MysmsBD.ComLogin Sign Up

ফাঁসির রশি থেকে বাসরঘরে আসামি!

In সাধারন অন্যরকম খবর - Jun 25 at 3:44am
ফাঁসির রশি থেকে বাসরঘরে আসামি!

নিজেও জানতেন যে, ফাঁসির মঞ্চ থেকে ফিরে আসবেন। এমন জীবন ফিরে পাবেন ভাবেননি কখনো! মৃত্যুর জন্যই চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছিল।

কিন্তু সবকিছু পাল্টে দিল একটি মেয়ে। সেই মেয়ের একান্ত চেষ্টায় বদলে গেল সবকিছু। শেষ পর্যন্ত সেই মেয়েটিকে কারাগারেই বিয়ে করলেন তিনি!

হয়তো ভাবছেন সিনেমা-নাটকের কথা। কিন্তু না, বাস্তব ঘটনা। ঘটনাটি ঘটেছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানে।
রাজধানী তেহরানের পাশেই কারাজ শহর।

খুবই পরিপাটি আর সাজানো গোছানো ছোট্ট শহর। রাজধানী থেকে ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই পৌঁছানো যায় কারাজ শহরে।

এক পাশে পাড়া আর এক পাশে সবুজে ঘেরা শহরটি। নানা রকম শিল্পের উৎকর্ষ ঘটেছে শহরটির আশপাশে।

এ শহরের কারাগারেই গত ২১ জুন বিয়ে হয়েছে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামির। মেয়েটি তাকে নতুন জীবনের সন্ধান দিয়েছেন।

২০০৯ সালের কথা। পারিবারিক কলহের জের ধরে হত্যা মামলার এ আসামির হাতে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে খুন হয় তারই এক আত্মীয়।

বিষয়টি আইন-আদালতে গড়ায়। সেখান থেকে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষিত হয়। ২৯ বছর বয়সী এ আসামি সেই থেকে রয়েছেন কারাজের ‘রাজায়ি শাহ্র’ কারাগারে।

গত বছরের কোনো এক শুভক্ষণে তার সঙ্গে দেখা হয় আরেক কারাবন্দী আসামির এক আত্মীয়ার সঙ্গে।

কারাবন্দী পাশের আসামিকে দেখতে এসেছিলেন মেয়েটি।
সেখান থেকে হয়তো ভালো লেগেছিল ছেলেটিকে। তারপর শুরু হয় মেয়েটির প্রচেষ্টা। তখন থেকে মেয়েটি চেষ্টা করতে থাকেন ছেলেটিকে মৃত্যুদণ্ডের হাত থেকে বাঁচানোর।

কিন্তু চাইলে তো হবে না, তদন্ত আর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতের রায় হয়েছে। রায়ে আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।

তাহলে বাঁচানোর উপায়? কোন বিকল্প পথে বাঁচানো যায় কি-না ছেলেটিকে?

চূড়ান্ত রায়ের পরও মেয়েটি থমকে যায়নি।
ভাবতে থাকেন কীভাবে বাঁচানো যায়। শেষ পর্যন্ত মেয়েটি আদালতের রায় পরিবর্তনের চেষ্টা করেন।

তবে সে পথ যে বড়ই কঠিন। কথায় আছে- ‌‘হাকিম নড়ে তো হুকুম নড়ে না। ’ তবুও হাল ছাড়েননি মিয়েটি।

ইরানের আইন অনুসারে, কোনো ব্যক্তি হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে মৃত্যুদণ্ড অবধারিত। এ ক্ষেত্রে মুক্তির একমাত্র পথ হচ্ছে যদি হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তির স্বজনরা মাফ করে দেন তবেই রক্ষা।

এ ক্ষেত্রে দু’ভাবে ক্ষমা করা হয়ে থাকে।

একেবারেই বিনা পয়সায় মানবিক দিক বিবেচনা করে আর না হয় নিহত ব্যক্তির পরিবার রক্তমূল্য গ্রহণের মাধ্যমে।

কারাজের এ ঘটনায় মেয়েটিকে রক্তমূল্য পরিশোধ করতে হয়েছে। এজন্য মেয়েটিকে নিহত ব্যক্তির পরিবারকে রক্তমূল্য গ্রহণ করার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। অনেক দেনদরবার করে রাজি করাতে হয়েছে তাদের।

শেষ পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির বাবা ইরানি মুদ্রায় ২০০ কোটি রিয়াল বা ৫৭,০০০ ডলারের বিনিময়ে আসামিকে মাফ করতে রাজি হন।

মেয়েটির শেষ চেষ্টায় মঙ্গলবার কারাজের রেজায়ি শাহ্র কারাগারে নতুন এ দম্পতি খুঁজে পেলেন নতুন জীবন। খুঁজে পেলেন জীবনের নতুন ঠিকানা। ফাঁসির রশিতে ঝুলার পরিবর্তে পেলেন বাসরঘর।

Googleplus Pint
Noyon Khan
Posts 3522
Post Views 840