MysmsBD.ComLogin Sign Up

বৃহস্পতির কক্ষপথে জুনো

In বিজ্ঞান জগৎ - Jul 04 at 1:37pm
বৃহস্পতির কক্ষপথে জুনো

সৌরজগতের ৮টি গ্রহের মধ্যে বৃহস্পতি গ্রহটি পরিচিত কিং অব প্লানেট বা গ্রহের রাজা হিসেবে। মূলত আকার আয়তনের দিক দিয়ে সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ হওয়ায় বৃহস্পতিকে গ্রহের রাজা বলা হয়।

বৃহস্পতি ব্যতিত সৌরজগতের বাকি সবগুলো গ্রহের (বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন) ভরকে একত্র করলেও বৃহস্পতির ভর তা থেকে আড়াই গুণ বেশি হবে। সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে পঞ্চম গ্রহ হচ্ছে বৃহস্পতি।

মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে আরো একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে যুক্ত হবে, আজ ৪ জুলাই সোমবার দিনটি। কারণ প্রায় পাঁচ বছরের মহাকাশ‌যাত্রা শেষে আজ ৪ জুলাই বৃহস্পতির কক্ষপথে পৌঁছাবে সৌরশক্তিচালিত নাসার মহাকাশযান জুনো।

আজ পৃথিবী থেকে প্রায় ৬০,০০,০০,০০০ (ষাট কোটি) কিলোমিটার দূরে জুনো মহাকাশযানটিকে বৃহস্পতির কক্ষে স্থাপন করবেন নাসার বিজ্ঞানীরা। আগামী এক বছর ধরে গ্রহটির রহস্যভেদের চেষ্টা করবে এই মহাকাশ যানটি।

বৃহস্পতির অবস্থান পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্বের পাঁচ গুণ দূরে। সূর্যের চারিদিকে একবার প্রদক্ষিণ করতে গ্রহটি সময় নেয় ১২ বছর। হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাসে পূর্ণ এই গ্রহ ঢাকা থাকে লাল, হলুদ এবং সাদা রঙের মেঘে। সবসময় ঝড় হচ্ছে বলে (যার গতিবেগ কখনো কখনো ঘণ্টায় ৪০০ মাইল) গ্রহটির রঙ লাল দেখায়। এর ওপরের দিকের মেঘের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ১৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে!

বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতির অনেক রহস্যই এখনো অজানা বিজ্ঞানীদের। বিজ্ঞানীরা এখনো এটাই জানে না যে ‌গ্যাসীয় দানব বৃহস্পতির অভ্যন্তরে আদৌ কোনো কঠিন বস্তু আছে কী না। বৃহস্পতির বিশাল চৌম্বকক্ষেত্র ও মহাকর্ষ বলও আরেক রহস্য বিজ্ঞানীদের কাছে।

বৃহস্পতি গ্রহে এর আগে ৮টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তার মধ্যে ৭টি ‘ফ্লাই বাই’ এবং ১টি ‘অরবিটার’ পদ্ধতিতে (গ্যালিলিও মহাকাশযান)। এবং এই সবক’টিই পরমাণু শক্তিচালিত। ১৯৯৫-২০০৩ সাল পর্যন্ত বৃহস্পতিকে প্রদক্ষিণ করতে করতে অনেক তথ্য সংগ্রহ করেছিল নাসার মহাকাশ যান ‘গ্যালিলিও’।

উল্লেখ্য যে, মহাকাশ অভিযানের প্রকারভেদ রয়েছে। যে অভিযানে মহাকাশযান গ্রহের পাশ দিয়ে চলে গিয়ে শুধু গ্রহটির ছবি তুলে তথ্য সংগ্রহ করে, তাকে বলে ‘ফ্লাই বাই’। ‘অরবিটার’ পদ্ধতিতে গ্রহটিকে প্রদক্ষিণ করতে থাকে মহাকাশযান। যখন কোনো গ্রহে মহাকাশযান নামে, কিন্তু এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে তথ্য সংগ্রহ করে, তখন তাকে বলে ‘ল্যান্ডার’। আর গ্রহের পৃষ্ঠে হেঁটে বেরিয়ে তথ্য সংগ্রহ করলে তাকে বলা হয় ‘রোভার’।

পৃথিবী থেকে বৃহস্পতির দূরত্ব অনেকটাই বেশি বলে জ্বালানি এবং খরচের পরিমাণ বাড়ে অনেকটা। এছাড়া বৃহস্পতির তেজস্ক্রিয়তা বেশি বলে মহাকাশযান কাজ না করার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। বৃহস্পতির দুটি চাঁদে (ইউরোপা এবং গ্যানিমেড) সমুদ্রের উপস্থিতির কারণেই বারবার গ্রহটিতে অভিযান চালাতে চেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

২০১১ সালের ৫ আগস্ট বৃহস্পতির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মহাকাশযান ‘জুনো’।

অবশেষে আজ কক্ষপথে পৌঁছানোর সেই ঐতিহাসিক দিন। গ্রহটি কীভাবে তৈরি হয়েছে, এতে আদৌ পানি আছে কি না, কোনো কঠিন বস্তু আছে কিনা, ঘণ্টায় ৪০০ মাইল বেগে ঝড়ের কারণ অনুসন্ধানে গ্রহটির কক্ষপথে পৌঁছানোর পর জুনো কাজ হবে বৃহস্পতির মেরু অঞ্চল এবং মেরুজ্যোতির ছবি তুলে গ্রহটির রহস্যভেদ করা।

Googleplus Pint
Anik Sutradhar
Posts 6742
Post Views 253