MysmsBD.ComLogin Sign Up

Search Unlimited Music, Videos And Download Free @ Tube Downloader

মহাকাশ প্রযুক্তি দ্বারা স্তন ক্যান্সারের রহস্য উন্মোচন!

In বিজ্ঞান জগৎ - Jun 26 at 2:31pm
মহাকাশ প্রযুক্তি দ্বারা স্তন ক্যান্সারের রহস্য উন্মোচন!

কেন হয় স্তন ক্যান্সার? কে বা কারা দায়ী ওই মারণ-ব্যাধির জন্য? কিভাবে ওই ভয়াবহ রোগ বাসা বাঁধে আমাদের দেহে? অবাক লাগলেও সত্যি, তার খোঁজ পাওয়া গেল এমন এক প্রযুক্তির মাধ্যমে যার উদ্ভাবন হয়েছিল মহাকাশ গবেষণায়!

মহাকাশযানে থাকা ব্যাকটেরিয়াদের হাত থেকে গোটা মহাকাশকে বাঁচানোর তাগিদেই ওই সর্বাধুনিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন হয়েছিল। আর সেই প্রযুক্তি দিয়েই প্রথমবারের মত কিছুটা নাগাল পাওয়া গেল স্তন ক্যানসারের পেছনের কারণ।

নাসার বায়োটেকনোলজিস্ট ভারতীয় বংশোদ্ভুত পরাগ বৈশম্পায়ন জানিয়েছেন, ‘‘এর আগে যা কখনও হয়নি, আমরা সেটাই করেছি। মহাকাশ প্রযুক্তি দিয়ে আমরা খুঁজে দেখার চেষ্টা করেছিলাম ‘স্তন ডাক্টাল ফ্লুইড’ (স্তনগ্রন্থির নালীর মধ্যে থাকা তরল বা রস)-এ কোন কোন জীবাণু (মাইক্রো-অরগ্যানিজ্মস্) বা ব্যাকটেরিয়া থাকে। সেখান থেকেই এই নতুন পথের হদিশ মিলেছে।

আমরা দেখেছি, যে সব মহিলার স্তন ক্যান্সার হয়েছে, তাদের স্তনগ্রন্থির নালীর রসে যে যে ব্যাকটেরিয়া থাকে, কোনও সুস্থ মহিলার স্তনগ্রন্থির নালীর রসে সেই ব্যাকটেরিয়াগুলো থাকে না।

শুধু তাই নয়, আমরা এটাও দেখেছি, স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত মহিলাদের স্তনগ্রন্থির নালীর রসে ওই ‘হানাদার’ ব্যাকটেরিয়ারা রাক্ষসের মতো বংশবৃদ্ধি করে। আর সেটা করে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে। এর থেকে অন্তত এটুকু বোঝা গেছে, স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়ার খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তারাই মূলত স্তন ক্যানসারের ‘ষড়যন্ত্রকারী’! ব্রেস্টের (স্তন) কোষ (সেল) আর কলায় (টিস্যু) যে নানা রকমের ব্যাকটেরিয়া থাকে, তার প্রমাণ আগেই মিলেছিল। আর সেই ব্যাকটেরিয়ারা যে স্তনগ্রন্থির নালীর রসেও থাকে প্রচুর পরিমাণে, তাতেও কোনও অস্বাভাবিকতা নেই।

কিন্তু সেই স্তনগ্রন্থির নালীর রসে থাকা কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়া যে স্তন ক্যানসারের অন্যতম কারণ, এই প্রথম সেটা জানা গেল।

অন্তত ৯৬ শতাংশ ক্ষেত্রে যে তারাই স্তন ক্যানসারের কারণ, এটা নিয়ে আর কোনও সংশয়ের অবকাশ রইল না।’’ পরাগের এই সাম্প্রতিক গবেষণার খবরটি ছাপা হয়েছে অনলাইন বিজ্ঞান-জার্নাল ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস্’-এ।

স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে যে বিশেষ কয়েকটি ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা রয়েছে, কী ভাবে সে ব্যাপারে নিশ্চিত হলেন গবেষকরা?

ভারতের হায়দরাবাদের সন্তান পরাগ জানাচ্ছেন, ‘‘আমরা পরীক্ষা চালিয়েছিলাম ২৩ জন সুস্থ, সবল মহিলা আর স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত ২৫ জন মহিলার ওপর। সেখান থেকে আমরা যে সব তথ্য পেয়েছিলাম, সেগুলো আমরা মহাকাশ প্রযুক্তির ‘নেক্সট-জেনারেশান জেনোমিক সিকোয়েন্সিং’ পদ্ধতিতে খতিয়ে দেখেছি। বিশ্লেষণ করেছি।’’

কিন্তু স্তন ক্যানসারের জন্য দায়ীদের সন্ধানে মহাকাশ প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর ভাবনাটা তাদের মাথায় এল কী ভাবে?

পরাগ জানাচ্ছেন, ‘‘মহাকাশে যখন কোনও মহাকাশযান পাঠানো হয়, তখন যথাসম্ভব চেষ্টা করা হয় যাতে কোনও ব্যাকটেরিয়া বা অণুজীব তাতে না থাকে। কিন্তু কোনও মহাকাশযানের ক্ষেত্রেই এই ব্যাপারটিকে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

কারণ, সেটা পৃথিবী থেকে যাচ্ছে আর তার পর পৃথিবীর ঘন বায়ুমণ্ডলকে ভেদ করে মহাকাশে পৌঁছচ্ছে। এই যাত্রাপথের পুরোটাই ব্যাকটেরিয়া আর অণুজীবে ভরা। তাই কিছু ব্যাকটেরিয়া তো থেকেই যায় মহাকাশযানে। আর মহাকাশযানের দৌলতে তা মহাকাশেও ছড়িয়ে পড়ে।

সেখানে ভর-শূন্য (মাইক্রোগ্র্যাভিটি) অবস্থায় সেগুলো ভাসতে থাকে। যা মহাকাশচারীদের পক্ষে বিপজ্জনক হতে পারে। এই সমস্যা মেটানোর জন্যই ওই বিশেষ মহাকাশ প্রযুক্তির উদ্ভাবন হয়েছিল।

যা মহাকাশে থাকা নানা রকমের ব্যাকটেরিয়ার হদিশ দিতে পারবে। ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান বা তাদের রকমফেরের হালহদিশের জন্য এর চেয়ে ভাল কোনও প্রযুক্তি এখনও পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের হাতে নেই।

তাই স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রেও ব্যাকটেরিয়াদের ভূমিকা রয়েছে কি না, থাকলে কোন কোন ব্যাকটেরিয়া সেখানে ‘মূল ষড়যন্ত্রকারী’র ভূমিকা নেয়, তা জানার জন্যই ওই মহাকাশ প্রযুক্তিতে ব্যবহার করার কথা ভাবা হয়েছিল।

এর ফলে, আধুনিক চিকিৎসায় মহাকাশ প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর পালে বাতাস বইতে শুরু করল।’’

Googleplus Pint
Noyon Khan
Posts 3358
Post Views 367