্ড সমস্যায় জর্জরিত, অপরপক্ষ পুরোপুরি দুশ্চিন্তা মুক্ত। একটা দল পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র এক গোল হজম করেছে, অন্য দলের রক্ষণ নড়বড়ে। সবচেয়ে বড় কথা, একপক্ষ যেখানে স্ট্রাইকার সমস্যায় ভুগছে, বিপক্ষ সেই বিভাগে দিনে দিনে ক্রমশ উন্নতি করছে।

সেমিফাইনালের সেরা দুই দলকে আরও অনেক রকমভাবে দেখা যায়। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। যেখানে জার্মানি শুরুতে গোল তুলে নিয়ে নিজেদের জায়গা সুরক্ষিত করে নিয়েছিল। জোয়াকিম লো বাহিনী ব্রাজিলে যেভাবে চোট সমস্যাকে ছাপিয়ে যেতে পেরেছিল, এখানেও সেরকম কিছু করতে চাইবে। কারণ এবারও ওদের মূল সমস্যা এক।

জার্মানরা টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল ৪–৫–১ ছকে। সেখান থেকে বেরিয়ে এখন ওরা ৩–৪–২–১ ছকে নামছে। যাতে মাঝমাঠে আরও বেশি লোক পাওয়া যায়। এখন আবার ডিফেন্ডার হামেলস শাস্তির কবলে, মাঝমাঠের খেদিরা ও স্ট্রাইকার গোমেজের চোট। গত ম্যাচেই খেদিরার পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামা সোয়াইনস্টেগারকে নিয়েও ঘোর অনিশ্চয়তা।

এই সমস্যাও জার্মান শিবিরকে খুব বেশি দুর্বল করে দেবে, এমনটা আমি অন্তত বিশ্বাস করি না। কারণ লো–র পরিকল্পনায় মানানসই হতে পারে রক্ষণ ও মাঝমাঠে এমন বিকল্প রয়েছে। ওদের ভূমিকা অনেকটা পুরনো যন্ত্রাংশের মতো। দল ওদের থেকে কী প্রত্যাশা করছে, প্রত্যেকে সেটা বিলক্ষণ জানে। সোয়াইনস্টেগারকে না পাওয়া গেলে ক্যান ও উইগির সঙ্গে হাওয়েডসকে পিছন থেকে খেলানো হতে পারে।

জার্মানির মূল সমস্যা বিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে। মিরাস্লাভ ক্লোজের পর একজন সত্যিকারের সেন্টার ফরোয়ার্ডের অভাব বারবার চোখে পড়ছে। এই জায়গায় গোৎজে কিছুটা কার্যকর হচ্ছিল। বিশ্বকাপ ফাইনালে আমাদের বিরুদ্ধে গোল করা ছেলেটা একেবারেই ভাল কিছু করতে পারছে না। মুলারের গোলখরা চলছে। মাঝমাঠ থেকে বলের জোগানের অভাব ওদের আরও সমস্যায় ফেলছে। তবে যে দলটা এখনও পর্যন্ত নিজেদের সেরাটা দিতে না পারা সত্ত্বেও সেমিফাইনালে উঠেছে তাদের গুরুত্ব দিতেই হবে।বোয়েতাংয়ের নেতৃত্বে জার্মানির ডিফেন্স টুর্নামেন্টের সেরা। যদিও ওর একমাত্র ভুলের জন্যই দলকে পেনাল্টি পর্যন্ত লড়াই করতে হয়েছিল। যেখান থেকে একটা স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়, এই গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটায় জার্মানরা কতটা সংগঠিত। বড় টুর্নামেন্টে কীভাবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিততে হয়, সেই অভিজ্ঞতা জার্মানদের রয়েছে। সেদিক থেকে দেখলে ফ্রান্স অনেকটা অনভিজ্ঞ।

নজরকাড়া ৪–৩–৩ ছকে দেশঁ–এর ফ্রান্স সেমিফাইনালের একমাত্র দল, যাদের কোনওরকম কার্ড বা চোট সমস্যা নেই। র‌্যামি ফিরে আসায় দলের রক্ষণের শক্তিও বাড়ল। মাঝমাঠকে আরও শক্তিশালী এবং সক্রিয় করে তুলেছে মাতাউদি ও পোগবা। কিছুটা পিছন থেকে ওদের সহযোগিতা করছে পায়েট। এই ক্ষমতাতেই এখানে জার্মানিকে টক্কর দিয়ে যাচ্ছে আয়োজকরা।

টুর্নামেন্টে ফ্রান্সের করা ১১ গোলের মধ্যে ১০টায় এই তিনজনের অবদান রয়েছে। এখানে গ্রিজম্যান ফল্‌স নাইনের ভূমিকায় কাজ করে যাচ্ছে। যেখানে জিরোড প্রধান ন’‌নম্বরের খেলোয়াড়। পায়েটের ড্রিবলিং এবং শট দলকে বাড়তি সুবিধে দিচ্ছে। সবমিলিয়ে আপ ফ্রন্টের একটা দুর্দান্ত কম্বিনেশন।

লেস ব্লুলজদের প্রধান সমস্য হল, ওরা এই প্রথম এমন কোনও দলের বিরুদ্ধে নামতে চলেছে, যারা প্রকৃত অর্থে ওদের পরীক্ষা নিতে পারে। সত্যি বলতে, ফ্রান্সের ডিফেন্স দেখে আমার মন ভরেনি। যেখানে ভুল–ত্রুটির সম্ভাবনা রয়েছে। ছোট দলের বিরুদ্ধেও ফ্রান্স ৪ গোল হজম করে নিয়েছে। সেখানে দুর্বল জায়গায় আঘাত হানতে পারে এমন একঝঁাক অভিজ্ঞদের বিরুদ্ধে পা পিছলে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। একটু ফঁাক খুঁজে পেলেই লো–র দল সেটাকে নিঃসন্দেহে কাজে লাগিয়ে যাবে।

টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এসে ফোকাস ধরে রাখার পাশাপাশি নিজের খেলায় উন্নতি এবং ৯০ মিনিট বা তার বেশি সময় দায়বদ্ধতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনও পরিস্থিতিতে কৌশল বদলে সেটার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার জন্য আমার কাছে জার্মানরাই এগিয়ে।‌‌

Googleplus Pint
Jafar IqBal
Posts 1522
Post Views 243